কার্তিকের বৃষ্টিতে আষাঢ়ে গগণ! বিপর্যস্ত জীবন জীবিকা

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩০:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০
এআর সোহেব চৌধুরী চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘূচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে চলছে ৪-নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতভোর থেকে চলছে মুশলধারে বৃষ্টি।
ধারাবাহিক সারাদিনের বর্ষণে দেখা মেলেনি সূর্যের।
কার্তিক মাসের এ বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছে অফিসগামী ও খেটে খাওয়া জনসাধারণকে।
রাতভোরের এ বৃষ্টিতে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনেও সমস্যায় পড়েন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
তবে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও উপজেলার সরকারি প্রতিষ্টানের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিলো বলে প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে।
সিপিপি’র চরফ্যাশন উপজেলার উপ-পরিচালক এম মোকাম্মেল হক লিপন জানান, সকল নৌযানকে পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ ভোলার উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর স্থানিয় হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান,এ ধরণের বৃষ্টিপাতসহ বৈরি আবহাওয়া আরো দুই একদিন থাকতে পাড়ে।
ভারি বৃষ্টির জন্য সকাল থেকেই চরফ্যাশনের সকল রাস্তাঘাট ফাকা ছিলো। খুব জরুরি কাজে দু’একজন ছাড়া বের হয়নি কেউ। এছাড়াও উপজেলা সদরসহ অন্যান্য হাটবাজারের বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। নিম্নচাপ থাকায় চরফ্যাশনসহ ভোলা থেকে নৌ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলেও জানা যায়।
থানা রোড এলাকার  ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না কমায় দোকানে কোনো ক্রেতা আসেনি।
রিকশাওয়ালা হেলাল বলেন, দুপুরে রাস্তায় বের হয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছি। বাড়ি বসে থাকলে তো আর পেট চলবেনা।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অনেকেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না খোলায় জরুরী প্রয়োজনে অনেক ক্রেতা সাধারণ বাজারে এসেও পায়নি কাঙখীত পণ্য সামগ্রী।
ভোলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসগারে সৃষ্ট লঘূচাপের ফলে গত বুধবার দিবাগত রাত থেকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি চলমান থাকে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৫.১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। আগামী দুই একদিন এ ধরণের বৃষ্টিপাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইন জানান, উপজেলার হাজার হেক্টর জমির ফসল ও ক্ষেত খামার ভারি বর্ষনে নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন মিনার বলেন, মেঘনা ও তেতুলিয়ায় ২২দিনের অবরোধ চলায় জেলেরা নদীতে যায়নি তবে মৎস্য খামারিদের শত শত খামার ও পুকুর তলিয়ে গিয়েছে।