সোনাগাজীর নবম শ্রেনীর ছাত্র সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো ওসি হুমায়ুনের স্বীকারোক্তি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২৬:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮
সোনাগাজীর নবম শ্রেনীর ছাত্র সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো ওসি হুমায়ুনের স্বীকারোক্তি

সোনাগাজী প্রতিনিধি: আমি যাহা করেছি এলাকার স্বার্থে করেছি,মনে করেন হইছে আরকি,আমাদের কারো ভুলে হয়েছে, আমি ব্যাক্তিগত স্বার্থে করি নাই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে এমন সরল অথচ জটিল স্বীকারোক্তি দিলেন সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউপির ওলামাবাজার হাজী সেকান্তর মিয়া উচ্ছ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র হাবিব উল্লাহ সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো ওসি হুমায়ুন কবির।তিনি আরও বলেছেন মেয়েটা মামলা দিতে চাচ্ছেনা,মামলা দিলে ছেলেটা যে ক্ষতি করবেনা এ নিশ্চয়তা নেই,মোবাইল কোর্ট বন্দ করে দিয়েছে হাইকোর্ট এ গুলোর কারনে মুলত জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে,ফিপটি ফোর বন্দ রয়েছে,ফিফটি ফোরে কাউকে চালান দেয়া যাবেনা,কোন ইন্টেনশন নাইরে ভাই, কোন ভুল হলে আমাকে ক্ষমা কর দিতে হবে, কেউ দায়ী না,আমি যেহেতু ওসি সব দায় আমার।আইনের রক্ষক হয়েও অপরাধ দমনে সব ক্ষেত্রে আইনের মধ্যে থাকা যায়না বলে বলেছিলেন ওসি। সুজনকে অস্ত্র মামলায় কারাগারে পাঠানোর পরবর্তীতে প্রতিবেদক কে ওসি জানিয়েছিলেন চার্জচিট থেকে সুজন কে অব্যহতি দিবে।ওসির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে প্রতিবেদক মুঠোফোনের কথোকপোন এতদিন গোপন রেখেছে। এখন প্রশ্ন হলো কেন ওসি কথিত ইভটিজিংয়ের ঘটনায় সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দিলো?প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে ভুক্তভোগি সুজন,তার পরিবার ও এলাকাবাসীর বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে,চরছান্দিয়া ইউপির ওলামাবাজার সংলগ্ন আরফান আলী সারেং বাড়ীর সৌদি প্রবাসী প্রভাবশালী কোটিপতি মোস্তফার সাথে একই বাড়ীর হতদরিদ্র বিধবা খোদেজা বেগমের বাড়ীর জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।তারা উভয়ে চাচাতো/জেঠাতো ভাই বোন।১৫ বছর পূর্বে খোদেজার স্বামী সুজনসহ ৩ সন্তান রেখে মারা যায়।সেই থেকে খোদেজা মানুষের বাড়ীতে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে জীবন পার করছে। খোদেজার অভিযোগ ,বসতভিটা বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে মোস্তফা তাকে বাড়ী থেকে বিভিন্নভাবে উচ্চেদের চেষ্টা চালিয়েছে।কিন্তু ব্যার্থ হয়ে সে তার ভায়রার মেয়েকে ইভটিজিং করেছে বলে গত বছরের ২৪ এপ্রিল সুজনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করে।পুলিশ সুজন কে আটক করতে অভিযান চালালে সে মামার বাড়ীতে আত্মগোপন করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে,গত বছরের ২১ মে স্কুল ছুটির পর সুজন বাড়ী ফেরার পথে তাকে স্কুল গেট থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে।খবর পেয়ে খোদেজা এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে থানায় যায়। খোদেজা জানায়,থানায় গেলে ওসি তাকে গালাগাল করে বের করে দেয়।সে আরো জানায়,মোস্তফার টাকা খেয়ে ওসি সুজন কে প্রচন্ড মারধর করে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় কারাগারে প্রেরন করে। সুজনকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর পর সে সময় একাধীক স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অজ্ঞাত কারনে জেলা পুলিশ প্রশাসন সেসব আমলে নেয়নি। তবে সে সময় মোস্তফা প্রতিবেদককে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর সাথে তার কোন যোগসুত্র নেই।তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে মুলত খোদেজার বসতভিটা দখলের জন্য মোস্তফা বিপুল টাকার বিনিময়ে ওসির যোগসাজসে সুজনেরর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়েছে। সুজন কে অস্ত্র মামলায় কারাগারে পাঠানোর পর খোদেজা প্রতিকার চেয়ে ২৫ মে ফেনীর পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগ পেন্ডিং থাকাবস্থায় ওসি হুমায়ুন কবিরের তত্তাবধায়নে তড়িগড়ি করে ১১ জুন মামলার চার্জচিট প্রদান করে তদন্ত কর্মকর্তা। অডিওতে ওসি হুমায়ুন কবির ভুলু ও আলমগির নামে যাদের কথা উল্লেখ করেছে তাদের গ্রেফতার নিয়েও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।জানা গেছে গত বছরের ৯ মে সোনাগাজী মড়েল থানা পুলিশ সদর উপজেলার ছাড়াইতকন্দি গ্রামে খলিফা বাড়ীর প্রবাসী ওবায়েদ উল্যাহর বসতঘরে অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্র ও একাধীক গুলি উদ্ধার করে।পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রবাসীর স্ত্রী অস্ত্র ও গুলি একই বাড়ীর বখাটে ভুলু রেখেছে বলে জানায়।কারাবন্দি ভুলু জানায়,তাকে ও তার ভায়রা আলমগির কে পুলিশ ১৭ মে রাতে গ্রেফতার করে। অডিতে ওসি আলমগির কে ডাকাতি মামলায় ২২ মে কারাগারে পাঠানোর কথা জানালেও ফেনী জেলা কারাগারের রেজিষ্টার সুত্রে ওসির বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।কারা রেজিষ্টারের সুত্র মতে ২২ মে সুজন ও ভুলুকে অস্ত্র এবং ডাকাতি মামলায় কারাগারে পাঠানোর তথ্য রয়েছে। খোদেজা জানায়,দির্ঘ চার মাস কারাভোগ শেষে সুজন হাইকোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তিলাভ করার পর গত বছরের আগষ্ট মাসের ১৬ তারিখে ফেনী সদরের সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেনের স্বাক্ষরিত পত্রে ২১ আগষ্ট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হাজির থাকার অনুরোধ করে।সে মোতাবেক সুজন কে সাথে নিয়ে আমি হাজির হলে আমাকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস প্রদান করে জানান সরজমিনে ঘটনাটি তদন্ত করবে।কিন্তু সেই থেকে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। অস্ত্র মামলায় সুজনকে ফাঁসানোর ওসির স্বীকারোক্তির পর তার বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা গ্রহন করা যায় জানতে অপরাধ বিশেজ্ঞের সাথে যোগাযোগ কররা হলে তিনি জানান,বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃংখল পেশাদার বাহিনী।বাহিনীর কোন সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করে।এ ক্ষেত্রেও তাই হবে। সুজন কে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ওসির স্বীকারোক্তির পর কি আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা যায় প্রশ্নের জবাবে ফেনী জর্জ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ইউছুপ আলমগির জানান,সুজনের পরিবার পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অথবা আদালতে ওসির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। সুজনের মা খোদেজার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়,আগে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও বিচার পায়নি।এখন আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবো।আমার এতিম ছেলেকে সে ফাঁসিয়েছে,আল্লাহ যেন তার ঘরে ঐশীর মতো মেয়ে জম্ম দেয়।তিনি ওসির বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারের প্রতি আকুল আবেদন জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোনাগাজী মডেল থানার সদ্য সাবেক ওসি হুমায়ুন কবিরের ব্যাক্তিগত মুঠোফোন ফোন নম্বর ০১৭১৬৭৮৮৩২৩ একাধীকবার ফোন করে সেটি বন্দ পাওয়া যায়।