সোনাগাজীতে সড়ক নির্মাণের ফলে ৬৫টি আওয়ামী পরিবারের কষ্টের অবসান।

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৭:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮
সোনাগাজীতে সড়ক নির্মাণের ফলে ৬৫টি আওয়ামী পরিবারের কষ্টের অবসান।

ফেনী জেলা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফেনী ২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারির সমর্থকদের হস্তক্ষেপে সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বাদামতলী এলাকার হামিদ আলী মাঝি বাড়ির ৬৫ পরিবারের দীর্ঘ ৩০ বছরের কষ্টের অবসান হল।এই মহৎ অবদানের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজাম উদ্দিন হাজারি সড়ক নামকরন করার দাবি জানান এলাকাবাসী। সুত্র জানায়
কয়েকদিন আগে বাদামতলীতে একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক প্রবাভশালী ৭৫ বছর বয়সের এক বৃদ্ধার গায়ে হাত তুলার খবর পেয়ে তার বাডিতে ছুটে যান আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব নবী ফরহাদ ও সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন খন্দকারের সেখানে গিয়ে জানতে পারেন ৩০ বছর ধরে এতগুলো পরিবারের কষ্টের ইতিহাস।তাৎক্ষনিক তারা নিজেদের দায়িত্বে ভুক্তভোগী এলাকা ও পরিবারের জন্য নির্মাণ করার ঘোষনা দেন।তারা বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে জমির মালিকদের সাথে উক্ত বাড়ির লোকজনের সাথে সমঝোতা করে বাড়ির থেকে বের হওয়ার জন্য নির্মান করেন বহু কাঙ্খিত এই চলাচলের সড়ক। বছরের চরম কষ্টের সমাপ্তি ঘটলো। এতদিন যাদের চলাচলের জন্য কোন রাস্তা ছিলনা। অতি কষ্টে যাদের বাড়ি থেকে বের হতে হত এখন তারা গাডি করে বাডিতে যেতে পারবেন।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাযায়- বংশগতভাবে উক্ত বাড়ির লোকজন আওয়ামীলীগের কট্টর প্রন্থী সমর্থক।মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের বাদামতলী বাজারের পূর্বপার্শ্বে বাড়িটি অবস্থিত যেখানে প্রায় ৬৫টি পরিবার বসবাস করে।উক্ত বাড়ি থেকে মূল রাস্তায় উঠার জন্য কোন নির্দিষ্ট সড়ক ছিলনা। শুষ্ক মৌসুমে অন্যের জমি দিয়ে আসা যাওয়া করলেও, বর্ষাকালে এই কষ্ট দাঁড়াত অতিমাত্রায়। বাড়ির লোকজন সামান্যতম বৃষ্টির পানিতে বাড়ি থেকে ভিজে বের হতে হত। বর্ষাকাল মানে ছিল জন্য এক অন্যরকম কারাগার। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির লোকজন বের হত না সড়কের অভাবে। বহুবার জমির মালিকদের সাথে সামাজিকভাবে বৈঠক করে ৩০ বছরেও অজানা ক্ষমতার কারনে এর কোন প্রকার সুফল পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়- আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য একটা সড়ক নির্মাণ করতে পারিনি। বহুবার সামাজিকভাবে বৈঠক হলেও কোন এক অজানা কারণে সড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখার ও যুবলীগ নেতা ফরহাদের হস্তক্ষেপে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটলো। আমিরাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আইয়ুব নবী ফরহাদ জানান- – সামান্য জায়গা, কয়টা প্রবাভশালীর গাছ ও কয়েকজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির আত্মীয়ের প্রভাবের কারনে এতদিন ধরে সড়কটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বরং সেই বাড়ির লোকদের জমি দখল করে এক প্রবাভশালীর রাস্তা নির্মাণের সময় একটা ঝামেলায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। সাথে সাথে আমরা প্রবাভশালীর রাস্তার আগে এই রাস্তাটি করার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করি। রাস্তা করার জন্য যাদের জমি প্রয়োজন হয় জমির মালিকদের সাথে সমাঝোতা করে সম্পূর্ন নিজ উদ্যোগে কয়েকদিন আগে নির্মানকাজ শুরু করি। কাজের শুরুতে অনেক বাধা আসে কিন্তু পুরো এলাকাবসীর একতার কাছে ওরা হার মানে। আলহামদুলিল্লাহ আজকে প্রায় আধা কিলোমিটার দৈর্ঘের রাস্তাটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়। রাস্তাটি নির্মাণের ফলে দাসগ্রাম ও তিন বাডির মানুষ উপকৃত হবে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন খন্দকার জানান-
দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়ির লোকজন একটা সড়কের জন্য সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে আসছিল।আমরা সম্পূর্ন নিজ উদ্দেগে রাস্তাটি নির্মান করি,শুরুতে কাজটা কঠিন মনে হলেও এই পাড়ার কাছে এতটা বিশাল চিন্তা করনি এখন মনে হচ্ছে একটা ভালো কাজ করতে পেরেছি। এই সড়কটির নামকরন আমাদের অভিবাবক নিজাম হাজারির নামে করার প্রস্তাবটি আমরা নেতাকে জানিয়ে সেটাও বাস্তবায়ন করবো। আগামীতেও জনগনের ভালো হবে এমন কাজে সহযোগিতা করবো।