মৃত নারীদের ধর্ষণ দোষের কিছু না: মুন্না

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

রাজধানীর সো’হরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মৃ’ত নারী’দের ধ’র্ষণের জঘন্যতম অপরাধের প্রমাণ পাওয়ার পর সারা দেশে ম’র্গগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে সিআইডি।

এদিকে, মৃ’তদেহ ধ’র্ষণের অভিযোগে আটককৃত মুন্না ভগত স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ শুক্রবার (২০ নভেম্বর) এ জ’বানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তা’কে কারাগারে পাঠানোর আ’দেশ দেন।

জবানবন্দিতে অস্বা’ভাবিক ক’র্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও সে কৃ’তকর্মের জন্য অনুতপ্ত ন’য় বলে জানায়। মুন্না বলেছে, রাতে ম’র্গে সে একাই থাকত। নি’রিবিলি পরিবেশ এবং কোনো লো’কজন না থাকার সুযোগকে কা’জে লাগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘মৃ’ত মানুষের সঙ্গে শা’রীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু না।’

 

সিআ’ইডির এক কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই ওই সিরি’য়াল কিলার আরও হ’ত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আ’শঙ্কা নিয়ে তদন্তে নামেন তারা। তা’রা মোহোম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হ’ওয়া ৫টি অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত ক’র্মকর্তার সাথে কথা বলেন। তা’তে তারা জানতে পারেন, ৫টি মামলার ভি’ক্টিমের সুরতহালে কোনো ধরনের জোর’জবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়’নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আ’ত্মহত্যা বলা হয়েছে।

 

২০১৫ সালে হা’ইকোর্ট এক আদিবাসী নারীর অ’পমৃত্যু মামলার রায়ে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। তা’তে বলা হয়, কোনো নারীর অপমৃত্যু হলে, তা’দের যৌনাঙ্গ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে সং’রক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে অ’পমৃত্যুর আগে কোনো ধ’র্ষণের ঘট’না ঘটেছে কিনা। তারপর থেকে সি’আইডির ফরেনসিক ল্যাব আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সিআ’ইডি ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেষকরা ‘কোডে’ক্স’ নামে সফটওয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় ৫টি মৃতদেহে একই ব্যক্তি’র ডিএনএ। পাঁচ ভিক্টিমই কিশোরী। তাদের বয়স যথাক্রমে- ১১, ১৩, ১৪, ১৬ এবং ১৭ বছর। সবগুলোই ফাঁস দিয়ে আ’ত্মহত্যার ঘটনা। ৫টি আত্মহত্যার মধ্যে ৪টি মিরপুর এবং ১টি ঘ’টেছে মোহাম্মদপুর এলাকায়। ২টি ঘটেছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অ’ক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও ২টি আগস্ট মাসে ঘটেছে। সময়, এলাকা, বয়স ও লিঙ্গ একই ধরনের হও’য়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সিআইডির ধারণা হয় ভিক্টিমরা কোনও সি’রিয়াল কিলারের শিকার।

এছাড়া, প্রত্যেক ভিক্টিম দ’রজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৩টি ঘটনায় স্বজনদের খবর পে’য়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সব মি’লিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আ’সেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এরপরই ওই অভিনয়ের আশ্রয় নেয় সিআইডি।

অনুস’ন্ধানে নেমে সিআইডি জানতে পারে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ম’র্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরও ৫/৬ জন। তার মধ্যে রজতের ভাগ্নে মুন্না ভগত রাতে মর্গের পাশেই এ’কটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হও’য়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সাথে সখ্যতা গ’ড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা।

তাদের একজন জানান, বে’শ কয়েকদিন লাগাতার তারা মুন্নাকে ফলো কর’তে থাকেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে গি’য়েছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহা’রার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে, কৌশলে মুন্নার পান ক’রা সিগারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফি’ল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সাথে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পাও’য়া ডিএনএ’র।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআ’ইজি শেখ রেজাউল হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলা’দেশে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ধরা পড়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এক’টি হাসপাতাল মর্গের ঘটনা ধরা পড়েছে। সারা দেশে’র অন্য হাসপাতালগুলোতেও অনেক ডোম কাজ করেন। তারা যে এ ধরনে’র ঘটনা ঘটাচ্ছে না সেটা নিশ্চিত করে বলা যা’চ্ছে না। খুঁজলে আরো অনেক পাওয়া যেতে পারে। তাই অন্যান্য হাসপাতালে সিআ’ইডির নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুন্নার বাড়ি রাজ’বাড়ীর গোয়ালন্দের জুরান মোল্লার পাড়ায়। সে সোহ’রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের কোনো কর্মচারী নয়। হাসপাতালের ডোম’ যতন কুমারের ভাগ্নে হওয়ার সুবাদে মুন্না সেখা’নে কাজ করত। মর্গে আসা মরদেহগুলো সে গ্রহণ করত। আত্মহত্যাকারী ওই কি’শোরীদের লাশ বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ম’র্গে আনা হয়। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার এসব লাশ কাটার সময় নির্ধারণ ছিল পরদিন। রা’তের বেলা লাশগুলো মর্গে রাখা হতো। মু’ন্না থাকত সেখানেই। লাশ পাহারার দায়িত্বও ছিল তার ওপর। এই সুযোগটা কাজে লাগি’য়ে বিকৃত মানসিকতা চরিতার্থ করত মুন্না।