বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট

প্রকাশিত: ১১:৩২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩২:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

আগামী বছরের শু’রুতেই অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যা’ন্ডসেট বন্ধে প্রযুক্তি বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটি’আরসি। প্রযুক্তিটি চালু হলে গ্রাহকের হা’তে থাকা এসব হ্যান্ডসেটে কোনো অপারেটরের সিমই চলবে না। ২০১২ সা’লে উদ্যোগ নেওয়ার প্রায় ৮ বছ’র পর এই প্রযু’ক্তি বাস্তবায়ন কর’তে যাচ্ছে নি’য়ন্ত্রক সংস্থা।

বিটি’আরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক গণমা’ধ্যমকে বলেন, ‘অবৈধ মোবাইল হ্যান্ড’সেট বন্ধ করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্র’যুক্তি সরবরাহ ও পরিচালনার দরপত্র প্রক্রি’য়া প্রায় শেষের দিকে। আগামী বছর শুরু থেকে এ প্রযুক্তি বা’স্তবায়ন শুরু হবে।’

বিটিআ’রসি চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮, ২০১৯ এ’বং ২০২০ সালের অগাস্ট না’গাদ মোট ১১ কোটি ৮২ লা’খ ২৩ হাজার ৭৬৩টি আ’ইএমইআই নম্বর ডেটাবেইজে যু’ক্ত করা হয়েছে। মোবাইল ফোন আ’মদানিকারক, অপারেটর ও দে’শে হ্যান্ডসেট প্র’স্তুতকারী প্রতি’ষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য নি’য়ে এ ডেটাবেইজ তৈরি ক’রা হয়েছে।

২০১৮ সা’লের আগে যেসব হ্যান্ডসেট বি’ক্রি হয়েছে এবং আইএমইআই নম্বর ডে’টাবেইজে যুক্ত হয়নি এনইআ’ইআর চালু হলে সে’গুলোর কী হবে জানতে চাইলে বিটি’আরসি প্রধান বলেন, ‘২০১৯ সালের অ’গাস্টের আগে ক্রয়কৃত যেসব সেট মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে যু’ক্ত আছে সেসব হ্যান্ডসেটগুলোকে নির্ধারিত সম’য়ের জন্য নিবন্ধিত করার একটা সু’যোগ দেওয়া হবে।’

বিদেশ থে’কে হ্যান্ডসেট নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলে’ন, ‘সেক্ষেত্রে ক্রয়ের রশি’দ ও আনুষঙ্গিক কাজগপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পরবর্তীতে এনইআইর চা’লু হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সে’সব আইএমইআই নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হবে।’

বিটি’আরসি জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া শু’রু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেটে প্রাথমিকভাবে নি’র্দিষ্ট একটি সিম ছাড়া অন্য কোনো সিম কাজ করবে না। নি’র্দিষ্ট সময় পরে কোনো সিমই কাজ ‘ক’রবে না। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে’ই নকল বা অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার বন্ধ করবেন।

স’রকারি কোনো পরিসংখ্যান না থা’কলেও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, দে’শে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি অ’বৈধ হ্যান্ডসেট মানুষের হাতে রয়েছে। নকল মোবাইল সেট বৈধের সু’যোগ, অবৈধ আমদানি, চুরি, স্বাস্থ্য ঝুঁ’কি ও নকল হ্যান্ডসে’ট প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত, রা’জস্ব ক্ষতি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ক’থা জানিয়ে আসছে বিটি’আরসি। খসড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অপারেটররা তাদের লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী সব মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইএম’আই নম্বর দিয়ে এই ডেটাবেইজ তৈ’রি করবে।

ইএম’আই নম্বর হল ১৫ ডিজিটের একটি স্বত’ন্ত্র সংখ্যা, যা বৈধ মোবাইল ফো’নে থাকে। একটি মোবাইল ‘ফোনের কি-প্যাডে *#06# পরপর চাপলে ওই মোবাইল ফো’নের বিশেষ এই শনাক্তকরণ ন’ম্বরটি পর্দায় ভেসে উঠে। অপারে’টরদের ইআইআর তৈরির পর তা জা’তীয় ইআইআর (এনইআইআর) এ সংযু’ক্ত হবে। এর ফলে সব অপারে’টরদের ইআইআর খুব সহজেই নজরদারি করতে পারবে বিটি’আরসি। ইআইআর ও এনই’আইআর বাস্তব সময় সিঙ্ক্রোনা’ইজেশন হবে অর্থাৎ ইআইআরে ডেটা সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা এন’ইআইআরে চলে আসবে।

গ্রাহকে’র হাতে যেসব নকল বা অ’বৈধ হ্যান্ডসেট রয়েছে, এই প্রক্রিয়া শুরু করা’র ছয় মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট সিমে তা চালু রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছি’ল। অর্থাৎ যে সিমে মোবাইল চা’লু থাকবে সেই সিমের মাধ্য’মেই তা নিবন্ধিত ধরে নেওয়া হবে। ছয় মাস পর কোনো নকল, অবৈ’ধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন হ্যা’ন্ডসেটে সিম কাজ করবে না।

মোবা’ইল হ্যান্ডসেট আমদানি’কারকদের সংগঠন বাংলাদশে মো’বাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসি’য়েশনের (বিএমপিআইএ) যুগ্ম স’ম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন গ’ণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে যে’গুলো তৈরি হচ্ছে ও আমদানি হ’চ্ছে তার ইএমইআই ডেটা বিটিআর’সিতে জমা দেওয়া হচ্ছে। সবাই এখন ডে’টাবেইজে আপলোড করছে। এনই’আইআর শুরু হলে অবৈধ হ্যা’ন্ডসেট বন্ধ হলে বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য সু’যোগ বাড়বে।’

বিটি’আরসি বার বার সতর্কতা জানিয়ে বলে আসছে, মো’বাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে আই’এমইআইর মাধ্যমে সে’টটির বৈধতা যাচাই করে নিতে হবে। বি’ক্রেতার কাছ থেকে হ্যান্ডসেট কেনার র’শিদ নিতে হবে।

মো’বাইল ফোনের বৈধতা যাচাই’য়ের পদ্ধতি হল মোবাইল ফোনের ম্যা’সেজ অপশনে গিয়ে KYD স্পেস ১৫ ডিজিটের আইএম’ইআই নম্বর লি’খে 16002 নম্বরে পাঠাতে হবে। মো’বাইল ফোনের প্যাকেটে প্রিন্টেড স্টি’কার থেকে অথবা *#06# ডায়াল করা’র মাধ্যমে তাৎক্ষণিক’ভাবে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসে’টের আইএমইআই জা’না যাবে।