বন্যায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি: কৃষিমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

# কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলমান বন্যায় প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৪৪ হাজার জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

# মন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির আর অবনতি না হলে কৃষি মন্ত্রণালয় যেসব কর্মসূচি নিয়েছে তাতে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং আমন ধানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

# সোমবার (২০ জুলাই) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এসব তথ‌্য জানান কৃষিমন্ত্রী। সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।

# কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় আউশ, আমন, সবজি, পাটসহ বেশ কিছু ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি কমিয়ে আনতে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিকল্প বীজতলা তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে বিকল্প ফসলের চাষের ব্যবস্থা, নিয়মিতভাবে আবহাওয়া মনিটরিংসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে, যাতে করে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতি মোকাবিলা করা যায়।

আরও পড়ুন 

  1. জগন্নাথপুরে ২য় দফা বন্যায় গ্রামীণ সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
  2. রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় মানববন্ধন
  3. জগন্নাথপুরে ২য় দফা বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে
  4. ঘূর্ণিস্রোতে ভেসে গেল দুই ফেরি, ভেঙে গেল যাত্রীবাহী লঞ্চের পাখা

# চলমান বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমনের বীজতলার জন্য দ্রুত বিকল্প বীজতলা তৈরির নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এ সময়ে কর্মকর্তাদের অত্যন্ত তৎপর ও সক্রিয় থাকতে হবে। বন্যার কারণে এ সময়ের কৃষি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

# এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। পর্যাপ্ত বীজ মজুদ রয়েছে। এসব বীজ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে দ্রুত নতুন বীজতলা তৈরি করতে হবে।

# সভায় কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেশকিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। সেগুলো হলো- অধিক ক্ষতিগ্রস্ত জেলাসমূহে কৃষকের জমিতে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার কমিউনিটি ভিত্তিক রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

# প্রায় ৭০ লাখ টাকার ভাসমান বেডে রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন করা হবে। ৫৪ লাখ টাকার মাধ্যমে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টরের মাধ্যমে রোপণের জন্য ট্রেতে নাবী জাতের আমন ধানের চারা উৎপাদন ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমন চাষ সম্ভব না হলে ৫০ হাজার কৃষকের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার মাষ কলাই বীজ ও সার দেয়া হবে।