জেল হত্যা দিবস আজ; বিচার চায় চার নেতার পরিবার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭ | আপডেট: ১:১৬:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৭
জেল হত্যা দিবস আজ; বিচার চায় চার নেতার পরিবার

আজ ৩ নভেম্বর। জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের চার জেষ্ঠ্য নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হয় ঢাকার কারাগারে। ওই সময় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে এই চার নেতাই ছিলেন দলের কেন্দ্রবিন্দুতে।

এদিকে, আজো সবার মধ্যে একটি প্রশ্নই কাজ করে। ঠিক কি কারণে হত্যা করা হয়েছিল এই চার নেতাকে?

বাংলার এই কৃতি সন্তানদের পরিবারের এখন একটাই দাবি। জাতীয় চার নেতার খুনিদের যাতে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এতে করে জাতি পুরোপুরিভাবে কলঙ্কমুক্ত হবে। আর প্রতিষ্ঠা হবে ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুন হবার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিশেহারা হয়ে যায়। কেননা, এই চার জেষ্ঠ্য নেতাসহ অনেকেই ছিলেন কারাগারে। অনেকে আত্মগোপনে। আর বাদ বাকি কিছু নেতা প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে হাত মিলান। অনেকে আবার নিজেদের গুটিয়ে নেন রাজনীতি থেকে।

চার নেতার একজন নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম পরিবর্তনকে বলেন, জেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ৩ নভেম্বর মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনা সম্পর্কিত। কারণ মুজিব হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সে অভ্যুত্থান আওয়ামী লীগের পক্ষে হচ্ছে।

নাসিম বলেন, ক্ষমতাসীন মোশতাক বা তার সমর্থকরা চাননি যে তাদের বিরোধী আরেকটি শক্তি শাসন ক্ষমতায় পুনর্বহাল হোক। ওই ধরনের একটা সরকার যদি হতো তাহলে জেলে থাকা সে চারজন ছিলেন সম্ভাব্য নেতা। এ সম্ভাবনা থেকে জেল হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

এদিকে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন পরিবর্তনকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল কোনো পাল্টা অভ্যুত্থান হলে সেটি আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবে। সে ধরনের কিছু হলে তখনকার আওয়ামী লীগে যাতে কোন ধরনের লিডারশিপ না থাকে সেটাই তারা বোধ হয় নিশ্চিত করেছিল। তারা ভেবেছিল চার নেতাকে হত্যা করা হলে পাল্টা অভ্যুত্থান হলেও সেটি রাজনৈতিক সমর্থন পাবেনা।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজ চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে ৪২ বছর হল। এখন বাংলার মানুষ তাদের খুনিদের বিচার দেখতে চায়। এদের বিচার হলে, স্বাধীনতাবিরোধী-মানবতাবিরোধী শক্তিরা আর কখনোই মাথাচাড়া দিয়ে অন্তত বাংলার মাটিতে উঠতে পারবে না। তাই এটা এখন সময়ের দাবি।

জেল হত্যা দিবসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন তিনি।
পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় ফার্মগেটের খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া, রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স – সিপিসি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে তার। আর ওইদিন সন্ধ্যায় গণভবনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যাননের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।