তিন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২৩:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০১৮
তিন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট : রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কর্মকর্তা ও ক্যাশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রুলসহ এ আদেশ দেন। তবে ১২ জানুয়ারি অন্য পাঁচ ব্যাংকের পরীক্ষা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রাশিদুল হক খোকন; সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিম আল ইসলাম ও মির্জা সুলতান আল রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। খবর বণিক বার্তা’র।

সূত্রমতে, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ক্যাশ কর্মকর্তার ৭০১টি শূন্য পদে ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ওই বছরের ২৬ জুলাই রূপালী ব্যাংকে ৪২৩টি শূন্য পদে সিনিয়র অফিসার ও ৩ আগস্ট জনতা ব্যাংকের ৭৩৬টি শূন্য পদে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। কিন্তু সেসব পদে নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়ে গত বছরের ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কর্মকর্তার (সাধারণ) ১ হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদের জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এরপর ২৯ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৩টি কর্মকর্তা (সাধারণ) পদের জন্য আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

সর্বশেষ গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ২৪৬টি কর্মকর্তা (ক্যাশ) পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়োগ পরীক্ষার জন্য তারিখ রাখা হয় ১২ জানুয়ারি। কিন্তু ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির পর আবেদন করা প্রার্থীদের পরীক্ষা না নিয়ে ২০১৭ সালে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ায় বগুড়ার আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আবু বকরসহ ২৮ জন হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন। সেখানে ২০১৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার সার্কুলার বাতিল চাওয়া হয়।

রিটকারীদের আইনজীবী রাশিদুল হক খোকন বলেন, গত বছরের তিনটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় সোনালী, রূপালী ও জনতা ব্যাংকের যে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়ে আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এছাড়া আদালত ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তির নিয়োগ পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ২০১৭ সালের বিজ্ঞপ্তির আওতায় পরীক্ষা নেয়ার আগে ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির আওতায় নিয়োগ পরীক্ষা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ সচিব, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বণিক বার্তার প্রতিবেদনে জানা যায়, একসঙ্গে আটটি সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘সিনিয়র অফিসারের (সাধারণ)’ ১ হাজার ৬৬৩টি শূন্য পদে নিয়োগের পরীক্ষা ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে ওই পরীক্ষার আসনবিন্যাসও দেয়া হয়েছে। প্রার্থীদের ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে ৫২৭টি, জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ১৬১টি, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে ২৮৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৩৯টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৩৫১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ২৩১টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনে ১টি ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) ৭০টি পদ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন খান বলেন, আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় জনতা, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে অন্যান্য ব্যাংকের পরীক্ষা হবে। যে তিনটি ব্যাংকের পরীক্ষার বিষয়ে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, সে তিনটি ব্যাংকের পরীক্ষা পরে নেয়া হবে। অন্য পাঁচটি ব্যাংকের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের সময়.কম