করোনা পরীক্ষায় ভুয়া রিপোর্ট ডা. সাবরিনার কারাদণ্ড হতে পারে ৭ বছর

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:৩৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

করো’নার ভু’য়া রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণার অ’ভিযোগে গ্রে’ফতার জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) কথিত চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী কারাগারে রয়েছেন। তাকে দুই দফায় রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে মা’মলার ত’দন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশ (ডিবি)। শুরু থেকে ডা. সাবরিনাকে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান বলা হলেও ত’দন্ত সংস্থা বলছে, প্রতিষ্ঠানটির আহ্বায়ক হিসেবেই জাল-জালিয়াতিতে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। মা’মলার অন্য আ’সামিদের জবানব’ন্দিতেও প্রতারণার নেপথ্য নাম হিসেবে ঘুরেফিরে ডা. সাবরিনার কথা উঠে এসেছে।

ডিবির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডা. সাবরিনাসহ আ’সামিদের বি’রুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দেয়া হবে। এ মা’মলায় সাবরিনা ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

জানা গেছে, করো’নাভাই’রাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভু’য়া রিপোর্ট দেয়ার অ’ভিযোগে গত ২৩ জুন তেজগাঁও থা’নায় মা’মলা’টি করেন কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মা’মলায় পেনাল কোডের ১৭০/২৬৯/৪২০/৪০৬/৪৬৬/৪৭১/৩৪ ধারায় অ’ভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে একাধিক ধারায় সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের কারাদ’ণ্ড।

সে জন্য আইনজীবীরা বলছেন, অ’ভিযোগ প্রমাণ হলে ডা. সাবরিনার সাত বছরের কারাদ’ণ্ড হতে পারে।এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম আ’দালতের অ’তিরিক্তি পাবলিক প্রসিকিউর (এপিপি) হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন গণমাধ্যমকে বলেন, ডা. সাবরিনা একজন প্রতারক হিসেবে গ্রে’ফতার হয়েছেন। তিনি প্রতারণা করে অনেক মানুষকে বিপদে ফেলেছেন। মানুষের জীবন-মৃ’ত্যু নিয়ে খেলেছেন। তার বি’রুদ্ধে যে ধারায় মা’মলা করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ শা’স্তি সাত বছরের কারাদ’ণ্ড। তার যেন সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত হয় আম’রা সেদিকে নজর রাখব।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের অ’তিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ত’দন্তে জেকেজির চেয়ারম্যান নয়, আহ্বায়ক হিসেবে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে গোয়েন্দা পু’লিশ। আশা করছি, এ মা’মলায় আম’রা দ্রুত চার্জশিট দিতে পারব। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার পদে থাকার কোনো প্রমাণ আম’রা পাইনি। তবে আহ্বায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার কাগজ পাওয়া গেছে।

মা’মলার বাদী কামাল হোসেন বলেন, আম’রা জেকেজি হেলথ কেয়ারে গিয়ে করো’না পরীক্ষা করে প্রতারিত হয়েছি। তাই আমি বাদী হয়ে মা’মলা করেছি। দোষীরা শা’স্তি পাক এটা আমি চাই। ডা. সাবরিনাসহ মা’মলার অ’পর আ’সামিরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। তাদের বিচার হওয়া উচিত।

জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারের (জেকেজি) বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ, সরকারের কাছ থেকে বিনা মূল্যে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে বুকিং বিডি ও হেলথ কেয়ার নামে দুটি সাইটের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছিল এবং নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই ভু’য়া সনদ দিচ্ছিল জেকেজি। অ’ভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হু’মায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী’ তানজিন পাটোয়ারীকে গ্রে’ফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে হিরু জানান, তিনি করো’নার ভু’য়া সার্টিফিকে’টের ডিজাইন তৈরি করতেন। আ’দালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানব’ন্দিতেও হিরু জেকেজির জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। এরপর ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজন গ্রে’ফতার হয়। আর আরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনার সম্পৃক্ততা উঠে আসে।

এরপর জালিয়াতির অ’ভিযোগে গত ১২ জুলাই দুপুরে সাবরিনাকে তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পু’লিশ (ডিসি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে করো’নাভাই’রাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভু’য়া রিপোর্ট দেয়ার অ’ভিযোগে তেজগাঁও থা’নায় করা মা’মলায় গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। এর পর গত ১৩ জুলাই তাকে তিন দিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়। ১৭ জুলাই আরও দুদিনের রি’মান্ডে নেয় ডিবি। দুই দফা রি’মান্ড শেষে ২০ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠান আ’দালত।