দশমিনা বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, আদালতে মামলা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০ | আপডেট: ৫:৩৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২০

ফয়েজ অহমেদ, দশমিনা প্রতিনিধি ॥

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত এক মাত্র নারী বিদ্যা পীঠ “ বেগম আরেফাতুননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ” বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থের বিনিময়ে লুৎফর রহমান নামে এক বিতর্কিত শিক্ষককে,অনিয়ম ও দুর্নিতীর আশ্রয় নিয়ে, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংক্ষুদ্ধ ঐ পদের এক প্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে বিতর্কীত ঐ শিক্ষকসহ মোট ৯জনকে বিবাদী করে,গতকাল ০৩ আগষ্ট ২০২০ খ্রীঃ তারিখে দশমিনা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মোদ্দমা রুজু করেন। যার মামলা নং-৪০/২০২০খ্রীঃ।

 

মামলার বিবরন সুত্রে এবং সংক্ষুদ্ধ প্রার্থীদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, বিগত ২০১৯ সালে “ বেগম আরেফাতুননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ” শুন্য পদে নিয়োগের নিমিত্তে প্রধান শিক্ষক পদের জন্য একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯। তখন অত্র মোকদ্দমার বাদীসহ মোট ৬জন প্রার্থী আবেদন করেন। সেই সময় বিবাদীরা তাহাদের লাভবান প্রার্থী না পাওয়ায়,বিভিন্ন তালবাহানার আশ্রয় নিয়ে সময়ক্ষেপন করেন এবং নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করেন। অতপর একই বছরের ১১ জুলাই ২০১৯ র্খ্রীঃ তারিখে পুনরায় একটি নাম সর্বস্ব জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মোঃ লুৎফর রহমান জামালের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা অবৈধ ভাবে গ্রহন পূর্বক তাহাকে নিয়োগ দেয়ার অঙ্গিকারে নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেন বিবাদীরা এবং মোঃ লুৎফর রহমান জামালকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ প্রদান করা হবে মর্মে পায়তারা চালায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

 

তখন বিষয়টি আচ করতে পেরে, নিয়োগ পরীক্ষার দুই দিন পূর্বে, প্রধান শিক্ষক পদের দরখস্তকারী মোহাম্মদ জহিরুল আলম বাদী হয়ে মোঃ লুৎফর রহমান জামালসহ ৯ জনকে বিবাদী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৬১/২০১৯ খ্রীঃ। মামলাটি বর্তমানে চলমান। মামলার কারনে স্থগিত হয়ে যায় “ বেগম আরেফাতুননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ”এর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম। অতপর মোঃ লুৎফর রহমান জামাল তার পাওনা টাকা ফেরৎ পাইবার জন্য প্রতিনিয়ত তাদিগ দিতে থাকিলে,বিবাদীরা সুকৌশলে তাকে (জামালকে) প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিবে মর্মে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীঃ তারিখে পুনরায় সেই নাম সর্বস্ব অর্থাৎ এলাকায় অপঠিত দৈনিকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে বিবাদীদের লাভবানকৃত সেই বিতর্কিত শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান জামালকে গোপনে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিবে মর্মে আবেদনকারী সকলকে প্রবেশপত্র না দিয়ে,মাত্র কয়েকজনকে প্রবেশপত্র সরবরাহ করে , ৩০ জুলাই ২০২০ তারিখ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীরা অবৈধ যোগসাজসে ইংরেজী বিষয়ে পারদর্শী বিধায় বিতর্কীত ঐ শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান জামালকে প্রথম করার লক্ষ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ৬ টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ টি প্রশ্নই ইংরেজীতে করা হয়।

 

তাই ৩০ জুলাইয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ বাতিল এবং নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে বিবাদীগন সুকৌশলে নিয়োগ বোর্ড সংশ্লিষ্টদের সাদা কাগজে এবং অলিখিত রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নিয়ে তাহাদের সরল বিশ্বাসের সাথে প্রত্যারনা করেছেন মর্মে আদালতে মামলা করেন মোঃ জসিম উদ্দিন। এদিকে সেই বিতর্কিত শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান জামালকে গোপনে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করানোর পায়তার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অথচ মোঃ লুৎফর রহমান জামাল,বর্তমানে উপজেলার খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরতাবস্থায় এখনও সেখান থেকে ছাড়পত্র দেয়নি ঐ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানালেন খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে বলেন, শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান জামালের বিষয় আগামী ১০ আগষ্ট রবিবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

 

সেখানেই সিদ্ধান্ত হতে পারে, তাহাকে ছাড়পত্র দেয়া হবে কি না। এদিকে “ বেগম আরেফাতুননেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ” এর সভাপতি নিলুফার রউফ বলেন,আমরা বিধিমোতাবেকই সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমান জামাল যথা নিয়মে অত্র বিদ্যালয় যোগদান করেছেন। অভিযোগ রয়েছে অত্র বিদ্যালয়ের মোট ৫ জন সিনিয়র শিক্ষক এ পদের জন্য আবেদন করলেও, মোঃ হেলাল উদ্দিন মোঃ খলিলুর রহমানসহ আরো বেশ কয়েকজন আবেদনকারীকে প্রবেশপত্র সরবরাহ না করে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন বলেও দাবী করেন মোঃ হেলাল উদ্দিন ও মোঃ খলিলুর রহমান। তাদের দাবী,৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার ছিল নিয়োগ পরীক্ষা। ৩১ জুলাই ০১ আগষ্ট এবং ০২ আগষ্ট ছিল কোরবানীর বন্ধ অর্থাৎ সরকারী ছুটির দিন। তাহলে নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন করা হলো কবে ? বা নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতাই বা করা হলো কবে ?