উন্নয়ন মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২৭:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

ছুটির দিন হওয়ায় সকালে উন্নয়ন মেলা শুরুর পর থেকে শিল্পকলার সবুজ চত্বরে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে উপচেপড়ছিল দর্শকদের সেই ভিড়। কেউ কেউ মজা করে শাড়ি, থ্রিপিস এবং অন্যান্য পোশাকসামগ্রী কেনাকাটা করেছেন উন্নয়ন মেলা থেকে। মৎসসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্টল থেকে অনেকেই আস্ত মাছ কিনে নিয়েছেন। অনেকেই আবার শিশুদেও নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখাতে। সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, এবং আনসারদের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলার দ্বিতীয় দিনে আগত দর্শনার্থীদের অনেক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারীখাতের উদ্যোক্তাদের অনেকেই এসেছেন মেলা দেখতে। ব্যবসায়ী নেতা কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আবুল কাশেম আহমেদ, মো. জসিম উদ্দিন, মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন,আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং সিদ্দিকুর রহমান উন্নয়ন মেলা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলছেন, সরকার রূপকল্প-২১ এবং এবং ২০৪১ ঘোষণা করেছে। সরকারের এই ঘোষণা অবাস্তব নয়। রূপকল্প-২১ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের স্বীকৃতি পাবে। উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণ হবে ২০৪১ সালের মধ্যে। উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে সবাই সরকারের বিগত দিনের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যত উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে পারছেন।

তাই এ ধরনের মেলা হওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামোখাতে সরকারী বিনিয়োগ বাড়ায় এখন বেসরকারীখাতের উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় দেশে এত উন্নয়ন হয়েছে। নিজস্ব অর্থে এখন পদ্মা সেতুর মতো বড় অবকাঠামোর কাজ করা হচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে আগামীতেও সরকারের ধারবাহিকতা থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, আট বছরের শিশুকন্যা লামিয়াকে নিয়ে মা সালমা আহমেদ উন্নয়ন মেলায় এসেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচী দেখে তিনি নিজেও অভিভূত। তিনি জানালেন, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু কন্যা এখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র এটাই এখন বাস্তবতা। তিনি বলেন, মেলায় এসে সবগুলো স্টল তিনি পরিদর্শন করেছেন। তাঁর শিশুকন্যা লামিয়াও ঘুরতে এসে অনেক খুশি।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ মেলায় বিভিন্ন বিভাগের ৯০টিরও বেশি স্টল রয়েছে। সরকারী সংস্থাগুলো তাদের বিভিন্ন সেবা মেলা থেকে সরাসরি দর্শনার্থীদের দিচ্ছে। এছাড়া আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগ ও দফতর যেসব সেবা দিচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে এই মেলা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন দফতরের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ওপর ভিডিও চিত্র জায়েন্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এমডিজি অর্জন ও এসডিজি অর্জনের পথে বাংলাদেশ শীর্ষক সেমিনার। এছাড়া মেলার শেষ দিন আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের সব দফতরের বিভিন্ন সেবার তথ্য প্রদর্শন করা হবে। সকাল ১০টায় থাকবে বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন ও আজকের বাংলাদেশ শিরোনামের আলোচনা সভা। এছাড়া বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্পের প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতা হবে। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত হবে এ উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টায় সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা।