টিউশন ফি ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্য কোনো ফি নেয়া যাবে না

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

করোনাকালে শি’ক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আ’র্থিক ক্ষতির সম্মুখীন থাকা অভি’ভাবকদের ছাড় দিয়ে স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের শুধুই টিউ’শন ফি নেওয়ার নির্দেশ দি’য়েছে সরকার। তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃ’ভর্তি, গ্রন্থাগার, বি’জ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি নেওয়া যাবে না বা নিলেও তা ফেরত দিতে ‘বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ ‘শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার মাধ্যমিক ও উ’চ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অ’ধ্যাপক ড. সৈয়দ মো . গোলাম ফা’রুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দে”শনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে’ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠা’ন বন্ধ আছে। তবে এরই মধ্যে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভি’শনে প্রচারিত ক্লাসের পাশাপাশি বেশি’রভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও কিছু শিক্ষা প্রতি’ষ্ঠান তা ভা’লোভাবে করতে পারেনি। এক’ইভাবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এসব অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পেরেছে, কিছু শিক্ষার্থী পারেনি। যাই হোক, সার্বিক বিবেচনায় আ’মাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে উদ্ভূত এ পরিস্থিতির স’ঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে শিক্ষার্থী’দের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

তবে শিক্ষার্থীদের টিউ’শন ফি নিয়ে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিভাব’কদের মতদ্বৈততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু অভিভাবক বলছেন একদিকে স্কু’ল বন্ধ ছিল আর অন্যদিকে এ করোনার সময়ে তারা আ’র্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অতএব তাদের পক্ষে টিউশন ফি দেওয়া স’ম্ভব নয়। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তা’রা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। উপরন্তু প্রতি’ষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের বে’তন ও স্কুল রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে তাদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় কর’তেই হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থা’য় আমাদের যে’মন অভিভাবকদের অসুবিধার কথা ভাব’তে হবে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ বা অকার্যকর হ’য়ে না যায় কিংবা বেত’ন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন যে’ন সঙ্কটে পতিত না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।
পূর্বাপর বিষয়গুলো বি’বেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শি’ক্ষা অধিদপ্তরের আও’তাধীন বেসরকারি মাধ্যমিক শি’ক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো (এমপিওভুক্ত ও এমপি’ও বিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থে’কে টিউশন ফি নেবে। কি’ন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পু’ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজি’ন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি নিতে’ পারবে না বা নিয়ে ‘থাকলে তা ফেরত দেবে অথবা তা ‘টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করবে।

এছাড়া অ’ন্য কোনো ফি যদি অব্যয়িত থাকে তা একই’ভাবে ফেরত দেবে বা টিউশন ফির সঙ্গে সমন্বয় করবে। ত’বে যদি কোন অভিভাবক চ’রম আর্থিক সঙ্কটে থাকেন, তাহলে ওই শি’ক্ষার্থীর টিউশন ফির বিষয়টি শিক্ষা প্র’তিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নেবেন। এখানে উ’ল্লেখ্য, কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কো’নো কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষ’য়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আ’রও বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুতে যদি কো’ভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তা’হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কা’ছ থেকে এমন কোনো ফি যেমন টিফিন, পুনঃ’ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগা’জিন, উন্নয়ন নেবে না, যা ওই নির্দিষ্ট খাতে শিক্ষার্থীদে’র জন্য ব্যয় করতে পারবে না। তবে পরি’স্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আ’গের ন্যায় সব ধরনের যৌক্তিক ফি নেওয়া যাবে।