তীব্র শীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে সংবাদকর্মীদের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১০:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮
তীব্র শীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে সংবাদকর্মীদের

ঘড়ির কাঁটা সকাল পৌনে ৮টা। ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আহসান হাবীব অপু লাইভ করার জন্য মাথায় টুপি আর জ্যাকেট পরে দাঁড়িয়েছেন রাস্তায়। শরীরের কাঁপুনি কোনভাবেই যেন থামাতে পারছেন না। অনেকটা দাঁতে দাঁতে বাড়ি খাওয়ার উপক্রম। চারদিক ঘিরে রয়েছে কুয়াশায়, আর সঙ্গে রয়েছে বাতাস। এমন হাড়কাঁপানি ঠান্ডাতে সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়েছেন লাইভ করার জন্য। সাথে ক্যামেরাপার্সন জাফর ইকবাল লিটনও এসেছেন অফিসে।

মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন মোহম্মদ রুবেল সেই পাখিডাকা ভোরেই বের হয়েছেন মটোরসাইকেল নিয়ে। শহর মাড়িয়ে গেছেন পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। শীতের সঙ্গে সঙ্গে অন্য সংবাদের ফুটেজ সংগ্রহের জন্য।

সময় টেলিভিশনের রাজশাহী অফিসের স্টাফ রিপোর্টার হাসান রাজিবও মহানগরী ছেড়ে গিয়েছিলেন তানোর উপজেলার দিকে। দৈনিক কালেরকণ্ঠের ফটো সাংবাদিক সালাউদ্দিন কাঁয়াশাঢাকা সকালে শরীরে মোটা জ্যাকেট আর কানে মোটা টুপি পরেই মহানগরীর আনাচে কানাচে ছুটে বেড়ান শীতার্ত মানুষের ছবি তোলার জন্য।

 

গেল দু’দিনের শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে অন্য সময়ের তুলনায় কাজের ব্যস্ততাও বেড়েছে রাজশাহীর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের।

এই কনকনে শীতে অন্য কর্মজীবীরা যখন লেপমুড়ি দিয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছেন, তখন সারাদেশের মানুষের কাছে শীতের তীব্রতার খবর পৌঁছে দেবার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন।

কেউবা করছেন লাইভ, কেউবা করছেন প্যাকেজ, আবার হাসপাতাল, প্রশাসন, কৃষিবিভাগের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিপীড়িত মানুষের সাথে কথা বলে তৈরী করছেন খবর।

রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের কষ্টের কথা সকলের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য এই তীব্র শীতও গায়ে মাখাচ্ছেন না তারা।

গত দুদিন ধরেই রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কমছে দিনরাতের তাপমাত্রাও।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই তাপমাত্রা কমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। শনিবার দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ডিগ্রি। সেখানে রোববার তা আরও নিচে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩ডিগ্রি।

সংবাদকর্মীরা বলছেন, প্রতিবছর রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা থাকে। তবে গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবার জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই যেমনভাবে তাপমাত্রা কমেছে, তেমন বেড়েছে হাঁড়কাঁপানো শীত।

এই শীতে সবচেয়ে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। তাদের কথায় সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্যই পাখিডাকা ভোরেই লেপমুড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন বিভিন্ন এলাকায়।

ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান আহসান হাবীব অপু বলেন, রোববার সকাল ৮টা ও ৯টায় শীত নিয়ে লাইভ করেছেন। বাড়ি থেকে বের হবার সময় শীতল বাতাসে যেনো হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।

মহানগরীর রেলগেটে দাঁড়িয়ে যখন লাইভ দিচ্ছিলেন তখনও চারদিক ঢাকা ছিল কুয়াশায়। রাস্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ ও দূরপাল্লার কর্মজীবীদের ছাড়া তেমন কাউকে দেখা যায়নি। এরপরেও শীতের তীব্রতায় মানুষের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন।

সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হাসান রাজিব জানান, শনিবার তিনি মহানগরীর রেলগেটে সকাল শীত নিয়ে লাইভ করেছেন। তিনিও দেখেন এই তীব্র শীতে মানুষ কিভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। কয়েকজনের সাথে কথাও বলে জেনেছেন পেটের তাগিদে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন কাজের সন্ধানে। আর এই শীতে রোববার গিয়েছিলেন জেলার তানোর উপজেলায়। কুঁয়াশায় ঢেকে থাকার জন্য ৪০মিনিটের রাস্তা যেতে সময় এক ঘণ্টার উপর। তীব্র শীতের কারণে কোনভাবেই মটোরসাইকেলের গতি বাড়াতে পারছিলেন না। কিন্ত তারপরেও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সুখ দুঃখের কথা সকলকে জানানোর জন্যই ছুটেছেন তিনি।

সূত্র: পরিবর্তন