চট্টগ্রামে দিনদুপুরে স্কুলছাত্র খুন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:২৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮
চট্টগ্রামে দিনদুপুরে স্কুলছাত্র খুন

ট্টগ্রামে দিনদুপুরে রাস্তায় ছুরিকাঘাতে আদনান ইসফার (১৫) নামের এক স্কুলছাত্র খুন হয়েছে। দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে।

আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নগরের কোতোয়ালি থানাধীন জামাল খান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আদনানের বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব তিন শ গজ। আদনান চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। কেন, কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, সে ব্যাপার আদনানের স্বজন ও সহপাঠীরা কোনো ধারণা করতে পারছে না।

আদনান চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির শাহনগর এলাকার আখতার আদনান আজমের ছেলে। আখতার খাগড়াছড়িতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ও তাঁর পরিবার নগরের জামাল খান এলাকায় আম্বিয়া সেরিন নামের একটি বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। এক ছেলে এক মেয়ের মধে৵ আদনান ছোট। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছেন তার মা-বাবা ও স্বজনেরা।

আজ বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা গেল আদনানের ফুফু গুলজার আক্তারকে। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের একটা মাত্র ছেলেকে মেরে ফেলল। ভাইরে কে দেখবে।’

আদনানের খালু মাহাবুবুল আলম বলেন, কারও সঙ্গে আদনানের পরিবারের কোনো বিরোধ নেই। আদনান পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলত। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কোনো বিরোধে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, তাঁরা জানেন না। এ রকম কিছু আদনান তাঁদের কখনো জানায়নি। একই কথা বলেন নিহত আদনানের খালাতো ভাই জাবেদ ওমর।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নগরের জামাল খান এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের চার ছাত্র হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তারা প্রথম আলোকে জানায়, বেলা আড়াইটায় স্কুল ছুটির পর তারা বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়ায়। রাস্তার বিপরীত দিকে দেখতে পায় তাদের বন্ধু আদনানকে। চার থেকে পাঁচজন যুবক তাকে ধাওয়া করছে। একজনের হাতে পিস্তল এবং আরেকজনের হাতে ছুরি। আদনান দৌড়ে আইডিয়াল স্কুলের সামনে থেকে জামাল খান মোড়ে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে পর্যন্ত যায়। এর মধ্যে পিঠে ছুরিকাঘাত করে ওই যুবকেরা চলে যায়। কয়েক মিনিটের মধে৵ ঘটনাটি ঘটে যায়। পরে হামলাকারীরা চেরাগী মোড়ের দিকে চলে যায়। কিছু লোক জড়ো হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

মঙ্গলবার স্কুলে যায়নি আদনান। বাসা থেকে বের হয়ে সে রাস্তায় আসে। তবে কেউ তাকে ফোন করে ডেকেছে নাকি স্বেচ্ছায় রাস্তায় আসে, তা জানাতে পারেননি স্বজনেরা। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী পথচারী মো. সাদমান বলেন, এক কিশোরের প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে দেখেন তিনি। অটোরিকশায় তুলে দিতে সাহায্য করেন তিনি। এ সময় তাঁর হাতে রক্ত লেগে যায়।

আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক এমরান হোসেন বলেন, রাস্তায় রক্তাক্ত পড়ে থাকা অবস্থায় এক কিশোরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার পর আদনানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আদনানের মৃত্যু হয়। তার পিঠ ও কোমরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আদনানের মামা আবুল কালাম বলেন, কেন কী কারণে তাঁর ভাগনেকে খুন করা হয়েছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। জেএসসি পরীক্ষায় আদনান জিপিএ-৫ পায়।

বিকেলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। কী কারণে এই খুন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • প্রথম আলো