সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২০ | আপডেট: ১:৪৫:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

সাম্প্র’তিক সময়ের কয়েকটি ঘটনা চোখে আ’ঙ্গুল দিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করি’য়েছে আমাদের। ভাবতে হচ্ছে, একটি মানু’ষের অন্দরমহলে কতটুকু উঁকি দেয়া যাবে। কলকাতার জনপ্রিয় ও মেধাবী অভিনেতা অনি’র্বাণ ভট্টাচার্য। বিয়ে করেছেন তার দীর্ঘ’দিনের বন্ধু মধুরিমা গোস্বামীকে। অ’থচ তাদের বিয়ের ছবি দেখে মধুরিমার দৈহিক গঠন, গায়ের রঙ নিয়ে শু’রু হয় ট্রলের বন্যা।

একই রকম পরিস্থি’তির মুখোমুখি হয়েছেন, বাংলাদেশের অভি’নেত্রী শবনম ফারিয়া। নিজের ফেসবুক স্ট্যা’স্টাসে জানিয়ে ছিলেন ডিভোর্সের কথা। ব্যা’খা করেছেন তিনি কেন ডিভোর্স দিয়েছেন অ’পুকে। তবুও নিস্তার মেলেনি ট্রল থেকে। কে’বল মিডিয়ার মানুষ নন, সাধারণ মা’নুষও এই ট্রলের শিকার হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সামা’জিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন সে’লিব্রেটি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এতে চর’মভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে ব্যক্তি স্বাধীনতা। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরি’বার থেকেই অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা জরুরি। আর প্রযুক্তিগত সহা’য়তা নিয়ে ভু’ক্তভোগীরা পেতে পারেন প্রতিকার।

ডিজিটাল দুনিয়ায় সা’মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরে খুব কম মা’নুষই। জন্মদিনের শুভেচ্ছা থে’কে শুরু করে জীবন বাঁচাতে রক্তের স’ন্ধানেও যেমন লাগে এই মাধ্যম, তেমনি মাঝে মাঝে তা হয়ে ওঠে ব্য’ক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ভ’য়ংকর হাতিয়ার।

মত প্রকাশ ক’রার এখন অবারিত সুযোগ। যে কেউ ই’চ্ছা করলেই ইতিবাচক কিং’বা নেতিবাচক যেকোন স’মালোচনাই করতে পারেন। সে’ই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সা’ধারণ মানুষ সামা’জিক যোগাযোগ মাধ্যমকে পরিণত ক’রেছেন ট্রলের উর্বর ভূমিতে।

কেন এই বি’কৃতি। যেকোনভাবে একটি মন্ত’ব্য করতে পারাতেই যেন সুখ।

ঢাকা বি’শ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কা’উন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক না’ফিজা ফেরদৌসী বলেন, আমাদের ফ্যা’মেলির ব্যাকগ্রাউন্ড কেমন, আমরা কোন পরিবার থে’কে উঠে এসেছি- এটাও কিন্তু এক’টা বড় ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন হলো এই অসং’গতি কিংবা সংকটের পিছনে গণমাধ্যম কি দা’য় এড়াতে পারে? এ বিষয়ে মতামত জা’নালেন এই গণমাধ্যমকর্মী।

গণমাধ্যমকর্মী খা’ন মুহাম্মদ রুমেল বলেন, বাংলাদে’শের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক বি’স্তার ঘটেছে। আমরা মনে হয়, আমরা সামা’জিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে মতো সু’ষ্ঠু শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারিনি।

সা’মাজিক এই সংকট থেকে বের হ’তে প্রযুক্তিগত কোন স’মাধান আছে কি?

প্রযুক্তিবিদ সা’লাউদ্দিন সেলিম বলেন, এজন্য এ’কটা কমিউনিটি তৈরি করা দরকার। তা’দের কাজ হবে সামাজিকমাধ্যমে যারা উ’ক্ত্যক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে রি’পোর্ট করা।

আইন কিংবা বিধি নি’ষেধ দিয়ে নয়, সাধারণ মানুষকে ভা’লো মন্দের ব্যাপারে সচেতন ক’রতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সা’মাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোক সক’লের ভালোবাসা আর সৌহা’র্দ্যের উর্বর ভূমি- এমনটাই স’বার প্রত্যাশা।