বর্তমান শিক্ষা বছরে আমতলীতে পাঠ্য বই সঙ্কট, লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ার সঙ্কায় শিক্ষার্থীরা।

আল নোমান আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১ | আপডেট: ১২:১৩:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

বর্তমান শিক্ষা বছরের ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আমতলী উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার তিন শ্রেনীর সরকারী পাঠ্য বই পায়নি শিক্ষার্থীরা। করোনাকালিন সময়ে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকলেও বই না পাওয়ায় উপজেলার ২৩ হাজার ৮’শ শিক্ষার্থী আরো পিছিয়ে পড়ার সঙ্কায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বই পাওয়ার দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় নি¤œ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক ৪৬ টি বিদ্যালয় এবং ২৯ টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। ওই বিদ্যালয় গুলোতে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেনীতে ১৫ হাজার ৩’শ এবং মাদ্রাসায় ৮ হাজার ৫’শ শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই সকল স্কুল শিক্ষার্থীদের মানবিক, বানিজ্য ও বিজ্ঞান শাখায় ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৫’শ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এক লক্ষ ২১ হাজার ৮’শ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। গত পয়েলা জানুয়ারী অনানুষ্ঠানিক বই উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের হাতে সকল বিষয়ের বই বই তুলে দেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। কিন্তু গত ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সপ্তম, অষ্টম শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গনিত, বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ বিশ^ পরিচয় এবং নবম শ্রেনীর বাংলা, ইংরেজী ও গনিত বই ছাড়া অন্য কোন পাঠ্য বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারেনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়াউল হক মিলন। এদিকে মাদ্রাসায় চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১১ হাজার ৫’শ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট এক লক্ষ ১১ হাজার ৩’শ বই না আসায় মাদ্রাসার তিন শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা বই পায়নি। বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পরেছে। স্কুল ও মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাড়ীতে বই পড়তে পারছে না। করোনাকালিন সময়ে লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে বই না পাওয়ায় উপজেলায় ২৩ হাজার ৮’শ শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় আরো পিছিয়ে পড়ার সঙ্কায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা দ্রুত সরকারের কাছে বই পাওয়ার দাবী জানিয়েছেন।
আমতলী এমইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বিয়ন্তি, মণিষা, অভিষেক ও অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রেফায়েত, সাওদাসিফা ও রিপা বলেন, বাংলা, ইংরেজি, গনিত, বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ বিশ^ পরিচয় বই পেয়েছি। আর কোন বই পায়নি। বই না পাওয়ায় আমরা লেখাপাড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত বই দেওয়ার দাবী জানান তারা।
তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মোঃ বায়েজিদ ও চাঁদনি আক্তার বলেন বাংলা, ইংরেজি ও গনিত বই পেয়েছি মাত্র। বিজ্ঞান শাখার বই না পাওয়ায় আমরা পড়তে পারছি না। দ্রুত বই পাওয়ার দাবী জানাই।
মহিষডাঙ্গা শামিম আহসান দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সপ্তম,অষ্টম ও নবম শ্রেণীর কোন বই এখনো পাইনি। কখন পাব তাও নিশ্চিত না। বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে।
কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেনীর ছয় খানা করে বই পেয়েছি। কিন্তু নবম শ্রেনীর বাংলা, ্ইংরেজি ও গনিত ছাড়া আর কোন বই পাইনি।
চিলা হাসেম বিশ^াস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেনী সকল বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য শ্রেনীর আংশিক বই পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞানসহ অন্য শাখার কোন বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া পিছিয়ে পড়ছে।
আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জিয়াউল হক মিলন বলেন, ষষ্ঠ শ্রেনীর সকল এবং সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণীর আংশিক পাঠ্য বই পেয়েছি। ওই বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসায় মাত্র ১১ হাজার ৫’শ বই পেয়েছি। মাদ্রাসা এবং স্কুলের চাহিদা অনুযায়ী বই এখনো পাইনি। তবে অল্প দিনের মধ্য পেয়ে যাব। বই পাওয়া মাত্রই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। বছরের শুরুতে লেখাপড়ায় কিছুটা খাটতি হলেও শিক্ষার্থীরা তা কাটিয়ে উঠতে পারবে। তেমন সমস্যা হবে না।