এতিম নিবাসীদের আপন আবাসস্থল বিনোনা হাসান এতিমখানা, সংস্কারের দাবী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০ | আপডেট: ৩:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

ইকবাল হাসান,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের পুরনো এতিমখানাটির দ্বরজা-জানালার প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে! তাই ভয়ের মধ্যে রাত পারি দিতে হয় এতিম নিবাসীদের। অন্যদিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় দিনানিপাত করতে হয় এতিমদের! বিদ্যুতের আলো পৌঁছালেও সেখানে ৩টি ফ্যানের উপর নির্ভর করতে হয় প্রায় ৫০জন এতিম বাচ্চাকে। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে এতিমখানাটিতে থাকা পবিত্র কোরআন শরীফ গুলো রাখার জন্য একটি আলমারি পর্য্যন্ত নেই!

বলছি নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার হাঁসকুড়ি বিনোনা হাসান এতিমখানার কথা। ১৯৯৩সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামছুল হক ও শেখ জহিরুল ইসলাম বাচ্চু তাদের মা বিনোনা হাসানের নামে এই এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়। যার নিবন্ধন নম্বর নেত্র-০১৭০, ৩১/১০/১৯৯৩খ্রিঃ। সমাজসেবা অধিদফতরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টের আওতায় ২৭জন শিশু তালিকাভুক্ত রয়েছে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (৮সেপ্টেম্বর) গিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রায় ৫০জন শিশু থেকে খেয়ে পবিত্র কোরআনের শিক্ষায় শিক্ষা নিচ্ছেন। পুরনো এই এতিমখানার ঘরে ঝুঁকি নিয়ে এতিমরা গাদাগাদি করে থেকে পবিত্র কোরআনে হাফেজ হচ্ছে। এতিম নিবাসীদের প্রতিদিন ৩ বেলা ডাল ভাত, কাপড়-চোপর, ঔষধের যোগান দেয়ার পর এতিমখানা সংস্কার কষ্ট সাধ্য বিষয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। তাই নতুন একটি ভবন নির্মাণের দাবী জানিয়েছে এতিমনিবাসী ও এতিমখানার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিনোনা হাসান এতিমখানা থেকে কোরআনে হাফেজ হয়ে মাওলানা জাকারিয়া, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা শাহজালাল দেশের প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

এতিমখানায় থাকা শিশু বায়জীদ বলেন, তিন বেলা খাবারের কষ্ঠ নেই, ঔধধ বা কাপড়ের কষ্ঠ নেই, কিন্তু জানালা নষ্ট থাকায় রাতে ঘুমাতে আমরা খুব ভয় পাই। এ ছাড়া আমাদের মাত্র ৩টি ফ্যান রাতে খুব গরম লাগে। আর এক এতিমনিবাসী শিশু মোশারফ হোসেন বলেন, আমাদের এতিমখানাটি অনেক পুরনো, তাই নতুন একটি ভবন নির্মাণ হইলে আমরা আরও সুন্দর ভাবে থাকতে পারতাম। এতিমখানার শিশু সুমন মিয়া বলেন, এতিমখানার হুজুরসহ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত আংকেলরা আমাদেরকে সন্তানের মত আদর করে। আমরাও উনাদের বাবার মতই দেখি।

স্থানীয় বাসিন্দা দেওয়ান একলিমুর রেজা মাখন বলেন, পুরাতন এই ভবনটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ এতিমখানার কার্য্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। তাই এই এতিমখানাটির জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণ খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমাজের হৃদয়বান বৃত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, আপনারা সকলে এতিমখানার জন্য সহযোগিতা করুন। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাচ্চারা রাতে ভয়ে ভয়ে ঘুমায়। দেয়ালের অবস্থা খুবই খারাপ, যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাছাড়া এতিমখানাটিতে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখার জন্য কোন ব্যাবস্থা নেই।

তাই এতিমনিবাসীদের আপন আবাস্থল বলে খ্যাত বিনোনা হাসান এতিমখানাটির সংস্কার করে একটি যুগোপযোগী ভবন গড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা। এমনটিই প্রত্যাশা এতিমনিবাসীদের।