কারাগারে ‘আয়েশেই’ আছেন সাবরিনা, সাহেদ ও পাপিয়া

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ১:০৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

করো’নার জাল সনদ, অ’নৈতিক কর্মকা’ণ্ড, অ’স্ত্র ও মা’দক মা’মলাসহ নানা অ’ভিযোগে কারাগারে আছেন বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ সাহেদ, ডাক্তার সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও শামীমা নূর পাপিয়া। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন মোহাম্ম’দ সাহেদ। ডাক্তার সাবরিনা ও শামীমা নূর পাপিয়া আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে। তারা তিনজনই অনেকটা ভিআইপি স্টাইলে কারাগারের দিনগুলো পার করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিভিন্ন টেলিভিশনে ট’কশো করে পরিচিতি পান রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্ম’দ সাহেদ। কয়েক বছর আগে একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। আওয়ামীলীগের নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। হাসপাতালসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন। বৈশ্বিক মহামা’রি করো’নার সংক্রমণ শুরু হলে রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড ডেডিকে’টেড হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদন করিয়ে নেন। কিন্তু র‌্যা’­বের অ’ভিযানে ধ’রা পড়ে করো’নার জাল সনদ দেওয়ার বিষয়টি। এছাড়া আরও একাধিক অ’ভিযোগে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় তাকে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রে’ফতার করে র‌্যা’­ব।

বেশ কিছুদিন রি’মান্ডে থাকার পর এখন মোহাম্ম’দ সাহেদকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। কারাগারের আলাদা একটি সেলে এককভাবে রাখা হয়েছে তাকে। চাইলেই টাকা দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী নিজের পছন্দের খাবার খেতে পারেন। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জে’লার মাহাবুবুল ইস’লাম বলেন, মোহাম্ম’দ সাহেদকে একজন সাধারণ ব’ন্দি হিসেবেই কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি কোনও ভিআইপি কিংবা ডিভিশন পাওয়া ব’ন্দিও নন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই তাকে আলাদাভাবে একটি সেলে রাখা হয়েছে। যে সেলে আর কাউকে রাখা হয়নি। আর কারাবিধি অনুযায়ী কারাগারের ক্যান্টিন থেকে যেকোনও ব’ন্দি বাড়তি খাবার কিনে খেতে পারেন।

করো’নাভাই’রাস পরীক্ষার জালিয়াতির অ’ভিযোগে গ্রে’ফতার করা হয় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডাক্তার সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে। গত ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর পু’লিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের একটি দল তাকে গ্রে’ফতার করে। এছাড়াও তার বি’রুদ্ধে এনআইডি কার্ড জালিয়াতিসহ একাধিক মা’মলা দায়ের করা হয়।

গত ২২ ফে’ব্রুয়ারি শাহ’জালাল আন্ত’র্জাতিক বিমান’বন্দর থেকে জাল’টাকা বহন ও অ’বৈধ টাকা পাচারের অ’ভিযোগে যুব’লীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ চার জনকে গ্রে’ফতার করে র‌্যা’­ব। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পি’স্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গু’লি, পাঁচ বোতল বিদেশি ম’দ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উ’দ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থা’নায় একটি অ’স্ত্র ও একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং বিমানবন্দর থা’নায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরেকটি মা’মলা দায়ের করা হয়।

এসব মা’মলায় ডাক্তার সাবরিনা আরিফ ও শামীমা নূর পাপিয়া আছেন গাজীপুরের কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে। তাদেরও সেখানে সাধারণ ব’ন্দিদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। আলাদা আলাদা সেলে (কক্ষে) এককভাবে রাখা হয়। বাইরে থেকে উন্নতমানের খাবার ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন সুবিধা দিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আছে তাদের নানা আবদার। তবে কারাবিধির বাইরে কোনও সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জে’লার আনোয়ার হোসেন।

তিনি জানান, ডাক্তার সাবরিনা আরিফ ও শামীমা নূর পাপিয়াকে আলাদা আলাদা সেলে (কক্ষে) রাখা হয়েছে। অন্যান্য ব’ন্দিদের সঙ্গে কমন সেলে রাখা হয়নি। আর চাইলে কারাবিধি অনুযায়ী কারাগারের নিজস্ব ক্যান্টিন থেকে আলাদাভাবে কিনে খেতে পারবে। যত আবদারই থাকুক তাদের কারাবিধির বাইরে কোনও সুবিধা দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র কমন সেলে সমস্যা হতে পারে এমন আশ’ঙ্কায় তাদের আলাদা সেলে এককভাবে রাখা হয়েছে।