শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা: মামলার পর মারধরে গ্রামছাড়া পরিবার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৫৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০১৭
শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা: মামলার পর মারধরে গ্রামছাড়া পরিবার

নাটোরের সিংড়ায় শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ গ্রাম্য মাতবরদের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার। মামলার পরপরই ওই নির্যাতিত শিশুর বাড়িতে হামলা করে পরিবারের কয়েকজনকে বেধরক পিটিয়েছেন অভিযুক্ত গ্রাম্য মাতবররা। এরপরই তারা গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

সিংড়া থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি গ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সত্তর বছরের বৃদ্ধ আফসার আলী। ওই দিন রাতেই গ্রাম্য শালিসে ৪ হাজার টাকা জরিমানার মধ্যে ৩ হাজার টাকার মিষ্টি বিতরণ করে বিষয়টি রফাদফা করেন ৯ সদস্যর শালিসি বোর্ডের গ্রাম্য মাতব্বররা। পরে বুধবার নারী-শিশু নির্যাতন আইনে সিংড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত শিশুর মা।

এদিকে মামলার পর বুধবার রাতেই ওই নির্যাতিত শিশুর বাড়িতে জামাল ও মকলেছের নেতৃত্বে হামলা করেন অভিযুক্ত গ্রাম্য মাতব্বররা। এসময় নির্যাতিত শিশুর মা ও চাচাকে বেধরক পিটিয়ে আহত করেন গ্রাম মাতব্বররা। তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দেন। এরপর থেকেই ভীত সন্ত্রস্ত নির্যাতিত পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। হামলায় আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্যাতিত শিশুর মা সাংবাদিকদের বলেন, মামলা তুলে নিতে প্রতি নিয়তই হুমকি দেয়া হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়া হয়েছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, শিশু শিক্ষার্থী ধষর্ণের চেষ্টায় নারী-শিশু নির্যাতন আইন ও ঘটনা ধামা-চাপা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর ইকবাল বাবুসহ সাতজনকে অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, এটা একটি সমাজের অবক্ষয়। আর এই অবক্ষয় রোধে জোড় চেষ্টা ও তৎপর রয়েছি।

এবিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজ আলম মনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, এই ধরনের ঘটনা গ্রাম্য শালিসে মীমাংসা করার সুযোগ নাই। আর যারা এই ধরনের অপরাধের বিচার শালিস করে তারাও অপরাধে শামিল।

নির্যাতিত পরিবারকে মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আইগত সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, এবিষয়ে নারী-শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের আটকের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।