ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে সাগরকন্যার রূপ-সৌন্দর্য্য

মনিরুল ইসলাম মনিরুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮
ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে সাগরকন্যার রূপ-সৌন্দর্য্য

পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে সাগরকন্যার রূপ আর সৌন্দর্য্য। দীর্ঘ দিন ধরে পর্যটন নগরী কুয়কাটায় এ অবস্থা চলে আসলেও অপসারন বা প্রতিরোধে নেই সংশ্লিস্টদের কোন কার্যকরী উদ্যোগ। কুয়কাটার সৌন্দর্যহানির এমন কালচারে বিরক্ত পর্যটক। হতাশ এবং ক্ষুদ্ধ ক্ষুদ্র পর্যটন ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষ।

সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, উপজাতি রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, কৃস্টি কালচার আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সারা বছরই কুয়কাটায় থাকছে পর্যটকদের উপস্থিতি। চাহিদার তুলনায় অবাসন সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক পর্যটকের ক্ষোভ থাকলেও কুয়কাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ তারা। নিরাপত্তা আর ভাললাগার টানে অনেকেই বার বার ছুটে আসেন এখানে। পর্যটকদের চাহিদা আর উপস্থিতি বিবেচনায় কুয়কাটাকে একটি অর্ন্তজাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে রূপদানে সরকার গ্রহন করেছে নানা পরিকল্পনা। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে খুব শীঘ্রই র্নিমান হচ্ছে পর্যটক পার্ক। যেখানে থাকছে কটেজ, সৈকতে সাতারের পর নারী পর্যটকদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য একাধিক কক্ষের ওয়াশরুম, একটি উম্মুক্ত মঞ্চ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ তথ্য সরবরাহের জন্য হেলপ ডেস্ক।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, আবাসিক হোটেল-মোটেলসহ খাবার হোটেলের সেবার মানোন্নয়ন ও মূল্য পর্যটকদের সাধ্যের মধ্যে রাখতে প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত করা হচ্ছে মনিটরিং। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং ভ্রমন বিড়াম্বনা বিবেচনায় শৃঙ্খলার আওতায় আনা হয়েছে টুরিজম ব্যবসায়ীসহ মোটর সাইকেল চালক ও ফটোগ্রাফাদের। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মাস্টারপ্লানের আওতায় পর্যায়ক্রমে কুয়াকাটায় নির্মাণ করা হচ্ছে বিমান বন্দর, ওয়াচ টাওয়ার, আধুনিক হাসপাতাল, সুপার মার্কেট, জাদুঘর, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয়, প্লে-গ্রাউন্ড, কনভেনশন সেন্টার, ফায়ার সার্ভিস, হিস্টরিক সাইট, বাসটার্মিনাল, ইকো পার্ক, মৎস্য মার্কেট, মেরিন পার্ক, মেরিন ড্রাইভ ও টেনিস পার্ক।
কিন্তু এত সবের পরেও কুয়কাটার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসহ জিরো পয়েন্টে অবাধে ব্যানার, পোস্টার এবং ফেস্টুনের ব্যাবহারের কারনে হচ্ছে কুয়কাটার সৌন্দর্যহানি। এতে ক্ষুদ্ধ এবং বিরক্ত অনেক পর্যটক। নওগাঁ থেকে আসা পর্যটক দম্পত্তি সইফুল ইসলাম ও তামান্না খানম বলেন, কুয়কাটার অপার সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ। পরিবারের সবাই মিলে এবার নিয়ে চারবার এলাম। কিন্তু দিনদিন ব্যানার, ফেস্টুনে হারিয়ে যাচ্ছে কুয়কাটার প্রাকৃতিক রূপ। খুলনা থেকে আসা পর্যটক খালিদ হোসেন, রাজশাহীর হাফিজ আহমেদ, ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীরা একই প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, মনে হচ্ছে কুয়কাটা নয়, পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন দেখতে এসেছি। তারা মতামত ব্যক্ত করে বলেন, বীচসহ দৃস্টি নন্দন সব এলাকা এর ব্যবহার কুয়কাটার স্বার্থে বন্ধ করা উচিৎ।

এবিষয়ে কথা হলে কুয়কাটা পৌর কাউন্সিলর শাহ-আলম বলেন, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনের সংস্কৃতি ছিল, আছে, থাকবে। তবে পর্যটন নগরী বিবেচনায় কুয়াকাটায় এর ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। পর্যটক কুয়কাটার প্রান। তারা বিরক্ত হয় এমন কাজ আমাদের পরিহার করা উচিৎ। কুয়কাটা পৌর কাউন্সিলর তোফায়েল আহমেদ তপু বলেন, কুয়কাটার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃস্টি রয়েছে। কাজ করে যাচ্ছেন। সেখানে পর্যটকদের বিরক্ত করে এমন কালচার করা উচিৎ নয়। পর্যটকরা আমাদের অতিথি। তারা হাসি মুখে আসবে, কুয়াকাটার ভাললাগা আর ভালবাসা নিয়ে হাসি মুখে চলে যাবে। মেয়র আ. বারেক মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার নজরে পরছে । এ গুলো আপসরনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির রহমান বলেন, সাইনবোর্ড, ফ্যাস্টুন, ব্যানার সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে।