‘ শামীম থাকলে নৌকা ডুবতে বিএনপি লাগবে না ‘

‘ আইভীরও বাড়াবাড়ি আছে ’

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩৮:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮
‘ শামীম থাকলে নৌকা ডুবতে বিএনপি লাগবে না ‘

নারায়নগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শামীম ওসমানের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন জানিয়ে বলেছেন ‘আইভীরও বাড়াবাড়ি আছে।’ অন্যদিকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন ‘শামীম থাকলে নৌকা ডুবতে বিএনপি লাগবে না।’ নারায়নগঞ্জের সহিংসতার পর শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ এর পক্ষে এভাবেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এখবর নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন, দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই শামীম ওসমান প্রকাশ্যে আইভীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। শামীম ওসমান নারায়নগঞ্জে জনসভা করার আগে ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন ‘শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের নেতা, এমপি, কাজেই তার সাথে সব সময় যোগাযোগ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনাকে ওবায়দুল কাদের ‘আত্মঘাতি’ বলেই মন্তব্য করেছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদও শামীম ওসমানের পক্ষে বলেই জানা গেছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রকাশ্যেই সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপকালে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন ‘হকারদের পূণ:বাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন। যারা এই কাজে বাধা দিচ্ছে তারা প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন লংঘন করছে।’ তিনি বলেন ‘আমরা আধুনিক উন্নত মহানগরী হিসেবে নারায়নগঞ্জকে গড়ে তোলার জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ। এই কথা বলেই তো আমরা ভোট করেছি, আইভী জিতেছে। এখন যদি এসব কাজে বাধা দেয়া হয়, তাহলে আরেকবার আওয়ামী লীগ কি বলে ভোট চাইবে? স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন ‘হকার উচ্ছেদ’ এই কথাটি উদ্দেশ্যপূর্ন। আসলে হকারদের পুন:বাসন করা হচ্ছে। কারো নাম উচ্চারন না করে তিনি বলেন ‘যারা নারায়নগঞ্জে অশান্তি করছে তারা আসলে প্রকারান্তরে সরকারের উন্নয়ন কাজেই বাধা সৃষ্টি করছে।’

সরকারের আরেক প্রভাবশালী নেতা মতিয়া চৌধুরীও সেলিনা হায়াত আইভীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করা হলে মতিয়া চৌধুরী এব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে তিনি বলেন ‘আওয়ামী লীগ একটি বড় দল এই দলের শক্তি হলো জনগন আর শেখ হাসিনা। এছাড়া কেউই অপরিহার্য নয়।’

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো বলছে, নারায়নগঞ্জে শামীম-আইভী দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। দুজনের বাবাই আওয়ামী লীগের দু:সময়ের কান্ডারী ছিলেন। এজন্যই দুজনই বিশেষ করে শামীম ওসমান শেখ হাসিনার বাড়তি স্নেহ পেয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শামীম ওসমানের উপর সন্তুষ্ট নন। মেয়র নির্বাচনে তিনি আইভীকে বেছে নেন। এসময় তিনি শামীম এবং আইভীকে মিলে মিশে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, দলীয় কোন্দল নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী এবার শুধু নারায়নগঞ্জ নয়, সারাদেশে কোন্দল ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন।