চীননির্ভরতা কমাতে ভারতের সাবমেরিন!

প্রকাশিত: ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০ | আপডেট: ৩:৩৬:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

মিয়ানমারকে গত ১৯ বছর ধরে অস্ত্র ও সাম’রিক সরঞ্জামের ৪২ শতাংশের জোগান দিয়েছে চীন। রাশিয়া দিয়েছে ৪৩ শতাংশ। রাশিয়া নিয়ে এই অঞ্চলে আপাতত দুশ্চিন্তা নেই—এমন প্রেক্ষাপটে চীনের দিকে দৃ’ষ্টি রেখে মিয়ানমারকে সাবমে’রিন দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির এই নৌ কূটনীতি তার বড় পরি’সরে ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষ্য পূর’ণে সহযোগিতা করবে বলে বি’শ্লেষকরা আশা করছেন। এশিয়াভিত্তিক বিশ্বের সর্ববৃহৎ অথ’র্নীতিবিষয়ক ম্যাগাজিন নিক্কেই এশিয়ায় এক বিশ্লেষণে এমনটা বলা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমার ভারতের সা’বমেরিন পেলে স্ট্র্যা’টেজিকভাবে বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিশ্লেষণ চ’লছে। ভারতের প্রতিরক্ষা ও স্ট্র্যা’টেজিক বিশ্লেষক এন সি বি’পিন্দ্রর বরাত দিয়ে নিক্কেইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘ল’ক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রতিবেশী ‘বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের কাছ থে’কে দুটি মিং-ক্লাস ডিজেল-ইলেকট্রিক সাব’মেরিন কেনার পর মিয়ানমার ওই সা’বমেরিনগুলো (ভারতের কাছ থেকে) কে’নার পরিকল্পনা নেয়। ঘটনাচক্রে, চীনের সহযো’গিতায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নি’র্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে বাং’লাদেশের।’

চীনের কাছ থেকে বাংলা’দেশের সাবমেরিন কেনা নিয়ে ভারতের গ’ণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উদ্বেগের ছাপ ছিল। গত বছর বাংলাদেশ উপকূলে রাডার ব্যব’স্থা স্থাপনের বিষয়ে বাং’লাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মার’ক (এমওইউ) সই হয়।

মিয়া’নমারকে ভারত তার যে ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমে’রিন দিয়েছে, তার নাম ছিল আইএনএস সিন্ধুবীর। এটি ভারতের প্রথম সাবমেরিন, যা ১৯৮৮ সালে ভারতের নৌ’বাহিনীতে কমিশন লা’ভ করে। রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিরক্ষা জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ডে এটি ন’তুন করে সাজানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৮ নটিক্যাল মা’ইল গতিতে এটি ৩০০ মিটার গভীরেও চলাচল করতে পারে। মিয়ানমারের নৌবা’হিনীতে ওই সাবমেরিনের না’ম দেওয়া হয়েছে ‘ইউ’এমএস মিন এ থেইন খা থু’।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অ’নুরাগ শ্রীবাস্তব সম্প্রতি এক ব্রি’ফিংয়ে বলেন, সমুদ্র খাতে সহযোগিতা মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের বৈচিত্র্যময় ও বর্ধিত সম্পৃক্ত’তার অংশ। ভারত এরই প্রেক্ষা’পটে মিয়ানমার নৌবাহি’নীকে কিলো-ক্লাস সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুবীর দিয়েছে।

ভার’তের সেনাপ্রধান জেনারেল ম’নোজ মুকুন্দ নারাভানে ও পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত ৪ ও ৫ অক্টোবর মিয়ানমার সফর করেন। এই সফর ঘিরে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গত ১৫ অক্টোবর মিয়া’নমারের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ভারতে’র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাবমে’রিন উপহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক’ভাবে জানায়।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেনস ইনফরমেশন গ্রুপের তথ্য অ’নুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনী যে অনুশীলন করেছে, তা’তে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভারতের দেওয়া সাব’মেরিন। সম্ভবত গত ফেব্রুয়ারি মাসে তা ভারতকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেনসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত তা’র প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চীনের’ প্রভাব কমাতে আগ্রহী। নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে মিয়ারমার এখন চীন ও ভা’রত—দুই দেশের কাছ থেকেই সহজ শর্তে ও ঋণে সামরিক সরঞ্জাম পাচ্ছে।

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মিয়ানমারে ভারতের স্বা’র্থ রয়েছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব চায়নিজ স্টাডিজের ভিজিটিং অ্যাসোসিয়েট ফেলো শামসাদ ‘আহমাদ খানের মতে, মিয়ানমারকে ভারতের সাবমেরিন প্রদান চীনের আগ্রাসন মোকাবেলায় একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বলে মনে হ’চ্ছে। এর মাধ্যমে ভারত স্পষ্টতই তার পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চীনের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বাড়ানোর চেষ্টা ক’রছে। চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে কয়ে’ক মাস ধরে বিরোধ ও উত্তেজনার মধ্যে চীনের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি তার নিরাপত্তা ও প্রতি’রক্ষা অংশীদারদের সক্ষমতা বাড়া’নোর দিকেই দৃষ্টি দিচ্ছে।

ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ডিফেন্স ও স্ট্র্যা’টেজিক স্টাডিজের অধ্যাপক পঙ্কজ ঝার মতে, মিয়ানমার এখন সব সামরিক সরঞ্জাম চীনের কাছ থেকে কিনতে চা’য় না। এটি বেইজিংয়ে উদ্বে’গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীনের কাছ সাবমেরিন পাচ্ছে। এখন মিয়া’নমারকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্র’তিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হলে অবশ্যই তার অন্য ধরনের সাবমেরিন প্রয়োজন।

অধ্যাপক পঙ্কজ ঝা বৃহৎ পরিসরে বঙ্গোপ’সাগরে চীনকে ঠেকাতে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে এই অঞ্চলের সব দেশের নৌবাহিনীর শক্তি বা’ড়ানোর বিষয়ে গু’রুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারত এই অ’ঞ্চলে শুধু মিয়ানমার নয়, অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা জো’রদার করছে।