দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ১:৫৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮
দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে

আগামী দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে। রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন হবে পরিবারভিত্তিক। এতিম ও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে জন্ম নেয়া শিশুদের ক্ষেত্রে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হবে।

আজ মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডাব্লিউজি) প্রথম বৈঠক শেষে চূড়ান্ত করা ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে এ সব কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আর মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশ¯্র বাহিনী বিভাগ, সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদফতর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা ছিলেন।

ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট অনুযায়ী, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ পাঁচটি ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করবে। রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করার জন্য মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র নির্মাণ করবে। উত্তর রাখাইনে হ্লা পো খাউং এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী শিবির গড়ে তোলা হচ্ছে। মিয়ানমার দ্রুততার সাথে এই শিবির নির্মাণ কাজ শেষ করবে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পরিচয় যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসনের জন্য দুটি পৃথক করিগরী কমিটি গঠন করা হবে।

জেডাব্লিউজি বৈঠকে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফরম চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রত্যাবাসনের জন্য খুঁটিনাটি দিকগুলো ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে রয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ¯্রােত বন্ধ করতে মিয়ানমার তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। মিয়ানমারের সাথে ইতোপূর্বে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও জেডাব্লিউজির টার্মস অব রেফারেন্স (কার্যপরিধি) অনুযায়ী ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে সই হওয়া এমওইউ অনুযায়ী জেডাব্লিউজি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, রাখাইন রাজ্যে পুনর্বাসন এবং মিয়ানমার সমাজে পুনঃএকত্রিকরণের পদক্ষেপ নেবে। জেডাব্লিউজি সার্বিক প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবে এবং নিজ নিজ দেশের সরকারকে তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে। প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আগ্রহী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

গত ২৫ আগস্টের পর আসা সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা এবং ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরের পরে আসা ৮৭ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য বিবেচনায় নেয়া হবে। এর আগে থেকে বাংলাদেশে বসবাস করা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা চলমান প্রক্রিয়ায় বিবেচনার বাইরে থেকে যাবে। রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শর্তগুলো এমওইউতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষেত্রে দ্বিমত থাকলে মিয়ানমারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগ্রহের কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। ৫০০ হিন্দুর সাথে সমসংখ্যক মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে দেশটি। প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতার পর বাদবাকি রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশ যত দ্রুত সম্ভব এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করবে।