বিয়ের আগে রূপ-ত্বকের পরিচর্যা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩০:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

জিএম নিউজ অনলাইন ডেস্ক

বিয়ের আগে রূপ-ত্বকের পরিচর্যা, ঢলঢল লাবণ্যে, রূপের ছটায় এই একটা দিনেই ছোট্টবেলার রূপকথারা সত্যি হয়। এই একটা দিন সে-ই তো রাজকন্যে। না-ই বা থাকুক পক্ষীরাজ, নাই বা থাকুক খোলা তলোয়ার, এই দিনটায় সত্যিই আসে তার রাজপুত্র। নতুন রূপকথার সেই তো শুরু

কুঁচবরণ কন্যা, মেঘবরণ কেশ যদি বা থাকে, তার যত্নআত্তির সময় কই? কাজের চাপে চোখের নিচে কালি, জেল্লা হারাতে বসেছে ত্বক, রুক্ষ-শুষ্ক চুল। তা বলে বিয়ের পিঁড়িতে কি এমন এলোমেলো হয়ে বসা চলে? কনের সাজে নজরকাড়া হয়ে উঠতে তাই কিঞ্চিৎ ঘষামাজা প্রয়োজন।

বাড়িতে পরিচর্যা ঠিক হয়ে উঠছে না? শহর জুড়ে সালঁ, পার্লার বা স্কিন ক্লিনিকগুলো আছে কী করতে? দরকার শুধু বিয়ের একটা-দুটো মাস আগে থেকে নিয়মিত নিজের জন্য একটু সময় বার করে নেওয়া। ব্যস্! সেই বিশেষ দিনটায় অন্যেরা তো বটেই, চোখ ফেরাতে পারবে না সেই বিশেষ মানুষটিও।

‘ল্যাকমে সালঁ’-তে বিয়ের কনের জন্য রয়েছে তিন ধরনের প্যাকেজ- প্রি ব্রাইডাল, ব্রাইডাল এবং স্পেশালাইজড ব্রাইডাল। বিয়ের ঠিক এক মাস আগে থেকে প্রি-ব্রাইডাল প্যাকেজে কনের রূপ-পরিচর্যার ভার নেবেন বিশেষজ্ঞরা। ‘প্রি ব্রাইডাল অরা’-তে থাকছে কমপ্লেক্সন এনহান্সমেন্ট ফেশিয়াল, অ্যারোমা ম্যানিকিওর এবং পেডিকিওর, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, ওয়্যাক্সিং, ব্লিচিং, থ্রেডিং এবং গ্লো প্যাক। ‘প্রি ব্রাইডাল গোল্ডেন গ্লো’-তে কনেকে আরও মোহময়ী করে তুলতে আছে অর্কিড হ্যান্ড অ্যান্ড ফুট কেয়ার সার্ভিস, ফ্লোরাল ব্লিস ফেশিয়াল, ওয়াক্সিং, থ্রেডিং, ব্লিচিং, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, বডি এক্সফোলিয়েশন এবং গ্লো প্যাক। এ ছাড়াও বিয়ের আগের টুকিটাকি অনুষ্ঠানগুলোর জন্যও থাকছে মেক-আপ, চুল এবং শাড়িতে কনেকে সাজিয়ে তোলার ব্যবস্থা।

ল্যাকমে-র ব্রাইডাল প্যাকেজগুলো কনেকে তৈরি করতে সময় নেয় এক মাস থেকে এক সপ্তাহ। এক সপ্তাহের ‘ব্রাইডাল অরা’-য় ৩টি সিটিং-এ থাকছে ফুল ওয়্যাক্সিং, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, ব্লিচ, ম্যানিকিওর, পেডিকিওর, গ্রো প্যাক, থ্রেডিং এবং বিয়ের সন্ধ্যার সাজগোজ। দু’ সপ্তাহের ‘ব্রাইডাল গোল্ডেন গ্লো’-এ ৪টি সিটিং থাকছে ওয়্যাক্সিং, হেয়ার ট্রিটমেন্ট, ব্লিচ, থ্রেডিং, হ্যান্ড এবং ফুট কেয়ার সার্ভিস, অয়েল হেড মাসাজ, বডি এক্সফোলিয়েশন, গ্লো প্যাক, এবং শ্যাম্পু। সঙ্গে বিয়ের সাজগোজের মেক-আপ, চুল বাঁধা, শাড়ি পরানো তো বটেই। তিন সপ্তাহের ‘ব্রাইডাল প্ল্যাটিনাম গ্লো’-এ ৫টি সিটিং-এ থাকছে এ সবের পাশাপাশি থাকছে কমপ্লেক্সন এনহান্সমেন্ট ফেশিয়াল, ফ্লোরাল ব্লিস ফেশিয়াল এবং বডি পলিশিং।

রূপের পরিচর্যায় ভিটামিন ই:
ভিটামিন ই – ক্যাপসুল । অনেকেই যে কোন ফেশিয়াল মাস্ক তৈরির সময় মিশ্রনের উপাদান হিসাবে ই – ক্যাপসুল ব্যাবহার করে
ঠোটের জন্যঃ- সুন্দর , গোলাপী , মোলায়েম ঠোঁট পেতে হলে প্রতিদিন রাতে শোওয়ার সময় ভিটামিন ই -ক্যাপসুল ব্যাবহার করুন । ক্যাপসুলটি মাঝ বরাবর কেটে তার ভিতরের তরল পদার্থ বাদাম তেল অথবা গ্লিসারিনের সাথে মিশিয়ে নিন । এরপর সেই মিশ্রন ভালো করে ঠোটে লাগিয়ে নিন । প্রতিদিন রাতে এই কাজ করলে আপনার ঠোঁট হয়ে উঠবে নরম , আর চকচকে ।

মুখের ত্বকের জন্যঃ- মোলায়েম আর দাগহীন ত্বক পেতে হলে প্রতিদিন দিনে একবার নারকেল তেল অথবা আপনার ব্যাবহার করা যে কোন ময়শ্চারাইজার/লোশন/স্ক্রাব এর সাথে ভিটামিন ই-ক্যাপসুলের তরল পদার্থ মিশিয়ে নিন । এরপর এই মিশ্রন মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করুন । এতে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল । যে কোন ফেশিয়াল মাস্কের সাথে ভিটামিন -ই অয়েল মেশান । এতে আপনার মুখের ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকবে । শুষ্ক ভাব কমবে ।

চোখের জন্যঃ- অনেক সময় আমাদের ক্লান্তির কারনে চখের তলায় ডার্ক সার্কেল পরে যায় । প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভিটামিন ই-অয়েল ভালো করে ম্যাসাজ করুন চোখের চারপাশে । এবং তেল লাগানো অবস্থাতেই শুয়ে পড়ুন । রোজ এই পদ্ধতি মেইনটেন করলে ডার্ক সার্কেল দূর হবে ।

চুলের যত্নেঃ- চুলের যত্নে আমরা অনেক কিছুই করে থাকি । নামী দামী ব্র্যান্ডেড শ্যাম্পু থেকে হেয়ার স্পা । কিন্তু ঘরে বসেই পেতে পারেন ঘন আর মজবুত চুল । শ্যাম্পু করার আগের দিন রাতে নাকেল তেলের সাথে ভিটামিন ই- অয়েল মিশিয়ে ভালো করে চুলে ম্যাসাজ করুন । পরদিন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন ।

স্ট্রেচমার্ক দূরীকরণেঃ প্রেগনেন্সির সময় গর্ভবতী মহিলারা স্ট্রেচ মার্কের সমস্যায় ভোগেন । কিন্তু বাদাম তেল বা নারকেল তেলের সাথে ভিটামিন ই- অয়েল মিশিয়ে যদি রোজ স্ট্রেচ মার্কের জায়গায় ম্যাসাজ করেন তাহলে দাগ হালকা হতে শুরু করবে ।

কনের আভিজাত্য:

কনেকে প্রথমে বুঝতে হবে, তাঁর ত্বকে কী ধরনের সমস্যা আছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ত্বকের বিভিন্ন অংশে রঙের অসামঞ্জস্য, ব্রণ-ফুসকুড়ি, মেছতা, শুষ্কতা নানা সমস্যার সমাধানগুলো আলাদা ধরনের। বিয়ের আগে তিন মাস হাতে সময় রাখতে পারলে বিয়ের সময় ফলাফল দারুণ হয়। রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সেবার পাশাপাশি বাড়িতেও যত্ন নেওয়া যায় সহজেই।

* শীতের সময় শুষ্কতা দূর করতে পাকা পেঁপে, পাকা কলা, কমলার রস, মধু ও মুলতানি মাটির (বা ভেজানো মসুর ডালবাটা) প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

* অ্যালোভেরার সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়েও প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

* মিশ্র ত্বকে তেলভিত্তিক সেরাম কিংবা তেল ব্যবহার করা যায়। গভীর থেকে ময়েশ্চারাইজ করতে ত্বকে তেল মালিশ করুন। কুসুম গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে চেপে রাখুন পাঁচ মিনিট। এরপর তোয়ালের উল্টো দিক দিয়ে মুছে ফেলুন।

শারীরিক প্রস্তুতি

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর শারীরিক প্রস্তুতিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের আগে উভয়ের বয়স বেশি না কম, শারীরিক উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যায়। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা, হেপাটাইটিসসহ সব টিকা দেওয়া আছে কি না এসব বিষয়েও জানা যায়। এ ছাড়া তাদের কেউ ধূমপান বা অন্য কোনো নেশায় আসক্ত কি না সে বিষয়েও নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়। তাই বিয়ে করার আগে ছেলে-মেয়ে উভয়কে লজ্জা পরিহার করে সুখী জীবনের উদ্দেশ্যে মেডিকেল চেকআপ করানো উচিত।

আরেকটি বিষয় মনে রাখলেই নয়, বিয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু বয়সটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্ব হতে পারে। আবার মেয়েদের বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়াসহ জš§গত ত্রুটি নিয়ে জš§ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মেয়েদের ৩০ বছরের পর প্রথম বাচ্চা নেওয়াটা খুবই ঝুঁকির কারণ হয়ে যায়। তবে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলেও বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। অল্প বয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ খুব ঝুঁকির ব্যাপার। তাই বিয়ের জন্য ছেলে-মেয়ে উভয়ের বয়স বিবেচনা করাটা খুব জরুরি।

আমাদের শরীরে বংশগত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, মাসকুলার ডিসট্রফি (মাংসপেশিতে এক ধরনের দুর্বলতা), নার্ভের বিশেষ কয়েকটি অসুখ, অ্যাপিলেটিক ডিজঅর্ডার (মৃগী রোগ), মানসিক অসুস্থতা যেমন সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার, যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ (উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোক), ডায়াবেটিস, অস্টিওপোরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ওবেসিটি, অ্যাজমা, গ্লুকোমা ইত্যাদি। এসব রোগের যাবতীয় পরীক্ষা বিয়ের আগেই করে নেওয়া উচিত। এর যে কোনো রোগ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করে নেওয়া ভালো। তা ছাড়া শারীরিক আরও সমস্যা থাকতে পারে। sexually transmitted disease রোগ এসবের চিকিৎসা বিয়ের আগেই করে নেওয়া প্রয়োজন। তাই বিয়ের আগে সুস্থ থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা সবারই করা দরকার।