ভিড়ই ভয় কলকাতার পূজা আয়োজকদের

প্রকাশিত: ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০ | আপডেট: ৪:২৩:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

তৃতীয়া পেরিয়ে চতুর্থীর অ’পেক্ষায় শারদীয় দুর্গা উৎসবে অপেক্ষারত বাঙালি। এ’বার যতটা না উৎসব ততটাই পূজার দিকে ঝুঁকছেন সবাই।

কলকাতার পূজার আয়োজনগুলো এর ব্য’তিক্রম নয়। উৎসবের আমেজকে জিইয়ে রে’খেই কোভিড বাস্তবতায় পূজা নজর কা’ড়বে বলে দাবি আয়োজকদের। তবে আ’য়োজকরা কিন্তু এবার ভিড়কেই ভয়ের চোখে দেখ’ছেন। কারণ এবার তো ভি’ড়ের অপর নাম করোনা, তাই ভি’ড়কেই ভয় পাচ্ছেন কলকাতার পূজার আয়োজকরা।

দৃশ্যপট – ১
উ’ত্তর কলকাতা নাকি দক্ষিণ কলকাতা, ক’লকাতার কোন দিকের পূজায় বেশি ভিড় থাকে- এনিয়ে তু’মুল চর্চা থাকে প্রতি বছর । পূজার আ’য়োজকদের প্রধান লক্ষ্য থাকেই দুর্গা উৎসবের শহরে জ’নপ্লাবন নিজেদের মণ্ডপে উপচে ফে’লার। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মণ্ডপে ম’ণ্ডপে ভিড় বাড়ানোর লক্ষ্য নেই কোনও আয়ো’জকের। বরং প্রতিমা দর্শন করতে আসাদের জন্য রয়েছে মণ্ডপের পথে ঢুকতে দূরত্ব মে’নে দাঁড়ানোর ফরমান। রয়েছে এই ধরণের সে’নিটাইজেশনের বড় গেট।

কথা হয় ক’লকাতার একজন পূজার আয়োজক অরূপ বি’শ্বাসের সঙ্গে। বললেন, ‘দেখুন এটা বলাই বা’হুল্য ভিড় মানেই তো করোনা। তাই এই ভি’ড়টা বাজার হোক কিংবা পূজা ম’ণ্ডপের সামনে। বিশ্বজুড়ে এই ভিড় এড়ানোর যু’দ্ধে সবাই সামিল। আমরা কেন ব্য’তিক্রম হবো, পূজা মণ্ডপ বলে ভি’ড় হবে এটা মানা সম্ভব নয়।’

আর অন্য দিকে পূ’জার আয়োজন মানেই দৃ’ষ্টিনন্দন মণ্ডপ, আলো আয়োজন এটাও বা’দ দেওয়া সম্ভব নয়। বছ’রের এই কটা দিন বা’ঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব এই দূ’র্গাপূজা। তাই এই ট্রে’ডিশনও থাকবে।

তবে ভিড় এড়াতে বি’জ্ঞান সম্মত সব পন্থায় আমরা অ’বলম্বন করছি। মণ্ডপের লাই’ভ ভিডিও স্ট্রিমিং থাকবে ইউ’টিউব, ফেসবুকে তাই যারা ঘ’রে বসে দেখতে চান পূজার পুরো আ’য়োজন দেখতে পারবেন তারা। আর যারা একান্তই মণ্ডপে আ’সবেন, তাদের তো আমরা বা’ধা দিতে পারবো না, তাই তাদের প্র’ত্যেকেই দূরত্ব বিধি মেনে উপযুক্ত সে’নিটাইজেশন করে ম’ণ্ডপের ভেতর এবং বা’ইরের লাইনে দাঁড়াতে হবে।

দৃশ্যপট -২
দক্ষিণ ক’লকাতার যে কয়টি বড় পূজা হয় এর মধ্যে বলা’র অপেক্ষাই রাখে না চেতলা অ’গ্রণী এবং সুরুচি সংঘের এই পূজা দুটো। এবারও তাদের মণ্ডপ শৈলীতে কো’নও ত্রুটি চোখে পড়বে না কারোরই।  দুটি পূজা মমতা ঘনিষ্ঠ দুইজন প্র’ভাবশালী মন্ত্রী বলা ভালো তৃণ’মূল নেতার পূজা। প্রতি বছর গড়ে ৩ থে’কে ৪ লক্ষ দর্শনার্থী আসেন এই পূজা ম’ণ্ডপ গুলোতে। এবার গড়ে কত জ’ন আসবেন ? কত জন প্র’ত্যাশা করেন ?

এই প্রশ্নের উত্তরে আ’য়োজকরা বলছেন, পূজার আয়োজন ক’রেছি দর্শনার্থী আসবেন এটা মাথায় রেখেই। কি’ন্তু ভিড় করা যাবে না। দূরত্ব মা’নতেই হবে। সব নিয়মকানুন মেনে যারা আ’সবেন তাদের জন্য কিন্তু নিখাদ পূজার আ’নন্দটাই থাকবে।

দৃশ্যপট -৩
অনেকেই ম’ণ্ডপে প্রতিমা রাখলেও বিশেষ গাড়ি করে পা’ড়ায় পাড়ায় দশভুজাকে নিয়ে ঘুরবে, যতে ভি’ড় না তৈরি হয় মণ্ডপের সামনে। আবার ‘অনেকেই পূজার ভিড় এ’ড়াতে এখনই বেরিয়ে পড়েছেন ঠা’কুর দেখতে।

পূজা ম’ণ্ডপের বাইরে প্রতিমা নিয়ে ঘু’রার এই অভিনবত্বের কারণ একটাই, কো’ভিড। ওই পূজা মণ্ডপের আ’য়োজক তমাল কুমার সাহা জানালেন, যা’রা কোভিড বিধি মেনে মণ্ডপে আ’সবেন তাদের জন্য আমরা বাংলার ছয় জেলার হ’স্তশিল্পদের নানা কাজ নিয়ে তৈরি থিম দে’খার সুযোগ থাকবে। কিন্তু আ’মরা বলবো বাড়ির বা’রান্দা থেকে পূজা দেখুন, তা’দের জন্য আমরা নিজেরাই পা’ড়ায় পাড়ায়, মোড়ে মোড়ে প্রতিমা নিয়ে ঘু’রবো। ভিড় এড়াতে এটাই যৌক্তিক পন্থা বলেও দা’বি তাদের।

শেষ কথা,
রোববার (১৮ অক্টোবর) ভারত স’রকার দাবি করে, ভারতের করোনা পি’ক অতিক্রম করেছে। দু’র্গাপূজার সময় সবাইকে ভি’ড় এড়া’নোর পরামর্শ দেওয়া হয় সর’কারের পক্ষ থেকে। নইলে আবার ভা’রতকে সেই করোনার পিক-দৃ’শ্য দেখতে হবে।

মানে ভিড় বা’ড়লেই যে ভারতে আবার করোনা সং’কট দেখা দিবে সেটা আর বলার অ’পেক্ষা রাখে না। এবার দে’খার, বাঙালি সত্যিই এই শ্রে’ষ্ঠ উৎসব শারদীয় দু’র্গাপূজায় বাঙালির চিরা’চরিত রাত জেগে, ভি’ড় ঠেলে প্রতিমা দেখার অভ্যাস থেকে ক’তটা বের হতে পা’রেন। বলা ভালো সংযম দেখাতে পা’রেন।