হোটেল-রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকি চলছেই

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০৩:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

মনবীর সোহান: বরিশালসহ সারাদেশে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে ভ্যাট ফাঁকি বেড়েই চলেছে। ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট নিয়েও জমা দিচ্ছে না সরকারি কোষাগারে। কেউ কিছু দিচ্ছে, অনেকে একেবারে দিচ্ছে না। অথচ ভোক্তার কাছ থেকে ঠিকই কড়ায়গণ্ডায় ভ্যাট আদায় করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ভ্যাট আদায় করার ক্ষেত্রে নানা দুর্বলতা রয়েছে। আছে নানান অভিযোগও। তবে অভিযোগ যাই থাকুক না কেন, লোকসান হচ্ছে সরকারের। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ এবং ক্রেতার অজ্ঞতাকে পুঁজি করে দিনের পর দিন ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো। ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ভ্যাট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় হোটেল মালিকরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। বলা হয়, তাদের লাভের বড় অংক আসে ভ্যাট থেকে।

এদিকে বেশির ভাগেরই আবার ব্যবসা করার অনুমোদন নেই। রীতিমতো আবাসিক এলাকার মধ্যে এভাবে রমরমা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চলছে নির্বিঘ্নে। শহরের আশপাশে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে তো ভ্যাট দেয়ার কোনো বালাই নেই। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই পকেটস্থ করছে। যার বেশির ভাগ হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর ব্যবসা করার অনুমোদন নেই। আবার ভ্যাট আইনে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর ক্ষেত্রে ইসিআর (ইলেকট্রিক ক্যাশ রেজিস্টার) মেশিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। ক্রেতাদের ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) চালান দেয়া হলেও মেশিন ফিসক্যাল করা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে সাদা কাগজে, নিজস্ব প্যাডে খাবারের দামের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়, যা আইনসিদ্ধ নয়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আস্থায় নিতে কম্পিউটারের বিলের কপিতে ভুয়া বিআইএন ব্যবহার করছেন। এক্ষেত্রে ভ্যাটের পুরো অর্থ নিজের পকেটে ঢুকানো হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলে দাখিলপত্রে শীততাপহীন হিসেবে নিবন্ধিত। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছে সাড়ে ৭ শতাংশ। এসব কারসাজির ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাত থেকে কাংক্ষিত অংকের ভ্যাট আদায় করতে পারছে না সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি সরকার ১১টি ব্যবসা ও সেবার ক্ষেত্রে ইসিআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে। এগুলো হচ্ছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আসবাবপত্র বিপণন কেন্দ্র, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিং সেন্টারের দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং স্বর্ণ ও রুপার দোকান। কিন্তু এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও সরকার রাজস্ব আয় থেকে পেছনে পড়ে গেছে।

একাধিক ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে কাংক্ষিত অভিযান পরিচালনা এবং মনিটরিং করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি জনবল চেয়ে এবং ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার হলেও নিয়মিত দাখিলপত্র পেশকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার। তাই রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও নিরীক্ষার মাধ্যমে অনিয়ম থামাতে আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট গোয়েন্দার অতিরিক্ত মহাপরিচালক বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভাবনার ৫০ শতাংশ ভ্যাটের আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। মালয়েশিয়া ৩ বছর আগে ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পর দেশটির রাজস্ব আদায়ের চিত্র বদলে গেছে। ভবিষ্যতে ভ্যাট হবে অডিটনির্ভর। তাই সঠিকভাবে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভ্যাট গোয়েন্দার জনবল কম। তাই সারা দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় খোলার জন্য ১৩৬০ জনের জনবলের প্রস্তাব এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন কমিশনার এবং ১ জন চিফ কমিশনার থাকবে।

তিনি অারও বলেন, ভবিষ্যতে ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে ভ্যাট পরিশোধ করছে না সেখানে কর্মকর্তাদের বসিয়ে দেয়া হবে। তারা বিক্রির রেকর্ড সংগ্রহ করবে। ভ্যাট গোয়েন্দার ফেসবুক পেজে সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।