ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিষ্পত্তিতে মালয়েশিয়াকে ৩ বিলিয়ন ডলার দিবে গোল্ডম্যান

প্রকাশিত: ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৪:৩৩:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

ওয়ানএমডিবি তহবিল কেলেঙ্কারি নিষ্পত্তিতে মালয়েশিয়াকে ৩ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস।

বৃটিশ গণমাধ্যম বলছে, ব্যাং’কটির মালয়েশীয় সহায়ক প্রতিষ্ঠান এরই ম’ধ্যে মার্কিন আদালতে স্বীকার করেছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলে অর্থ উত্তোলনের কাজ পেতে তারা ১ বি’লিয়ন ডলারেরও বেশি ঘুষ’ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিষ্পত্তির খব’রটি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয়ের (ডিওজে) কর্মকর্তারা জানান, গোল্ডম্যান স্যাকস এমন একটি প্রকল্প এগি’য়ে নিতে সহায়তা করেছে, যা’র কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের ভার’প্রাপ্ত স’হকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান র্যাবিট বলেন, এই কেলে’ঙ্কারির কারণে বড় আকারে ক্ষতির মুখে পড়েছে মালয়েশিয়ার সাধারণ মা’নুষ, যারা মনে করেছিল তা’দের ভালোর জন্যই এই তহ’বিল গঠন করা হচ্ছে। কিন্তু এর বেশিরভাই কিছু দুর্নী’তিবাজের পকে’টে গিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন ক’র্মকর্তারা বলেন, বড় আকারের দুর্নীতিতে গোল্ড’ম্যান স্যাকস যে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, এর মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবশ্য গোল্ডম্যান নিজে’দের ব্যর্থতা স্বীকার করে এ’টিকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে।

ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিষ্প’ত্তিতে সব মিলিয়ন প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার জ’রিমানা দিতে হয়েছে গোল্ডম্যানকে। এটা তাদের (গোল্ডম্যান স্যাকস) ২০১৯ সালের মুনাফার দুই-তৃ’তীয়াংশের সমান। ওই দু’র্নীতির কারণে ব্যাংকটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক’দের হুমকিতে পড়েছে মা’র্কিন এই ব্যাংকটি।

গোল্ডম্যান স্যাকস বলছে, ‘জরিমানার ওই অর্থ সংগ্রহে নির্বাহী পর্যায়ের ক’র্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রণোদনা থেকে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার কেটে নে’য়া হবে। এর মধ্যে অবস’রপ্রাপ্ত শীর্ষ নির্বাহী লয়েড ব্ল্যাংকফেইনও রয়েছেন, যা’র সময়কালে ওই কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘ’টেছে।

এক বিবৃতিতে ব্যাং’কটি জানায়, ওয়ানএমডিবি ইস্যুকে প্রা’তিষ্ঠানিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে পরিচালনা প’র্ষদ এবং ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের যে উ’চ্চ ধারণা রয়েছে, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব’লেও মনে করছে।

মা’লেয়শিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ওই তহবিল থেকে চুরি হ’ওয়া অর্থ ও অর্থে কেনা সম্পদ, গহনা ও চিত্র’কর্ম উদ্ধার করতে কয়েক বছর ধ’রে কাজ করে যাচ্ছে এশিয়া, যুক্ত’রাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন তদারকি সংস্থা।

ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি:
মা’লয়েশিয়ার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বিনি’য়োগের লক্ষ্যে গড়ে তোলা তহবিল হ’ল ওয়ানএমডিবি (ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ)। এই তহবিল নিয়ে বি’লিয়ন ডলারের জালিয়াতির ঘটনা স’ব মহলকে নাড়িয়ে দেয়। ওই তহবিলের অর্থ সঠিক কাজে ব্যয় না করে সাবেক প্রধান’মন্ত্রী নাজিব রাজাকসহ তা’র কাছের মানুষ নিজেদের প’কেটে ভরেছে বলে অভিযোগ উঠে।

গত জুলা’ইয়ে সাতটি অভিযোগের সবগু’লোতেই দোষী সাব্যস্ত হন সাবে’ক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। কোটি কোটি ডলারের ওইসব মামলার একটির রায়ে ১২ বছরের কারা’দণ্ডও হয় তার। আস্থা ভঙ্গ, অ’র্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে নি’জেকে নির্দোষ ‘দা’বি করে ওই রায়ের ‘বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তি’নি।

ওয়ানএমডিবি হি’সেবে পরিচিত ওই রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিলের জ’ন্য ২০১২ ও ২০১৩ সালে সাড়ে ৬ বি’লিয়ন ডলার সংগ্রহে সহায়তার সময় গোল্ডম্যান স্যাক’সের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভি’যোগ উঠে।