দুই সুপার ওভারের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয় পাঞ্জাবের (ভিডিও)

প্রকাশিত: ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৫:৩৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০২০

আ’ইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং মুম্বাই ইন্ডি’য়ান্সের মধ্যে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী হ’লো দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকে’ট স্টেডিয়াম। দুই সুপার ওভারের দ্বিতীয়টি জিতে শেষ হাসি হেসেছে লো’কেশ রাহুলের কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব।

৪০ ওভার শেষে স্কোর টাই। প্র’থম সুপার ওভার শেষেও স্কোর টাই। দ্বি’তীয় সুপার ওভার শেষে ২ বল হাতে রেখেই জ’য়ের দেখা পায় পাঞ্জাব।

এক ম্যাচেই জোড়া সুপার ওভার দেখার ‘বিরল সৌভাগ্য এর আগে কখ’নোই হয়নি ক্রিকেটভক্তদের। তার’চেয়েও বড় কথা, একদিনে দুই ম্যাচ মিলে তিন সু’পার ওভার, এ তো মহাবিরল ঘটনা! টি-টোয়েন্টি ‘ক্রিকেটের ইতিহাসেই এমন ঘটনা এই প্রথম।

এমনই অ’দ্ভুত এক ক্রিকেটীয় দিন দেখা গেল রবিবার। দিনের প্র’থম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে সুপার ওভারে হারিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সেই রোমাঞ্চ হারিয়ে যাওয়ার আগেই রাতে দ্বি’তীয় ম্যাচে সুপার রোমাঞ্চ নিয়ে হাজির ‘কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্য’কার ম্যাচ। যেখানে দুই সুপার ওভারের ল’ড়াইয়ে জয়ের মালা গলায় পড়ল পাঞ্জাব।

নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দ’লের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৬ রানে। এরপর প্রথম সুপার ও’ভারে শুরু’তে ব্যাট করতে নেমে ২ উই’কেট হারিয়ে ৫ রান তুলতে পারে পাঞ্জাব। মুম্বাইয়ের পেসার বুমরাহর বলে রান তুলতে রীতিমত হিমশিম খান পাঞ্চাবের ব্যাটসম্যানরা। ও’ভারের দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন পাঞ্জবের পুরান। শে’ষ বলে বিদায় নেন রাহুল নিজেই। প্রথম সুপার ওভা’রে গেইলকে কেন নামানো হলো না সে এক বিরাট প্রশ্ন থেকে যাবে।

এদিকে জবাব দিতে নেমে পাঞ্জাবের মো’হাম্মদ শামির গোলার সামনে খাবি খেতে থাকেন মুম্বাইয়ের ডি কক-রোহিত শর্মারা। প্রথম ৫ বলে আসে মাত্র ৪ রান। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। কভার অঞ্চল দিয়ে বল পা’ঠিয়ে দিয়েই রানের জন্য দৌড়ান ডি কক। প্রথম রান ঠিকমতো নিতে পারলেও পরের রান নি’তে গিয়ে রান আউট। আবার সুপার ওভার!

আইপিএলের টুই’ট অনুযায়ী, প্রথম সুপার ওভারে যে যে ব্যা’টসম্যান ও বোলার অংশ নিয়েছিলেন তারা দ্বিতীয় সুপার ওভারে অংশ নিতে পারবেন না। অর্থাৎ দুই দলের ৬ জন করে ১২ জনকে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু এমসিসি’র নি’য়ম বলছে, সুপার ওভারে আউট হওয়া ব্যাটসম্যানরাই শুধু নামতে পার’বেন না। এই নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হলো মাঠেই। শেষ পর্যন্ত মু’ম্বাইয়ের ‘অব্যবহৃত’ পোলার্ড নামলেন হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে। পাঞ্জাবের পেসার জর্ডানের করা ও’ভারের চতুর্থ বলে দুই রান নিতে গিয়ে পান্ডিয়া বিদায় নে’ওয়ার পরের দুই বল থেকে আর মাত্র ২ রান তুলে মুম্বা’ই। যদিও শেষ বলে লং অনে তু’লে মেরেছিলেন পোলার্ড, কিন্তু অবি’শ্বাস্য দক্ষতায় সীমান্ত থেকে বল ফেরত পাঠান আ’গারওয়াল। পাঞ্জাবের সামনে লক্ষ্য দাঁড়া’য় ১১ রান।

দ্বি’তীয়বার সুপার ওভারে ব্যাট করতে নেমে আগে’রবারের ভুল এবার আর করেনি পাঞ্জাব। গেইলকে স্ট্রাইকে পাঠিয়ে দেওয়ার ফল হাতেনাতে পেয়ে যায় দলটি। বোল্টের করা ওভারের প্রথম ব’লেই বিশাল ছক্কা মারেন ইউনিভার্স বস। পরের ‘বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন আগারওয়ালের কাছে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাউ’ন্ডারি মারেন আগারওয়াল। চতুর্থ বলে আবা’রও বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শে’ষ করেন তিনি। পাঞ্জাব পেয়ে যায় ঐতিহাসিক এক জয়।

এর আগে টসে জি’তে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কুইন্টন ডি ক’কের ৫৩ ও কাইরন পোলার্ডের ১২ বলে ৩৪ রানে’র ঝড়ের ওপর ভর করে পাঞ্জাবের সামনে ১৭৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল মুম্বাই।

জবাব দিতে নেমে শুরুতে ময়াঙ্ক আ’গারওয়ালকে (১১) হারালেও একপ্রান্তে রানের চাকা সচল রা’খেন পাঞ্জাব অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। আগের ম্যাচেই ফিফটি হাঁকানো ক্রি’স গেইল এদিন নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ২১ বলে’ মাত্র ২৪ রান করেছেন এই ক্যারিবীয় দানব। ১২ বলে ২৪ করে বিদায় নেন নিকোলাস পুরান। আবারও ব্যর্থ হয়ে’ছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।

রাহুল দীপক হুডাকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যা’চ্ছিলেন। কিন্তু দলিয় ১৫৩ রানের মাথায় ‘রাহুল (৭৭) বিদায় নিলে প্রমাদ গুনতে থাকে পাঞ্জাব। তবে ক্রিস জর্ডান ও হুডা মিলে দ’লকে স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। শেষ ওভারে পাঞ্জাবের দরকার ছিল ৬ বলে ৯ রান। ট্রেন্ট বোল্টের করা শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে লক্ষ্যটা কমিয়ে আনেন জর্ডান। শেষ ৩ বলে ল’ক্ষ্য দাঁড়ায় ৩ রান। কিন্তু চতুর্থ বলে দারুণ এক ইয়র্কার ছুড়েন বোল্ট। এরপর সিঙ্গেল নেন হুড়া। ১ ব’লে চাই ২ রান। কিন্তু আবারও ইয়র্কার। এবার কোনোমতে লেগ সা’ইডে ব্যাট হাঁকিয়ে দে ছুট। কো’নোমতে ১ রান নিলেও তড়িঘড়ি ছুট’তে গিয়ে পোলার্ডের থ্রোয়ে রান আউটের শিকার হন জর্ডান। এ’রপর জোড়া সুপার ওভা’র!