দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০ | আপডেট: ৩:৫৬:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যা’নেজমেন্ট (বিআইবিএম)’র ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাং’কিং খাতে, তথ্য সংরক্ষণের ঝুঁকিতেই রয়েছে ৩৬ শতাংশ ব্যাংক।

সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকগুলোর গ্লো’বাল ফরেন এক্সচেঞ্জ (জিএফএক্স) এবং মধ্যম ঝুঁকিতে ১২ শতাংশ। আর আধুনিকায়নের পথে ৩২ শতাংশ ব্যাংক।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হা’মলার আশঙ্কা থাকলেও এখনো তথ্য সংরক্ষণের ঝুঁকিতেই রয়েছে ৩৬ শতাংশ ব্যাং’ক। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। এমন অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা ভার্চ্যুয়াল ব্যাংকিং-এ পিছিয়ে পড়ার কথা বললেও, ব্যাং’কাররা বলছেন, সক্ষমতা অর্জনে অনেকটাই এগিয়েছে এ খাত। আর প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা জোরদারে কম ব্যয়ে দে’শীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৮০ শ’তাংশ সাইবার হামলাই হয়ে থাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। সবচেয়ে বেশি সা’ইবার হামলা হয় আর্থিক সেবা খাতে। খাতওয়ারি তা ২৪ শতাংশ। এ’র মধ্যে শুধু এটিএম কার্ডের দুর্বলতার কারণেই ঘটেছে অধিকাংশ সাইবার হামলা।

তিনি বলেন, অনেক ব্যাং’কই ফরেন এক্সচেঞ্জ ফায়ারওয়াল (নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার) স্থাপন করে ফেলেছে। আ’গামীতে এমন আরও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করতে। সর্বোচ্চ স’ম্ভাব্য উপায়ে আমরা এই কাজগুলো করছি।

এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাং’লাদেশ (এবিবি)’র সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের দাবি, আ’ধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এগিয়েছে ব্যাংকগুলো।

বিআইবিএমের গবেষণা বলছে, ব্যাং’কিং খাতে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ (আইটি) জনবল রয়েছে মাত্র ৪ হা’জার। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইটি খাতের আধুনিকায়নে অর্থ সংকুলান না থাকায় ভার্চ্যুয়াল ব্যাংকিং এ যে’তে অনেক পিছিয়ে আছে এ খাত।

আগামীর ভা’র্চুয়াল ব্যাংকিংয়ে যেতে নতুন জনবল নিয়োগের চেয়ে ব্যাংকগুলো বর্তমান কর্মীদের মধ্যেই সক্ষমতা বা’ড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যে জনবল এখন আছে এখানে প্র’যুক্তিগত দক্ষতা বাড়ালে সাইবার হামলা ঠেকাতে ও ভার্চুয়াল ব্যাংকিংয়ে যেতে আমরা এগিয়ে থাকবো।

ব্যাংকিং প্রযুক্তি বি’শেষজ্ঞ মো. ফয়সাল হাসান সময় সংবাদকে বলেন, যেহেতু সারাবিশ্ব এখন ভার্চুয়াল ব্যাং’কিংয়ের দিকে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমাদেরও পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে।

সাইবার নি’রাপত্তায় বিশ্বে বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাং’কগুলো ২০১৯ সালে সাইবার নিরাপত্তায় ব্যয় করেছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বি’দেশ নির্ভরতা কমিয়ে কম ব্যয়ে দেশিয় প্রযুক্তি ও সং’শ্লিষ্ট মেধাকে ব্যবহারের পরামর্শ প্রবীণ অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদের।

বাংলাদেশ ব্যাং’ক সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিদেশি স’ফটওয়্যার ও প্রযুক্তি ব্যবহারকে আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। তি’নি সময় সংবাদকে বলেন, শত শত কোটি টাকা ব্যয় হয় বিদেশি সফটওয়্যারের পেছনে। এতে দে’খা যায়, একেকটি ব্যাংকেরই খরচ হচ্ছে দুই থেকে তিন’শ কো’টি টাকা। আমি এই খরচের বিপক্ষে। আমাদেরই তো যথেষ্ট (তথ্য প্রযুক্তির) মে’ধাবীরা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকেই তো আমরা কাজে লাগতে পারি।