ভাইয়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বোনকে হত্যা

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৩:৩৩:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

প্রে’মের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভাইয়ের কাছ থেকে অ’সুস্থ কি’শোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে ছু’রিকাঘাতে হ’ত্যার অ’ভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান (২০) নামে এক তরুণের বি’রুদ্ধে। রোববার রাতে ঢাকার সাভা’র পৌরসভা’র পালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নি’হত কি’শোরী নীলা রায় (১৪) মানিকগঞ্জ সদর উপজে’লার বালিরটেক গ্রামের নারায়ণ রায়ের মে’য়ে। পরিবারের সঙ্গে সে সাভা’র পৌরসভা’র কাজিমুকমাপাড়া এলাকায় থাকত। সে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছা’ত্রী ছিল।

পরিবার ও পু’লিশের ভাষ্য, বছর দেড়েক ধরে নীলাকে প্রে’মের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন কাজিমুকমাপাড়ার পাশের এলাকা ব্যাংক কলোনির আবদুর রহমানের ছে’লে কলেজছাত্র মিজান। নীলা রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্বা’সক’ষ্টে ভুগছিল। তার ভাই অলক রায় তাকে রিকশায় করে হাসপাতা’লে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর মিজান রিকশার গতিরোধ করেন। এরপর অ’স্ত্রের মুখে নীলাকে টেনে হিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পালপাড়া এলাকায় নিয়ে যান তিনি। সাভা’র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের একটি গলির ভেতরে নিয়ে নীলার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘাড়ে ছু’রিকাঘাত করে মিজান পালিয়ে যান।

এ সময় মে’য়েটির চি’ৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উ’দ্ধার করে প্রথমে থা’না রোডের প্রাইম হাসপাতা’লে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভা’র এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীলার মৃ’ত্যু হয়।

পু’লিশ জানিয়েছে, মিজান স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এর আগে একবার টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি।

নীলার বড় ভাই অলক রায়ের ভাষ্য, ‘বাসা থেকে নেমেই তারা মিজানকে দেখতে পান। তখন মিজান তাদের কিছু বলেননি। রিকশা নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে এসে মিজান গতিরোধ করেন। তার হাতে দুটি বড় ছু’রি ছিল। রিকশার গতিরোধ করে মিজান তার বোনের সঙ্গে কথা আছে বলে রিকশা থেকে নামতে বলেন। তিনি বাধা দিলে মিজান তাকে হ’ত্যার হু’মকি দেন। একপর্যায়ে মিজান তার বোনকে জো’র করে রিকশা থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। ভ’য়ে তিনি ও তার বোন চি’ৎকার করার সাহস পাননি। এমনকি তিনি তাদের পিছুও নেননি। মিনিট বিশেক পরে তিনি জানতে পারেন, মিজান তার বোনকে ছু’রিকাঘাত করে পালিয়েছেন।’

অলক রায় দাবি করেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মিজান তার বোনকে উ’ত্ত্যক্ত করতেন। তার বোনকে প্রে’ম প্রস্তাব দিতেন। ফেসবুকে তার বন্ধু হয়ে চ্যাট করতে বলতেন। এসবের প্রতিবাদ করলেই মিজান তাদের পরিবারের সবাইকে হ’ত্যার হু’মকি দিতেন। আর তারা মিজানকে দুর্ধ’র্ষ ও ক্ষমতাধর মনে করে ভ’য়ে সব চেপে যেতেন। পু’লিশের কাছে অ’ভিযোগ করে আরও বিপদে পড়তে পারেন এমন ভেবে তারা বিষয়টি পু’লিশকে জানাননি।

মিজানের মা-বাবাকে বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো মিজানের মা মে’য়েকে মিজানের সঙ্গে কথা বলতে ও ফেসবুকে চ্যাট করার পরাম’র্শ দিতেন।

নীলার মা মুক্তি রায় বলেন, মিজানের মা-বাবাকে বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো মিজানের মা তার মে’য়েকে মিজানের সঙ্গে কথা বলতে ও ফেসবুকে চ্যাট করার পরাম’র্শ দিতেন। এ অবস্থায় মিজানের অ’ত্যাচারে বছরখানেক আগে তারা সাভা’রের বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিরটেকে চলে গিয়েছিলেন। ছে’লে ও মে’য়ের পড়ালেখার জন্য কয়েক মাস পরে আবার তারা সাভা’র চলে আসেন। এর কিছুদিন পর থেকে মিজান আবার তার মে’য়ের পিছু নেন। এরপরও ভ’য়ে তারা বিষয়টি পু’লিশকে জানানো থেকে বিরত থাকেন।

সাভা’র থা’নার পরিদর্শক (ত’দন্ত) সাইফুল ইস’লাম বলেন, ছু’রিকাঘাতের ওই ঘটনার পর থেকে মিজানকে গ্রে’ফতারে পু’লিশের একাধিক দল অ’ভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে মা’মলার প্রস্তুতি চলছে।