গুগল ম্যাপে ধরা পড়ল বাংলাদেশি সেই জাহাজ

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২০ | আপডেট: ১০:৫৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০২০

নিষিদ্ধ নর্থ সে’ন্টিনেল দ্বীপে গুগল ম্যাপের মা’ধ্যমে একটি জাহাজের মাস্তু’লের সন্ধান পাওয়া গে’ছে। তা নি’য়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। র’হস্য খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল বাং’লাদেশ কেন্দ্রিক এক শিহরণ জাগানো গল্পের স’ন্ধান।

আন্ত’র্জাতিক গণমাধ্যম এক্সপ্রেস এক প্র’তিবেদনে জানিয়েছে, ১৯৮১ সা’লে বাংলাদেশ থেকে পোলট্রির খা’বার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাও’য়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়েছিল জা’হাজটি। তখন সেখানকার উপ’জাতিরা জাহাজে আক্রমণ চালায়! সে স’ময় জাহাজের কর্মীরা পরিস্থিতি জয় করে প্রাণ নিয়ে’ বাঁচতে পারলেও জাহাজটি আর আ’না সম্ভব হয়নি।

মূ’লত সেই জাহাজের ছবি স’ম্প্রতি গুগল ম্যাপের ক্যা’মেরার মাধ্যমে ধারণ ক’রেছেন এক ব্য’বহারকারী।

জা’না গেছে, ১৯৮১ সালের ২ আ’গস্ট মধ্যরাতের ঠিক আ’গে পানামানিয়ান-নিব’ন্ধিত মালবাহী জ’লযান ‘প্রাইমরোজ’ ব’ঙ্গোপসাগরের প্রবাল প্রাচীরে আ’টকে যায়। মাত্র কয়েক গ’জ দূরেই শুকনো জ’মি, পরিষ্কার পানি, দূ’রে ঘন জঙ্গল দেখে তা’র আশার পা’লে হাওয়া লাগে।

এই জায়’গাটিতে জাহাজ ডোবার সম্ভাবনা নেই বলে অ’পেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা’তে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের দেখতে পান। কি’ছুদিন পর এক তরুণ নাবিক প্রাইমরোজের ওয়া’চ টাওয়ার থেকে দেখেন, এক ‘দল মানুষ তাদের দিকে এগিয়ে আসছেন। তাদের ধার’ণা ছিল, শিপিং কোম্পানি হয়তো উদ্ধারে লো’ক পাঠিয়েছে। এর’পর লোকগুলোকে আরও ভালো করে খেয়া’ল করতে থাকেন।

তারা আ’কারে ছোট, সুগঠিত, এলোমেলো চু’ল। দেখতে কা’লো। পরনে চি’কন একটা বেল্ট ছাড়া কি’ছুই নেই। সবার হা’তে বর্শা এবং তীর। তখ’নই জাহাজের নাবিকেরা ভ’য় পেয়ে যান।

এ সময় ও’য়ারলেস অপারেটর সাহায্য প্রা’র্থনা করলে বার্তা যায় হংকং’য়ের রিজেন্ট শিপিং কোম্পানির অ’ফিসে। প্রাইমরোজের ক্যাপ্টেন দ্রু’ততম সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র চান। তিন বলে’ন, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে যেন অ’স্ত্র দেয়া হয়।

বার্তাটি ছি’ল এমন, হিংস্র মানুষেরা আ’সছে, আনুমানিক ৫০ জন। সবা’র হাতে অস্ত্র। আমাদের মে’রে ফেলবে। জী’বন হুমকির ‍মুখে।

উপ’জাতিরা নাবিকদের হামলা করার স’ময় আবার সেই ঝড় শু’রু হয়, যে ঝড়ে জাহাজটি প্র’বালে আটকে পড়েছিল। ঝড় এবার নাবিক’দের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দে’য়। প্রবল বাতাসে উপজা’তিরা তীর-ধনুক দিয়ে সুবিধা ক’রতে পারেনি। জাহাজের দিকে ছোঁড়া স’ব অস্ত্র বাতাসের তোড়ে অন্য দি’কে চলে যায়। এভাবে ‘কেটে যায় ২৪ ঘণ্টা। নাবিকেরা ভে’তর থেকে কুড়াল, বিভিন্ন ধরনের পা’ইপ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন।

ধীরে ধীরে হং’কংয়ের মাধ্যমে এই খবর বিভিন্ন দেশে ছ’ড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক সপ্তাহ প’র ভারতের নৌবা’হিনী হেলিকপ্টার দিয়ে বিপদগ্রস্ত না’বিকদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ধীরে ধী’রে শান্ত হয় দ্বীপটি। কিন্তু পা’নির বুকে পড়ে থাকে প্রাই’মরোজ।

ভৌগোলিক সী’মারেখার মানদণ্ডে এই দ্বীপটি মূ’লত ভারতের। ভারত সরকার শ’ত চেষ্টা করেও দ্বীপে তাদে’র নাক গলানোর সুযোগ করতে পারেনি। শে’ষমেশ ভারত বাধ্য হয়ে’ই আইন করে দিয়েছে, ‘লেট দে’ম লিভ অ্যালোন’। তাই কে’উ এখন আর তাদের নির্জনতা, গো’পনীয়তা, রহস্যময়তা, স্বাধীন’তা ও স্বকীয়তা ভঙ্গ করার কো’নো অধিকার রাখে না। দ্বী’পের বাসিন্দারাও সেই অধিকার কা’উকেই দিতে চায় না।

তাত্ত্বিকদের মতে, দ্বীপ’টির বয়স প্রায় ৬০ হাজার বছ’র। আয়তন ৭২ বর্গ’কিলোমিটার। তারা কী খায়, কী ভা’ষায় কথা বলে, সেটি এখনো অজানা।