অবৈধ মোবাইল বন্ধের বিষয়ে ৬ প্রশ্নের উত্তর বিটিআরসির

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০২০

 

চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শহীদুল আলম, পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সাল, উপপরিচালক সঞ্জীব কুমার সিংহ এবং সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশ অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর রমনায় বিটিআরসির কার্যালয়ে এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী ৯ জুনের মধ্যে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের প্রযুক্তিগত সমাধান দেওয়ার কথা সিনেসিসের। তবে প্রতিষ্ঠানটি আগামী মার্চের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করতে চায়। সিনেসিসের সঙ্গে এ প্রকল্পে কাজ করবে রেডিসন টেকনোলজিস ও কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড বিডি নামের দুই প্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় বিটিআরসি। সেই প্রশ্ন এবং উত্তরগুলো তুলে ধরা হলো-

১. বিটিআরসির তথ্যভাণ্ডারে এখন পর্যন্ত কতগুলো আইএমইআই নম্বর সংযোজন করা হয়েছে?

উত্তর: গত ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৩টি আইএমইআই নম্বর সংযোজন করা হয়েছে। মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারকরা বিটিআরসি থেকে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড এবং মডেলের আমদানি ও বাজারজাতকরণের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার পর তা তাদের স্ব–স্ব ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তথ্যভাণ্ডারে সংযোজন করে থাকেন।

২. মোবাইল ফোনে খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে অনেক সময় আইএমইআই সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না, এ বিষয়ে করণীয় কী?

উত্তর: যেসব মোবাইল ফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এবং যেগুলোর আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির তালিকাভুক্ত আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারক সংযোজন করেননি, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর এই তথ্যভাণ্ডার থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ১ আগস্ট তথ্যভাণ্ডার চালু হয়। এর আগের মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর তথ্যভাণ্ডারে নেই।

৩. এনইআইআর সিস্টেমটি কীভাবে পরিচালিত হবে? অর্থাৎ, গ্রাহক কীভাবে এতে সম্পৃক্ত থাকবেন?

উত্তর: এনইআইআর সিস্টেমটি সরাসরি প্রত্যেক মোবাইল অপারেটরের স্ব–স্ব ইআইআরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকদের মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হবে। এনইআইআর সব মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ না অবৈধ, তা তাৎক্ষণিক চিহ্নিত করবে। ফোন কেনার পর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগতে পারে।

৪. বাজারে আগে যে মোবাইল ফোন রয়েছে বা সাধারণ গ্রাহক যে সেটগুলো ব্যবহার করছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?

উত্তর: ২০১৯ সালের ১ আগস্টের আগে মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত এবং ওই সময়ের পরে বৈধ পথে আমদানি অথবা দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের তথ্য বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে কোনো অবৈধ মোবাইল ফোন থাকলে সে বিষয়ে কমিশন পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

৫. বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে আসা, কারও উপহার বা অনলাইনে কেনা মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?

উত্তর: এনইআইআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ফোন কেনার রসিদ যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে উপহার পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। একই ব্যক্তি বারবার উপহার দিচ্ছেন, তা দেখানো যাবে না।

৬. দেশে এখন ব্যবহৃত হওয়া একই আইএমইআই নম্বরের নকল মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?

উত্তর: এসব ফোন তালিকা করে তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। পরে তা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

গত ফেব্রুয়ারিত মোবাইল ফোন বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নামের এই ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। নকল মোবাইল ফোন, অবৈধ আমদানি, চুরি ও রাজস্ব ক্ষতি রোধে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করছে বিটিআরসি। এর মাধ্যমে দেশে বৈধভাবে আমদানি ও উৎপাদিত মোবাইল ফোনের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু হওয়া ফোনের আইএমইআই (মোবাইল ফোন শনাক্তকরণ নম্বর) মিলিয়ে দেখা হবে।

এটি কার্যকর হলে অবৈধ, চুরি যাওয়া ও নকল মোবাইল ফোন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না।