পদ পরিবর্তন ও বেতন স্কেল বৃদ্ধির দাবিতে কালেক্টরেট সহকারীদের কর্মবিরতিতে জনসাধারনের নাভিশ্বাস

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০ | আপডেট: ৩:৫০:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের এক বয়স্ক ব্যক্তি তার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আইনী প্রক্রিয়ার জন্য ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মহাফেজ খানা (রেকর্ড রুম) আসেন জমির পর্চা তুলতে। পর্চা তুলে তার দাবী অনুযায়ী আদালতে মামলা করবেন ন্যায্য হিসাব বুঝে পাবার জন্য। কিন্তু বিপত্তি বাধে সংশ্লিষ্ট শাখায় গেলেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কালেক্টরেট সহকারীরা পদবী পরিবর্তনের দাবিতে ১৫দিন ব্যাপী কর্মবিরতির কারণে অফিসে পাননি কাউকে। গোমরাহ মুখ করে চলে যান নিজ বাড়িতে। সারা দিনটা গেলো সেই সাথে আড়াইশো টাকাও গেলো আসা যাওয়ার গাড়ি ভাড়ার খরচ বাবদ। শুধু বয়স্ক ব্যক্তিই নন এভাবে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক মানুষ মহাফেজ খানাতে গিয়ে জমির পর্চা তুলতে না পেরে ফিরে যান। ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও কর্মরত কালেক্টরেট সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে কোন ফাইলিংএর কাজ হচ্ছে না। যার ফলে প্রতিদিন জনসাধারনের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানাগেছে, ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে মামলা চলমান আছে ৩৩৪টি। ঝালকাঠির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান আছে প্রায় ৫ শতাধিক। প্রতিটি মামলায় দুটি গ্রæপে কমপক্ষে ১ হাজার লোক জড়িত। আবার বাদী পক্ষে ১ জন হলেও বিবাদী পক্ষে একাধিক ভুক্তভোগী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ঠিক এমনিভাবেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। কালেক্টরেট সহকারীদের টানা কর্মবিরতি পালনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আাদালত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলতসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় সেবা প্রত্যাশীরাও গিয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে।
জানাগেছে, সব বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইউএনও এবং উপজেলা সহকারী কমশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদ পরিবর্তন ও বেতন স্কেল বৃদ্ধির দাবিতে ১৫দিনের পুর্ণদিবস কর্মবিরতি চলছে। গত ১৫ নভেম্বর (রোববার) সকাল ৯টা থেকে এ কর্মসূচী শুরু হয়েছে। রবিবার (২৯ নভেম্বর) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পশ্চিম বারান্দা অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) ঝালকাঠি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচী পালন শুরু করেন।
বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান, ডিসির সিএ মো. মাইনুল হাসান রিয়াদ, জহিরুল ইসলাম, গিয়াস মৃধা, শাহাদাত হোসেন তালুকদারসহ আরো অনেকে।
সভায় বক্তরা বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিয়ে যেকোনো মূল্যে দাবি আদায় করার আহবান জানান বক্তারা। দীঘদিন যাবত তারা পদ ও বেতনবৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। ভূমি অফিসের তহশীলদারদের পদ-পদবি ও বেতন স্কেল পাঁচ ধাপ বাড়ানো হলেও তাদর পদ ও বেতন স্কেলের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বাকাসস ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, অফিস সুপার, সিএ কাম ইউডিএ, প্রধান সহকারী, ট্রেজারী হিসাব রক্ষক, উচ্চমান সহকারী পদকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। হেড এসিস্ট্যান্ট কাম একাউন্টেড ও উচ্চমান সহকারী পদকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অফিস সহকারী, একাউন্টেন্ট ক্লার্ক, রেকর্ড ক্লার্ক, পরিসংখ্যান সহকারী, সার্টিফিকেট সহকারী, টাইপিস্ট কপিস্ট, লাইব্রেরী সহকারী পদকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অফিস সহকারী-কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, নাজির-কাম ক্যাশিয়ার, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী, সার্টিফিকেট পেশকার, সার্টফিকেট সহকারী, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী পদকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। স্টেনো গ্রাফার পদকে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং সেস্টনো টাইপস্ট পদকে সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে রূপান্তর করার দাবিতে আমাদের ১৫দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। রোববার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯টায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে কর্মবিরতি কর্মসূচী পালন শুরু হয়। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত (সরকারী ছুটির দিন ব্যতিত) এ কর্মসূচী চলবে। এতে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আবার পরবর্তি কর্মসূচী ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।