৩০ টাকার ওপরে বিক্রি করা যাবে না আলু

প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | আপডেট: ১:৩৯:পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

প্রতি কেজি আ’লুর খুচরা, পাইকারি ও হিমাগার এই তি’ন পর্যায়ে দাম বেঁধে দিয়ে, ওই দা’মে নি’ত্যপ্রয়োজনীয় সবজি’টির বিক্রি নি’শ্চিত করতে সারা দে’শের জেলা প্রশাস’কদের চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদ’ফতর। কৃষি পণ্যের বা’জার নিয়ন্ত্রণে কাজ করা স’রকারি এই সংস্থাটি কেজিপ্রতি আলুর দা’ম হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাই’কারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং খু’চরা পর্যায়ে ৩০ টা’কা নির্ধারণ করে দি’য়েছে।

উল্লে’খিত মূল্যে কোল্ডস্টোরেজ, পাইকারি বিক্রে’তা এবং ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা বিক্রে’তাসহ তিন পক্ষই যাতে সবজিটি বিক্রয় করেন সেজন্য কঠোর মরিটরিং ও নজর’দারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়ে’ছে সম্প্রতি ডিসিদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে।

কৃ’ষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতি’দিনকে বলেন, গত কয়েক বছর আলুর দা’ম কম থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এ বছর দাম বাড়া’য় তারা লাভবান হবেন। কিন্তু কোনো’ভাবেই এই সবজির দাম ৫০ টাকায় ওঠা’র সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অবশ্যই ভো’ক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ বা’জার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিং জোর’দার করা উ’চিত।

কৃষি বি’পণন অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, তারা আলুর উৎ’পাদন খরচ, সংরক্ষণ ব্যয়সহ, মুনা’ফা হিসাব করেই এই তিন পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করেছেন। কর্ম’কর্তারা জানান, প্রতিকেজি আলুতে হিমা’গার ভাড়া বাবদ ৩ টাকা ৬৬ পয়সা, বা’ছাই খরচ ৪৬ পয়সা, ও’য়েট লস ৮৮ পয়সা, মূলধনের সুদ ও অন্যা’ন্য খরচ বাবদ ২ টাকা ব্যয় ধরে’ছেন তারা।

কৃ’ষি বিপণন অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, এ মৌসুমে একজন চা’ষির প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়ে’ছে ৮ টাকা ৩২ পয়সা। উৎপাদন থেকে শুরু করে অ’ন্যান্য খরচ ধরে এক কেজি আলু হিমাগার পর্যন্ত সং’রক্ষণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২১ টাকা। এ’ক্ষেত্রে হিমাগার পর্যায়ে বি’ক্রয় মূল্যের ওপর ২-৫ শতাংশ লভ্যাংশ, পা’ইকারি পর্যায়ে ৪-৫ শতাংশ এবং খুচ’রা পর্যায়ে ১০-১৫ শ’তাংশ লভ্যাংশ ধরে তারা এই তি’ন পর্যায়ে’র দাম নির্ধারণ করে’ছেন।

চি’ঠিতে কৃষি বিপণন অধিদফতর জানায়, বাং’লাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় ১ দশ’মিক ৯ কোটি মেট্রিক টন আলু উৎ’পাদিত হয়েছে। দেশে মোট আলুর ‘চাহিদা প্রায় ৭৭ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক ট’ন। এতে দেখা যায় যে, গত বছ’র উৎপাদিত মোট আ’লু হতে প্রায় ৩১ দশ’মিক ৯১ লাখ মেট্রিক টন আলু উ’দ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আ’লু রপ্তানি হলেও ঘাটতির আ’শঙ্কা নেই বলে চিঠি’তে উল্লেখ করা হয়।

হি’মাগার মালিকদের সতর্ক করে অ্যা’সোসিয়েশনের চিঠি-

এদি’কে আলুর দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর সবজিটি’ মজুদ করে কৃত্রিম সং’কট না করার বিষ’য়ে হিমাগার মালিকদের সতর্ক করে দিয়েছে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

গত ১১ সে’প্টেম্বর সারা দেশের হিমাগার মালি’কদের কাছে পাঠানো এক চিঠি’তে বলা হয়েছে, বা’জারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও হিমাগারে সংরক্ষ’ণকারী কৃষক, বেপারী ও ব্যবসায়ীরা অধিক লা’ভের আশায় আলু ছাড়ছেন না বলে জা’না যায়। কোনো কোনো অঞ্চলে হি’মাগার থেকে ধীরগতিতে আলু স’রবরাহ হচ্ছে। এ প্রে’ক্ষিতে বাজারদর নি’য়ন্ত্রণ ও ভোক্তা সাধার’ণের সুবিধার্থে হি’মাগার থেকে প্রয়ো’জনীয় আলু সরবরাহ নেওয়ার প’রামর্শ দেওয়া হলো।