ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা নিয়ে চীনের সন্দেহ

প্রকাশিত: ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৪:১৮:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরা’ষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগে সন্দেহ পো’ষণ করছে চীন। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি’মিং সুস্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার চীনবিরো’ধী প্রচারণায় বাংলাদেশকেও টানার চেষ্টা কর’ছে।

গত শুক্রবার চীনের গ্লোবাল টাইমস পত্রি’কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎ’কারে চীনের রাষ্ট্রদূত ওই অভিযোগ ক’রেন। গ্লোবাল টাইমস গতকাল শনিবার সেই সা’ক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।

চীনের রাষ্ট্রদূ’তের দাবি, দেশটির দ্রুত ও শান্তি’পূর্ণ অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পা’রছে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে শীতল যুদ্ধকালীন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জা’নান।

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবে’দনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূ’ত এমন এক সময় ওই অভিযোগ করেছেন যখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা বর্তমান দশ’কের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। যুক্তরা’ষ্ট্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত লি জি’মিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মূল কার’ণ হলো তারা চীনের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত অগগ্রতি মেনে নিতে পারে না। চীনের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে কিছু রা’জনীতিক (যু’ক্তরাষ্ট্রের) ‘শীতল যুদ্ধের’ পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে অন্য দেশকে চীনবিরোধী শিবিরে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছে।’

চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে গ্লো’বাল টাইমসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে’র মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররা’ষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও পররাষ্ট্র’মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মা’র্ক অ্যাসপার গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধা’নমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেখানে যুক্তরা’ষ্ট্র স্পষ্টভাবেই তাদে’র সঙ্গে বাংলাদে’শকে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ‘জোরদার করতে বলেছে। এ মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের পররা’ষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বি’গান বাংলাদেশ সফর ক’রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’সহ অন্যান্যের সঙ্গে ‘ইন্দো-প্যা’সিফিক স্ট্র্যাটেজি’ নিয়ে আলো’চনা করেছেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘এস’ব বৈঠক থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট যে যু’ক্তরাষ্ট্র তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে অব্যা’হতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকার ঢাকায় কূটনৈতি’ক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারি সূত্র’গুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ত’বে তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানি’য়েছে যে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান হলো সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা এবং কারো বিশে’ষ বলয়ে না যাওয়া।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল ‘মোমেন স’ম্প্রতি  বলেছেন, বাংলাদেশে’র পররাষ্ট্রনীতির মূল কথাই হ’লো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। বাং’লাদেশের সঙ্গে সবার সুস’ম্পর্ক ও বন্ধুত্ব রয়েছে। ও’ই দেশগুলোর নিজেদের ম’ধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু এর প্রভাব বাংলাদেশের সঙ্গে তাদে’র সম্পর্কে পড়েনি।