মাদারীপুরে ওএমএস’র আটা বিক্রিতে দুর্নীতি

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০ | আপডেট: ১০:৪৮:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ

মাদারীপুর খাদ্য বিভাগের ভর্তুকী মুল্যে ওএম এস (ওপেন মার্কেট সেল) এর আটা বিক্রয়ে দুনীতির প্রমান পাওয়া গেছে। খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, গত জুন মাস থেকে সরকার মাদারীপুর পৌরসভায় ২৩ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫ মেট্রিক টন আটা বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী ২৩ জনের মধ্যে প্রতিদিন ১১ জন বা ১২ জন ডিলারকে ৫ টন আটা সমহারে নির্ধারিত আটা মিল থেকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ২৩ জন ডিলার ১ দিন পর ১ দিন ৯ বস্তায় ৪৫০ কেজি ওএমএস এর আটা নির্ধারিত মিল থেকে উত্তোলন করে খুচরা বাজারে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বিতরন করার কথা । ওএমএস এর আটা বিক্রয়ে নির্ধারিত ডিলারের দোকানে লাল সালু কাপড়ে মুল্যসহ পরিমান লিপিবদ্ধ করে খাদ্য বিভাগের একজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বিক্রয় বা বিতরন করার বিধান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাদারীপুর পৌরসভার কয়েকটি ডিলারের দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কোন ডিলার বা বিক্রয় কেন্দ্রে কোন নিয়ম পালন করা হচ্ছে না। প্রত্যেক ডিলার ৯ বস্তায় ৪৫০ কেজির স্থলে ৫ (পাচ) বস্তায় ২৫০কেজি আটা বিক্রি করছে। অনেক ক্রেতা আটা না পেয়ে ফেরৎ যাচ্ছে। প্রত্যেক ডিলারের দোকানে একজন করে তদারকি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও কোন দোকানেই তদারকী কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পৌরসভা কিচেন মার্কেটের একজন ডিলারের কর্মচারীকে দেখা গেছে আটা বিতরনের পর মাস্টার রোলে একটি শিশুকে দিয়ে টিপ নেওয়া হচ্ছে।
বাজারে আটার মুল্য ৩০ থেকে ৩২ টাকা। বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকার ১৮ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে নিন্ম আয়ের জনসাধারনের মাঝে আটা বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের এই প্রচেস্টা ও সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সরকারী খাদ্য বিভাগ ও মিলারের সহযোগিতায় ওএমএস ডিলাররা দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত ৫ মাসে প্রতিদিন ৫ টন হিসাবে ওএমএস আটা বিক্রয়ের কথা থাকলেও খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ২৫০০ কেজি বা সর্বোচ্চ ২৭০০ কেজি বা পৌনে তিন টন। সে হিসাবে প্রতিদিন সোয়া ২ টন করে আটা অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করে মিলার,ডিলার ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ভাগাভাগি করে আত্মসাত করছে।
এব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: সেফাউর রহমানকে বার বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে গেলে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিষ্ণুপদ মজুমদার জানান , জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুই জেলার দায়িত্বে আছেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ওএমএস এর ডিলারদের ৯ বস্তা আটা বিক্রয়ের জন্য দেওয়া হয়। ডিলারদের ৫ বস্তা বিক্রয়ের ব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তাকে নিয়ে এক ডিলারের দোকান পরিদর্শনের গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান তিনি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিএম/নাজমুল