পাঁচ টুকরো করে হত্যা; আরও ২ আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ১২:৩৮:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

নোয়াখালীর সু’বর্ণচরে নুর জাহানকে (৫৭) পাঁচ  টুকরো করে হ’ত্যার ঘটনায় ওই মামলার পলাতক বাকি ২ ‘আ’সামিকে গ্রেফতার ক’রেছে জেলা ডিবি পুলিশ।  এই দুই আ’সামি গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এ মা’মলার সকল আসামিকে পুলিশ গ্রে’ফতার করতে সক্ষম হয়।

এর আগে, পু’লিশ এ মামলায় ৫ জনকে গ্রে’ফতার করে বিচারিক আদালতের মা’ধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে।  বৃ’হস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে সুবর্ণচর উপজেলার চ’রজব্বর এলাকা থেকে তাদের দু’জনকে আ’টক করা হয়।

শু’ক্রবার  সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা ডিবির প’রিদর্শক মো. জাকির হোসেন  এ ত’থ্য নিশ্চিত করেন। তিনি আরো জা’নান,  গ্রে’ফতারকৃত দুই আসামিকে ৫ দিনের রি’মান্ড চেয়ে শুক্রবার দুপুরে আ’দালতে সোপর্দ করলে আদালত আ’গামি রবিবার রিমান্ড শুনানির আ’দেশ দিয়ে আসামিদের কা’রাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।  সা’থে সাথে এ আসামিদের রি’মা’ন্ড শুনানির সময় আ’দালতে হাজির করার জন্য কারা ক’র্তৃপক্ষকে আদেশের অনুলিপি পৌঁ’ছানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

গ্রে’ফতারকৃতরা হলো, হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৬নং আ’সামি চরজব্বর ইউনিয়নের জাহাজমারা এ’লাকার মৃ’ত মমিন উল্লার ছেলে মো.ইসমাইল (৩৫), মা’মলার ৭নং আসামি চরজব্বর ইউ’নিয়নের জাহাজমারা এলাকার মারফত উ’ল্লার ছেলে মো. হামিদ (৩৪)।

উল্লেখ্য, নোয়া’খালীর সুবর্ণচর উপজেলা চর’জব্বর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নুরজাহান বেগম (৫৭) না’মে এক নারীকে পাঁচ টুকরো করে হ’ত্যার ঘটনার রহস্য উ’দঘাটন করেছে পুলিশ। নি’হতের ছেলে হুমাযুনসহ তার ৭ সহযোগী মিলে ভিকটিমকে হ’ত্যা করে খণ্ডিত টু’করোগুলো পাওনাদারদের ধান ক্ষে’তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে।

নৃশংস র’হস্যাবৃত এ হত্যার ঘটনায় প্রথমে ভি’কটিমের ছেলে হুমায়ুন কবির হুমা (২৮) বা’দী হয়ে থানায় একটি মাম’লা দায়ের করে। মামলার সূ’ত্র ধরে পুলিশ তদন্তে নামলে হত্যার সাথে সরাসরি স’ন্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এক’ইসাথে তার সাথে তার ৭ স’হযোগী মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে নি’শ্চিত হয় পুলিশ।

এর মধ্যে গ্রে’ফতারকৃত আসামিদের মধ্যে চারজন আ’দালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ’কই সাথে আটক নিহতের ছেলের বন্ধু নিরব ও কসাই নুর ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হ’ত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি, বা’লিশ, কোদাল, ভিকটিমের ব্য’বহৃত কাপড় উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার  সকাল ১১টায় নো’য়াখালী পুলিশ সুপার অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্চের ডি’আইজি মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জা’নান।

জানা যায়, নিহত না’রীর ছেলে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্ব পরি’কল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত নারীর দুই সংসারের দুই ছেলে ছিল। আগের সংসারের ছেলে বেলাল তার মা ভিকটি’মকে জিম্মা রেখে এলাকার বিভিন্ন মানু’ষের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা সুদের উপর ঋণ নেয়। ঋণ রেখে দেড় বছর আগে বেলা’ল মারা যায়। এরপর বেলালের ঋণের টা’কা পরিশোধ করার জন্য তার পরের সংসারের ভাই হুমা’য়নকে পাওনাদাররা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। হুমায়ন তার মাকে এ বিষয়ে অবহিত করে। তার মা ভিকটিম হুময়ানকে তার ১৩ শতক জমি বিক্রি করে এ ঋণ পরিশো’ধ করার জন্য বলে। হুমা’য়ন প্রতি উত্তরে তার মাকে জানান মায়ের মালিকানাধীন ১৪ শতক ও বেলালের স্ত্রীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি বি’ক্রি করে বেলালের ঋণ পরিশোধ করা হোক। এতে তার মা’য়ের জোর অ’সম্মতি ছিল।

অপর’দিকে ভিকটিম তার ভাই দুলালের কাছে ৬২ হাজা’র ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। ‘পাওনা টাকা পরি’শোধ করার জন্য সে ভাইকে প্রায় চাপ প্রয়োগ করত। এ কা’রণে হুমায়নের মামাতো ভাই কালাম ও মা’মাতো বোনের জামাই সুমন ভিক’টিমের উপর বে’জায় রুষ্ট ছিল। এ ছাড়াও ভিক’টিমের বাড়ির পাশের প্রতিবে’শী ইসমাইল ও হামিদের বে’লালের জমির প্রতি লোভ ছিল। তাই তারাও হুমায়নকে প্রত্যক্ষ হত্যাকান্ডে সহ’যোগীতা করে।

হুমা’য়ন জবানবন্দিতে জা’নান, বেলালের স্ত্রীর জমি থে’কে ২শতাংশ হামিদকে বাকী ৮শ’তাংশ ইসমাইলকে দেওয়া হবে বলে মৌখিক ভাবে সি’ন্ধান্ত হয়েছে। তারপর মায়ের জমি সমা’ন ৫ ভাগে ভাগ করে হুমায়ন, নোমান, সুমন, কালা’ম ও কসাই নুর ইসলামকে দেওয়া হ’বে। এ প্রতিশ্রুতিতে সকল ব্য’ক্তিরা গত (৬ অক্টোবর ) সন্ধ্যায় বা’ড়ির পাশে একটি ব্রিজের উপর বসে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে। পরে হু’মায়ন, কালাম, সুমন ও অন্যান্য আসামিদের স’হযোগীতায় ঐ রাতের ‘কোন এক সময়ে ঘরের মধ্যে বালিশ চা’পা দিয়ে ভিকটিমকে হ’ত্যা করে বটি, চাপাতি, কোদাল দিয়ে ৫ খ’ন্ড করে পাওনাদারদের ধা’ন ক্ষেতে শরীরের ৫ টুকরো ছ’ড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তা’রা।