শীতে তাঁর যত্ন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৫৯:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮
শীতে তাঁর যত্ন

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁরা ভরসা দিয়েছেন। যত্ন নিয়েছেন। সন্তানকে ভালো রাখার চিন্তায় নিজেদের দিকে খেয়াল না রাখাই মা-বাবার চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। এখন তাঁদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সন্তানের। শীতকালে রোগ, ত্বকের সমস্যাসহ নানা ধরনের অসুবিধা বয়স্কদের। তাই মা-বাবাসহ পরিবারের আরও যাঁরা বয়স্ক রয়েছেন, তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হয় এ সময়টায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্ষব্যাধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীম আহমেদ বলেন, এই সময়টাতে ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তি সহজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন।

বয়স্ক ব্যক্তির ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়ে পড়ে। এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, ত্বকের সুস্থতায় খাদ্য, পানীয় আর ত্বকের বাহ্যিক যত্ন—প্রতিটিরই ভূমিকা রয়েছে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস

ত্বক সুস্থ রাখতে এবং সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যাভ্যাস বিষয়ে হরষিত কুমার পালের পরামর্শ—প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে। প্রতিদিনই কিছু ফল খাওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়া হচ্ছে বলে বুঝতে পারবেন যদি প্রস্রাবের রং হলুদ না হয়। তবে ডায়াবেটিস এবং লিভার ও কিডনির বিভিন্ন সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেক সময় পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এসব রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

সুস্থ ত্বকের আরও শর্ত

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরের জন্য আরও কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া দরকার। সেগুলো জানালেন হরষিত কুমার পাল।

* ত্বক ভেজানো হলে এর পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ময়েশ্চারাইজিং লোশনের চেয়ে জলপাই তেল বা নারকেল তেল ভালো।

* হাত ও পায়ের তালু এবং ঠোঁটে সুগন্ধহীন পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন।

* তীব্র রোদে থাকা উচিত নয়। গ্রামের বাড়িতে অনেকে আগুনে তাপ পোহান, এই কড়া উত্তাপ ত্বকের জন্য ভালো নয়।

* অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকে লাগাবেন না।

* নখ কেটে ছোট রাখতে হবে।

এ সময়ে বয়স্কদের ত্বকের জন্য দরকার িবশেষ যত্ন

এ সময়ে বয়স্কদের ত্বকের জন্য দরকার িবশেষ যত্ন

ত্বকের যত্নে

হারমনি স্পার রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘বাইরে থেকে ত্বক আর্দ্র রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি আর পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।’

ত্বকের যত্নে করণীয়—

* বয়স্ক ব্যক্তিদের ত্বকে ফেসওয়াশ লাগানো উচিত নয়। বরং প্রাকৃতিক উপাদান কাজে লাগানো যায়। ১ টেবিল চামচ টকদইয়ের সঙ্গে আধা চা-চামচ জলপাই তেল মিশিয়ে প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন।

* ১ চা-চামচ দুধ ও আধা চা-চামচ মধুর মিশ্রণ দিয়েও ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

* মাস্কের জন্য ১টি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল চামচ যবের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ২০ মিনিটে মিশ্রণ শুকিয়ে যায়। এরপর সামান্য দুধ হাতে নিয়ে হালকাভাবে মিশ্রণটি তুলে মুখ পরিষ্কার করে ফেলুন।

* দাগ তোলার জন্য অ্যাসিড-জাতীয় কোনো তরল সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। দাগ দূর করার উপকরণের সঙ্গে দুধ ও মধু ব্যবহার করতে হবে। ১ টেবিল চামচ আলুর রস, আধা চা-চামচ মধু ও ১ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে মেছতা বা ত্বকের অন্যান্য দাগ তোলার জন্য ব্যবহার করা যায়।

* বয়স্কদের ত্বকে কখনোই স্ক্রাবিং করা উচিত নয়।

শীতকালে বয়স্ক ব্যক্তিদের সার্বিক যত্নে আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ শামীম আহমেদের পরামর্শগুলো জানা যাক।

শীতের পোশাক চাই ঠিকঠাক

পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজনমতো শীতের পোশাক পরছেন কি না, খেয়াল রাখুন। হাত ও পায়ে মোজা পরতে উৎসাহিত করুন। শীতল হাওয়ায় বেরোলে কানটুপি, মাফলার প্রভৃতি দিয়ে দিন।

উষ্ণতা প্রয়োজন

ঘরের জানালা সঠিকভাবে লাগানো রয়েছে কি না, দেখে নিন। নইলে শীতল হাওয়ায় তাঁরা কষ্ট পাবেন। তাঁদের গোসল, অজু ও হাত-মুখ ধোয়ার সময় কুসুম গরম পানির ব্যবস্থা করুন। তাঁরা না পারলে তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত লোশন বা তেল লাগিয়ে দিন। উষ্ণ পানীয় পান করতে দিতে পারেন, তবে অতিরিক্ত নয়।

সতর্কতা

শীতের পিঠা-পুলি খেতে চাইলে বাড়িতেই তৈরি করুন। খাবার তৈরি থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। ডায়াবেটিসের রোগীদের মিষ্টি খাওয়ার ব্যাপারেও সতর্কতা প্রয়োজন বলে জানালেন শামীম আহমেদ। আগুনের তাপ পোহাতে গিয়ে সেখান থেকে যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

প্রয়োজনে চিকিৎসা

সতর্ক থাকার পরও অসুখ হতেই পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকের শ্বাসকষ্ট বাড়ে। বয়স্ক ব্যক্তির নিউমোনিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এই সময়টাতে ভাইরাসজনিত কারণে পেটের পীড়াও হতে পারে। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথাসহ অন্য যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

  • প্রথম আলো