মৃত নারীদের ধ’র্ষণের কথা ‘স্বীকার’ করলেন মুন্না

প্রকাশিত: ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৩:০৯:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

রাজধানীর সো’হরাওয়ার্দী হাসপাতালের ম’র্গে মৃত নারীদের ধ’র্ষণ করার অভিযোগে গ্রে’ফতার মুন্না ভগত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রো’পলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ শু’ক্রবার (২০ নভেম্বর) এ জবান’বন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের জিআর শাখার নিবন্ধন কর্মক’র্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস’আই) মনির আসাদ এ ত’থ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডো’ম জতন কুমার লালের ভাগিনা মুন্না ভগত। তি’নি মামার সঙ্গেই ওই হাসপাতাল ম’র্গে সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দুই-তিন বছর ধরে মুন্না মর্গে থাকা মৃত না’রীদের ধর্ষণ করে আসছিল। এ অভিযোগের সত্য’তা পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) তাকে আটক করে সি’আইডি। মু’ন্নাকে ধরতে বিশেষ কৌশল নিতে হয় সিআইডিকে।

জিআর সূত্রে জা’না যায়, শুক্রবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রে’ফতার মুন্না ভগতকে আদালতে হাজির করেন। এসময় মুন্না স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি থাকায় তা রেকর্ড ক’রার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আ’দালত ভগতের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারা’গারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অনুসন্ধানে নেমে সিআ’ইডি জানতে পারে, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতা’ল মর্গের মূল ডোম রজত কুমার। তাকে সহায়তা করে আরও ৫/৬ জন।  তার মধ্যে র’জতের ভাগ্নে মুন্না ভগত রাতে মর্গের পাশে’ই একটি কক্ষে থাকে। মুন্নাকেই সন্দেহ হয় সিআইডির। গুমের শিকার হওয়া এক যুবকের স্বজন সেজে মুন্নার সাথে সখ্য’তা গড়ে তোলেন সিআইডির দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন জানান, বেশ কয়েক’দিন লাগাতার তারা মুন্নাকে ফলো করতে থা’কেন। রাতে মুন্নাই থাকে এটি নিশ্চিত হতে তারা রাত ১টা বা ২টায়ও মর্গে গিয়ে’ছেন। ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন এই চেহা’রার কোনো লাশ মর্গে এসেছে কিনা। সম্পর্ক গাঢ় হলে, কৌশলে মুন্নার পান করা সি’গারেটের ফিল্টার সংগ্রহ করেন তারা। ফি’ল্টার থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ’র সাথে মিলে যায় ওই পাঁচ কিশোরীর দেহে পা’ওয়া ডিএনএ’র।

এর আগে, ১০ নভেম্বর সি’ইডির ফরেনসিক ল্যাবের বিশ্লেষকরা নড়েচড়ে বসেন। ‘কো’ডেক্স’ নামে যে সফটঅয়্যারে ডাটা বিশ্লেষণ করা হয় সেটি সংকে’ত দেয় যে ৫টি মৃতদেহে এক ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গে’ছে। পাঁচ ভিক্টিমই কিশোরী। তাদের বয়স যথাক্রমে- ১১, ১৩, ১৪, ১৬ এবং ১৭ বছর। এগুলোই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা। ৫টি আ’ত্মহত্যার ৪টি মিরপুর এবং ১টি ঘটেছে মোহাম্মদপুর এলাকায়। ২ টি ঘটে’ছে ২০১৯ সালের মার্চ ও অক্টোবর মাসে। বাকি তিনটির একটি এ বছরের মার্চ ও ২টি আগস্ট মাসে ঘটেছে। সময়, এলাকা, বয়’স ও লিঙ্গ একই ধরনের হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সি’আইডির ধারণা হয় ভিক্টিমরা কোনো সিরিয়াল কিলারের শিকার।

২০১৫ সালে হাইকোর্ট এক আ’দিবাসী নারীর অপমৃত্যু মামলার রা’ এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দেন। তাতে বলা হয়, কোনো নারীর অপমৃত্যু হলে, তাদের যৌনা’ঙ্গ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে সংরক্ষণ ও বিশ্লে’ষণ করতে হবে। দেখতে হবে অপমৃত্যুর আগে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি’না। তারপর থেকে সিআইডির ফরেনসিক ল্যা’ব আদালতের নির্দেশ মেনে আসছে।

সিআইডির এক ক’র্মকর্তা জানান, শিগগিরই ওই সিরিয়াল কিলার আরও হত্যা’কাণ্ড ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে তদন্তে নামেন তারা। তারা মো’হোম্মদপুর ও কাফরুল থানায় হওয়া ৫টি অপমৃত্যুর মামলা’র তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। তাতে তারা জানতে পারেন, ৫টি মা’মলার ভিক্টিমের সুরতহালে কোনো ধরনের জোরজ’বরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রতিটি ঘটনাকে আত্মহত্যা ব’লা হয়েছে।

এছাড়া, প্রত্যেক ভিক্টি’ম দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ৩টি’ ঘট’নায় স্বজনদের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার ক’রেছে। সব মিলিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আ’সেন তাদের প্রাথমিক ধারণা ভুল। এর’পরই ওই অভি’নয়ের আশ্র’য় নেয় সিআইডি।