রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:০২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে

ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫ আয়োজনে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী ফ্রান্স। দেশটির বিশেষ দূত ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ড. প্যাসকেল ল্যামি। ভোট চাইতে ঢাকায় আসা প্যারিসের ওই প্রতিনিধি দু’দিনের সফরের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে ওই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সফরের দ্বিতীয় ও শেষদিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আর প্রথম দিনে সিপিডি আয়োজিত পাবলিক লেকচারে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫ ও ফ্রান্সের ভিশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের ওই আয়োজনে বাংলাদেশের ভোট চাওয়া ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ মানবিক এ সংকট মোকাবিলায় ফ্রান্সের সমর্থন ও সহযোগিতার বিষয়টি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে যে সব উদ্যোগ নিয়েছে তা ঠিক আছে। তবে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আরো বৈশ্বিকভাবে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে। এ সংকটের রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। যা রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়েই আসবে। ভোট চাইতে বিশ্বের দেশে দেশে যাওয়া ওই ব্যক্তিত্বের ঢাকা সফরের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- যেখানে যুদ্ধবন্ধু রাশিয়া ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেখানে ফ্রান্সকে কোন বিবেচনায় বাংলাদেশ সমর্থন দেবে বলে তিনি আশা করেন। জবাবে ল্যামি বলেন, অন্যদের বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়। তবে এটি বলতে পারি ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ পরস্পরের ভালো বন্ধু। দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গতিশীল (বাইব্রেন্ট)। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ ফ্রান্সকেই বেছে নেবে বলে আমি মনে করি। ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথভাবে পরিচালিত দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ড. ল্যামি বলেন, বাংলাদেশ কাকে ভোট দেবে এটি একান্তই দেশটির সিদ্ধান্ত। তবে আমি মনে করি ভোটের বিবেচনায় ঢাকা-প্যারিস ‘কারিগরি, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক’ সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচিত হবে। তার মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে বাংলাদেশের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং সেখানে ফ্রান্সের যে অবস্থান সেটিও ভোটের ক্ষেত্রে ঢাকা বিবেচনায় রাখবে। একই সঙ্গে কারিগরিসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশকে দেয়া সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজনকে সামনে রেখে কারিগরি এবং পরিবেশগত স্থিতিশীলতায় ৫ বছর মেয়াদি যে প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে তার সুফল ফ্রান্স ও বাংলাদেশ উভয়ে পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ভোট চাইলেন ল্যামি: এদিকে ফ্রান্স সরকারের পরামর্শক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)’র সাবেক মহাপরিচালক ড. প্যাসকেল ল্যামি গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্যাসকেল ল্যামি প্রধানমন্ত্রীকে জানান তার দেশ ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫ আয়োজনে আগ্রহী। তিনি এই ব্যাপারে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। ইভেন্টটি আয়োজনে আগ্রহী অন্যান্য দেশ হলো- জাপান, রাশিয়া ও আজারবাইজান। তিনি বলেন, ল্যামি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ফ্রান্স ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫ এর থিম ঠিক করেছে ‘ভাগাভাগির জন্য জ্ঞান, পরিচর্যার জন্য বিশ্ব’। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দূতকে বলেছেন, বাংলাদেশ ফরাসি অনুরোধ বিবেচনা করবে। বৈঠকে প্যাসকেল ল্যামি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। শেখ হাসিনা গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশটি এখন নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে এই ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্র বিজ্ঞান কোর্স চালু করেছে। শেখ হাসিনা তার সামপ্রতিক ফ্রান্স সফরের কথা স্মরণ করে একজন তরুণ এবং উদ্যমী নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মার্চে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে ডেভেলপিং কান্ট্রিতে উন্নীত হচ্ছে- বাণিজ্যমন্ত্রী: এদিকে বাংলাদেশ চলতি ২০১৮ সালের মার্চে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভেলপিং) দেশে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ডব্লিউটিও-এর সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামির সঙ্গে রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময় শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। বলেন, ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিতে পরিণত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তা বাংলাদেশ প্রায় অর্জন করেছে। প্রথমত, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত, মানব সম্পদের উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তৃতীয়ত, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ ভাগ হতে হবে, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে তা ২৬ ভাগ অর্জন করেছে।’ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের ইকোনমিক ও সোস্যাল কাউন্সিল উল্লিখিত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে কোন দেশকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভেলপিং) দেশে পরিণত হওয়ার ঘোষণা দেয়। আগামী মার্চ মাসে এ কাউন্সিলের মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল (ডেভেলপিং) দেশ হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি আলোচিত হবে। আশা করা যায়, এরই মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় বিবেচ্য বিষয়টি সফলভাবে অর্জন করবে এবং কাউন্সিল বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ঘোষণা করবে। এ ঘোষণা কার্যকর হতে প্রস্তুতির সময় থাকবে। আশা করা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালে বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।’ তোফায়েল আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এভরিথিংস বাট আর্মস-এর আওতায় জিএসপি সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরও বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রদান করা হবে। এজন্য মন্ত্রী ডব্লিউটিও-এর সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামির সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বেশি পণ্য রপ্তানি করছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অধীন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন আয়োজিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি নেত্রী কয়েকদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপিকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যাবে না। দেশের সংবিধান মোতাবেক আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী এবং অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি-২) তপন কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। মানবজমিন