রাজাপুরের অসহায় রহিমা’র মুখে হাসি ফোটালেন যুবলীগ নেতা ছবির

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৪:০৫:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠি গ্রামের অসহায় নারী রহিমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার মুখে হাসি ফুটালেন ঝালকাঠির যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ছবির হোসেন। শনিবার দুপুরে ২বান ঢেউ টিন, ১ বস্তা চাল, আলু, তেল, ২টি কম্বল ও নগদ টাকা তুলে দেয়া হয় রহিমা বেগমের হাতে। এসময় রহিমা বেগমের মা সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
রহিমা বেগম জানান, “রহিমা ও আব্দুল মান্নাফ দম্পতির দাম্পত্য জীবনে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। বিষখালী নদীর তীরে বসবাস করায় ছোট বেলা থেকে এ দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান মাছ ধরে সংসারে বাবার সাথে সাহায্য করতো। সেই ছেলেটি ২০ বছর পূর্বে ২০ বছর বয়সে সংসারের বাড়তি উপার্জনের জন্য সাগরে মাছ ধরতে যায়। সেই যে গেলো আর ফিরে এলো না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন আব্দুল মান্নাফ (৮০)। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে না পারায় শুয়ে বসেই দিন পার করেন বৃদ্ধ মান্নাফ। ৩ মেয়েকেই পাত্রস্থ করেছেন। তবে গরীব পরিবারের জামাই তো গরীবই থাকে। জামাইরাও তো টেনেটুনে সংসার চালায়।
‘ছোট মেয়েটা আমার কাছে থাকে, ওর স্বামী বাসের হেল্পার। অন্যের বাড়িতে কাজ করে, রাস্তার পাশে মাটি দেয়ার কাজ করাসহ যখন যে কাজ পায় তাই করে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগার করতেই কষ্ট হয়। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা এবং ওষুধ খরচ মেটানো অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। ঘরের অবস্থাও অনেক খারাপ। বাতাস এলেই ঘরটি নড়তে থাকে, ভয়ে থাকি কখন যেন মাথা গোজার শেষ আশ্রয়টুকু ভেঙে পড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি পড়ে ভিজে যায় সবকিছুই। শীতের সময় এলে শীতবস্ত্র ও শীত নিবারণের কোন গরম কাপড় না থাকায় চটের বস্তা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হয়। খাবার ব্যবস্থা ও স্বামীর ওষুধের খরচ মিটালে অন্যদিকে টাকা খরচের আর কোন উপায় থাকে না। একা হলে কাজ করে ভালোভাবেই খেতে পারি কিন্তু অসুস্থ্য বুড়া স্বামীকে ফেলে রেখে কিভাবে একা থাকবো। ”
ছবির হোসেন’র দেয়া সহায়তা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রহিমা জানান, “স্বামী অসুস্থ্য, বিছানায় শুয়ে থাকে, ছেলে নাই। বহু কষ্টে শীতে কেঁপে আর বৃষ্টিতে ভিজে জীবন কাটে। ঝালকাঠির ছবির ভাই এসে অনেক কিছুই দিয়েছেন। আল্লাহ তারে অনেক ভালো করুক।”
ব্যবসায়ী ছবির হোসেন জানান, ফেসুবকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি অসহায় রহিমার কথা। রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা জীবনদাশকাঠি অজোপাড়াগাঁয় তার ঘর। সেখানে শনিবার দুপুরে গিয়ে ২বান ঢেউ টিন, ১ বস্তা চাল, আলু, তেল, ২টি কম্বল ও নগদ টাকা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেই। নেয়ার চেয়ে দেয়ায় আনন্দ বেশি, তাই দিয়েই আনন্দ পাই। দিলে কমে না আল্লাহ আরো বাড়িয়ে দেন।