ঝালকাঠিতে পিসিআর ল্যাব’র দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০ | আপডেট: ৭:৫৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

১৯ মার্চ থেকে ৮জুলাই পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৮৯ জন। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালের মাধ্যমে নমুনা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। রিপোর্ট আসতে প্রায় ১ সপ্তাহ সময় লাগে। এরমধ্যে করোনার উপসর্গ থাকা ব্যক্তি সামাজিক হেনস্থার স্বীকার হন। এড়িয়ে চলেন আত্মীয়-স্বজন ও পড়া-প্রতিবেশী। কোনঠাসা হয়ে পড়েন নিজ পরিবারেও। এলাকায়ও জানাজানি হয়ে যায় কার করোনা হয়েছে। পরে দেখা যায় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ওই ব্যক্তির রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। কারণ সর্দি, হাচি ও কাশি ছিলো তার স্বাভাবিক ঠান্ডা জনিত সমস্যা । এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের জনগণ। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের আয়োজনে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দত্তের সভাপতিত্বে এতে বক্তৃতা করেন সদর উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান মইন তালুকদার, প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আক্কাস সিকদার, সাংবাদিক কেএম সবুজ, অলোক সাহা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ঝালকাঠির সাধারন সম্পাদক প্রশান্ত দাস হরি, সংগঠক সৈয়দা মাহফুজা মিস্টি, জাহাঙ্গির হোসেন, শাকিল হাওলাদার রনি, তাসিন মৃধা অনিক, আব্দুল্লাহ বিন আলম প্রিতম প্রমুখ। এ সময় বক্তারা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবলসহ দ্রুত পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
অপরদিকে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানাগেছে, ঝালকাঠি জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ২৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় ১২৫ জন সুস্থ হয়েছে এবং ১০ জন মৃত্যু বরণ করেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৮ জন, নলছিটিতে ৯ জন, রাজাপুরে ৭ জন ও কাঠালিয়ায় ২ জন।
ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলার এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সদর উপজেলায় ৯২ জন, নলছিটি উপজেলায় ৯০ জন, রাজাপুর উপজেলায় ৭১ জন ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় ৩৬ জন । জেলায় এ পর্যন্ত ১৮১৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৬১৬ জনের রিপোর্টে ২৬৩ জনের পজেটিভ ও ১৩৫৩ জনের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে । জেলায় এ পর্যন্ত ১৩৬৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন । তাদের মধ্যে ১৩২৮জন ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩৭ জন।