ঝালকাঠিতে কুরবানির হাট নিয়ে উত্তেজনা, বিসিক মাঠে স্থানান্তরের দাবি সচেতন মহলের

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:০৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঝালকাঠি শহরের পৌর এলাকার ৩নং কৃষ্ণকাঠি ওয়ার্ডের গুরুদাম ব্রিজের পূর্ব ঢালে সর্ববৃহৎ অস্থায়ী হাট বসে। চলমান করোনা পরিস্থিতে একদিকে ওই স্থানে কুরবানি পশুর হাট না বসনোর জন্য এলাকার একটি পক্ষ জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়র বরাবরে আবেদন করেন। অপরদিকে আরেকপক্ষ কোরবানি পশুর হাট প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও একই স্থানে পরিচালনার জন্য পৌর মেয়রের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
জানাগেছে, এবছর করোনা মহামারির কারণে এখানে হাট না বসানোর দাবিতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন মিঠুসহ স্থানীয় ৬জনের স্বাক্ষরিত জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হয়। জামাল হোসেন মিঠু জানান, অনেক বছর যাবত ইদুল আজহা উপলক্ষে ঝালকাঠি শহরের গুরুদাম এলাকায় কুরবানী পশুর হাট বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু ব্যবসায়ীরা আসেন এখানে কোরবানির পশু বিক্রি করতে এবং ঝালকাঠি ও পার্শ্ববতি জেলার লোকজনও আসেন এখানে কোরবানির পশু কিনতে। কয়েকহাজার লোকের সমাগমে জমজমাট হয় কোরবানির পশুরহাট। এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় কিছু বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান হয় এখানে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে। কিন্তু এবছরের (২০২০ সালের) প্রেক্ষাপট সম্পুর্ণ ভিন্ন। ঝালকাঠিতে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ রোগীর সংখ্যা। কোরবানির হাট বসলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী ও আন্তঃজেলা ক্রেতাগণের সমাগমে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে। স্থানীয়রা পড়বে চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় কুরবানির পশুরহাট না বসানোর জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আবেদন করা হয়েছে।
অপরদিকে হাট বসানোর জন্য রোববার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় জনসাধারনের সাথে মতবিনিময় বৈঠক করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর দুলাল হাওলাদার। জেলা প্রশাসন থেকে অতিদ্রæত অনুমতি নিয়ে বহু বছরের হাট বসানোর ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনি এ মত বিনিময় করেন। এতে জেলা যুবলীগ নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার ইয়াদ মোর্শেদ প্রিন্স, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি রিপন মল্লিকসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
রিপন মল্লিক জানান, অনেক বছর যাবত ইদুল আজহা উপলক্ষে ঝালকাঠি শহরের গুরুদাম এলাকায় কুরবানী পশুর হাট বসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশু ব্যবসায়ীরা আসেন এখানে কোরবানির পশু বিক্রি করতে এবং ঝালকাঠি ও পার্শ্ববতি জেলার লোকজনও আসেন এখানে কোরবানির পশু কিনতে। কয়েকহাজার লোকের সমাগমে জমজমাট হয় কোরবানির পশুর হাট। এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় কিছু বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান হয় এখানে ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে। এতে এলাকার সর্বসাধারণের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়ে থাকে।
তিনি আরো জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও পৌরসভার মেয়রের কাছে হাটের অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদন বিবেচনা করে পৌর মেয়র জেলা প্রশাসক বরাবরে ফরোয়ার্ডিং করেছেন। অতি শিঘ্রই অনুমতি পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে হাট পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বিতর্কিত হবার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার গুরুদাম ব্রিজের পূর্বঢালে গণবসতি এলাকা। এখানে এই করোনা দূর্যোগ মুহুর্তে কোরবানির পশুর হাট বসালে কয়েকগুণে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাবে। কারণ এখানে কোরবানির হাট বসলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী ও আন্তঃজেলা ক্রেতাগণের সমাগমে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে। স্থানীয়রা পড়বে চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় কুরবানির পশুরহাট না বসানোর জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। সে ক্ষেত্রে ঝালকাঠির শিল্পনগরী (বিসিক) মাঠকে অস্থায়ীভাবে কুরবানির পশুরহাট বসানোর জন্য মতামত প্রকাশ করেন তারা।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহমেদ হাসান জানান, শহরের মধ্যে, আবাসিক এলাকায় এবং সড়কের উপরে কুরবানি পশুর হাট বসানোর কোন অনুমোদন দেয়া হবে না। শহরতলীর নির্জন ও পরিত্যক্ত খোলা মাঠে এ হাট বসানোর অনুমতি দেয়া নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়।