টেহা দেও চাইল আনাম!!বলতেই স্ত্রীকে পেটাল পাষন্ড স্বামী!!

এস এম জহিরুল ইসলাম এস এম জহিরুল ইসলাম

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮ | আপডেট: ৯:০৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

টেহা দেও চাইল আনাম বলছিলেন স্বামীর কাছে এক গূহবধু। ঘরে চাল নেই তিন দিন ধরে, এক মুঠো খাবারের জন্য ঘরে রেখে আসা তিনটি সন্তানের জন্য টাকা চাইতে গিয়েছিলেন স্বামীর কাছে মধ্য বয়সী এক নারী। টাকা না দিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে মারধোর করতে থাকে তাঁর স্বামী। তাকে টেনে হিঁচড়ে অটোরিক্সায় তোলার চেষ্টা করেন। এরই এক পর্যায়ে অটোরিক্সার পাটাতনে শুইয়ে দেন ওই নারীকে। পরে, নারীটির নাকে-মুখে জুতাপেটা ও লাথি মারতে মারতে ঘটনাস্থল থেকে অটোরিক্সা যোগে কোথাও নিয়ে যান। মুঠোফোনে ধারণ করা নির্যাতনের এ ভিডিও চিত্রটি তাৎক্ষনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ২০জানুয়ারী শনিবার বেলা ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে এমসি বাজারে শিশু পল্লী আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইব্রাহিম (৩৫) পেশায় ট্রাক চালক। তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইকবাল হোসেনের ভাতিজা ও গোদারচালা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪০)। ফরিদা বেগম মুলাইদ গ্রামের মাজম আলী মোড়ের মৃত ডাঃ আব্দুল জলিলের সাবেক স্ত্রী। ফরিদার পূর্বের সংসারে দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। সে একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী যুগীরসিট গ্রামের আব্দুল ছাত্তারের মেয়ে। তিন সন্তান ও স্বামীসহ ফরিদা তাঁর পূর্বের স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়ীতে বসবাস করতো।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ফরিদা বেগম জানান, গত নয় বছর আগে তিন সন্তান রেখে তাঁর স্বামী ডা: আব্দুল জলিল মারা যান। পরে একই এলাকার ইব্রাহিম তাঁর সম্পত্তির লোভে ফুঁসলিয়ে তাকে বিয়ে করেন। পূর্বেও ইব্রাহিমের সংসারে প্রথম স্ত্রী ছিল। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সার জন্য ইব্রাহিম তাঁর উপর নির্যাতন করতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে প্রথম স্বামীর রেখে যাওয়া মুলাইদের বাড়িটি বিক্রির জন্য সে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। সম্প্রতি ইব্রাহিম মাজম আলী মোড়ের মুন্নু মেস্ত্রীর মেয়ে ময়ুরীকে বিয়ে করে ভাড়া বাড়িতে এনে তোলে। এনিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ তাদের সংসারে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ভরনপোষণও বন্ধ করে দেয় ইব্রাহিম। শনিবার স্বামীর কাছে চাল আনার জন্য টাকা চাইলে সে বেদম মারধোর শুরু করে। পরে, ফরিদা স্বামীর অত্যাচার থেকে পালানোর চেষ্টা করে এমসি বাজার পর্যন্ত আসলে ইব্রাহিম তাঁর পথরোধ করে জনাকীর্ণ লোকজনের সামনে বেধম মারধোর শুরু করে।

অভিযুক্ত ইব্রাহিম মারধোরের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাঁর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা আছে। তাই তাকে জোরপূর্বক বাড়ীতে ফিরিয়ে এনেছি। পরে ধারণকৃত ভিডিও দেখালে সে চুপ করে থাকে।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, এরকম কোন অভিযোগ এখনও থানায় দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।