বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ১২:৪৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

লালমনিরহাটের কালী’গঞ্জ উপজেলার কাকিনায় ট্রেন মিস করা সেই কিশোরীকে (১৫) গণ’ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ নুরুকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্র’বার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তা’কে গ্রেফতার করা হয়।

কালীগঞ্জ থা’নার ওসি আরজু মো. সাজ্জাত এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রে’ফতার নুর মোহাম্মদ নুরু কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের তা’লুক বানিনগর এলাকার মজিবর রহ’মান মজির ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা’ যায়, পাটগ্রাম উপজেলার এক কি’শোরী গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় লালমনিরহাটগা’মী আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে কাউনিয়ার উদ্দে’শে রওনা হয়। ট্রেন কালীগঞ্জের কাকিনা স্টে’শনে দাঁড়ালে ওই কি’শোরী নাস্তা করতে নামে।

সেসময় রকি (২২) নামে পরি’চয় দিয়ে অটোরিকশার চালক কিশোরীর ‘কাছে জানতে চান সে কোথায় যাচ্ছে। তখন মেয়েটি তাকে কাউনিয়া যাচ্ছে বলে জানায়। রকিও নিজেকে কা’উনিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেলে রকি অটোরিকশায় করে ‘কাউনিয়া যাবেন এবং সেই অটোরিকশায় মেয়েটিকে বা’ড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিশ্রুতি মো’তাবেক রকি ওই কিশোরীকে নিয়ে কাউনিয়া যাওয়ার কথা বলে’ নিজের অটোরি’কশায় বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মধ্য রাতে একটি সেচ পাম্পের নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে র’কি ও তার তিন বন্ধু মিলে কিশোরীকে গণ’ধর্ষণ ক’রেন। বিষয়টি দেখে ফেলে অপর এক’টি গ্রুপের তিন যুবকও কিশোরীকে পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে। পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে মুখ না খোলার শর্তে কিশোরীকে মুক্তি দেন বখা’টেরা।

পরে অসুস্থ অবস্থায় কি’শোরী পথ ভুল করে চলার পথে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি তাদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। তারপর স্থানীয়দের সহায়তায় এক গ্রাম্য পু’লিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় মেয়েটি। ৮ অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতবররা বৈঠকে বসে ধ’র্ষণকারী যু’বকদের শনাক্ত করে মোটা অঙ্কের টা’কা জরিমানা আদায় করেন। তবে কিশোরীর অভিযোগ, টাকাগু’লো তাকে না দিয়ে নিজেদের প’কেটেই রাখেন মাতবররা।

জরিমানার টাকা কি’রীকে না দিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে পথ খরচ দুই হাজার টাকা দিয়ে মাতবররা তাকে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করে মেয়েটি। পরে ৯ অক্টোবর রাতে স্থা’নীয়দের মাধ্যমে কিশোরী কালীগঞ্জ প্রে’সক্লাবে আশ্রয় নেয়। প্রেসক্লাবে ঘটনার লোমহর্ষক এ বর্ণনা শুনে সাংবাদিকরা থানায় জানা’য়। এর পরপরই কিশোরীকে উ’দ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং পরে মেয়েটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে ওইদিন রা’তেই মূলহোতা অটোচালক রকিকে আটক করা হয়।

রকির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশো’রী বাদী হয়ে সাতজন ধর্ষক, ইউপি সদস্যসহ ১০ জ’নের নাম উল্লেখসহ আরও চার/পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেয় পু’লিশ।

গোপন ‘খবরের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানার একটি দল’ নারায়ণগঞ্জের ফতু’ল্লায় অভিযান চালিয়ে সং’শ্লিষ্ট থানা পুলিশের স’হায়তায় এ মামলার প্র”ধান আসামি নুর মোহাম্মাদ নুরুকে গ্রে’ফতার করে।

এদিকে, শুক্র’বার রাতেই গ্রেফতারকারী টিম নুরু’কে কালীগঞ্জ থানায় পৌঁছে দে’ওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন। এ নি’য়ে আলোচিত এ মা’মলায় এজাহার নামীয় ১০ আসামির মধ্যে দুই’জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পু’লিশ।

কা’লীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ’রজু মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মূ’লহোতা রকির পরে গ’ণধর্ষণ মামলার এক নম্বর আসামি নুরুকে ফ’তুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আ’সামিদের গ্রেফতারে অভিযান চ’লমান রয়েছে।