ফুলবাড়ী পৌর বাজারের টিনসেট গুলোর বেহালদশা চরম ভোগান্তীতে ক্রেতা-বিক্রেতা

এন.আই.মিলন এন.আই.মিলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০ | আপডেট: ২:৪৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০

মেহেদী হাসান উজ্জল, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি- দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর বাজারের টিনসেটের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংষ্কার না হওয়ায়, ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

ব্যাবসায়ীরা বলছেন, বার বার পৌর কতৃপক্ষকে জানালেও ঘরগুলো সংষ্কারের কোন উদ্যোগ নেইনি। ঘরগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত হলেও দখল করে আছে আড়তদারেরা।

জানা গেছে,পৌর বাজারের ঘরগুলি নির্মাণ করা হয়েছিল হাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৮৮সালে। এরপর ঐ ঘরগুলোর আর কোন প্রকার মেরামত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন সংষ্কার না করায় অনেক ঘরের টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে,সিমেন্টের পিলার গুলো ভেঙ্গে গেছে,সেটের কাঠ গুলো পানিতে পচে ভেঙ্গে পড়ছে।

বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ঘরগুলো খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মাণ করা হলেও এখন সেগুলো আড়ৎদারেরা ব্যবহার করছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পৌরবাজারের খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মিত টিনসেটের সরকারী ঘরগুলো এখন মাছের আড়তদারেরা ব্যবহার করছে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বসিয়েছে যাতায়াতের রাস্তার উপর। এর পাশের টিনসেটের সরকারী ঘরগুলো ব্যবহার করছে ছাগলের মাংস বিক্রেতা ও মুরগী ব্যবসায়ীরা।

খানিকটা এগিয়ে গেলে দেখা যায়, আর একটি টিনসেট, ওই সেটের ঘরের নিচে কোন খুচরা দোকানদার নেই। দু’টি চা ষ্টল ও একটি জিলাপির দোকান রয়েছে। চা ষ্টল ও জিলাপির দোকানের চুলার ধোয়ায় ঘরের টিনের ছাউনী নষ্ট হয়ে গেছে।

এখন ঘরের নিচ থেকে আকাশ দেখা যায়। আরো একটু সামনে ফুলবাড়ী পৌর বাজারের প্রধান দুটি টিনসেটের সরকারী ঘর নির্মান করা হয়েছিলো। যাতে করে ক্রেতারা নির্বিঘেœ চাহিদামত বাজার করতে পারেন। কিন্তু ওই ঘরগুলোর একাংশ খুচরা চাউল ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করলেও বাকী অপরাংশের বিশাল এলাকা জুড়ে ব্যবহার করছে কাচা বাজারের আড়তদার, মুদি দোকান, পানের আড়ত।

টিনসেটের সরকারী ঘরগুলোর আড়ৎ দারেররা দখল করে রাখায় খুচরা ব্যাবসায়ীরা রাস্তার উপর দোকান দেওয়ায়,ওই পথে পানি জমে কাদা হওয়ায়, লোকজন যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। টিনসেটের ভেতরের অধিকাংশ জায়গা আড়তদারদের দখলে থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা বাজারের মেইন রোডে বসে দোকানদারী করছে।

এতে পথচারীসহ ক্রেতাদের যাতায়াত করতে চরম অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। মুরগী ব্যবসায়ী আছির, সামিউল, গোলাফ্ফর বলেন, তারা প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স এর টাকা এবং হাটবাজারের জমা দিয়ে নিয়মিত ব্যাবসা করে আসছেন এর পরেও সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

সেট গুলো টিন মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে বর্ষার সময় বৃষ্টিতে ভিজে বেচাকেনা করতে হয়,ক্রেতারাও অনেক সমস্যায় পড়েন এতকরে চরম ভোগান্তির সিকার হতে হয় তাদের।

ব্যাবসায়ীরা বলেন বার বার মেয়রসহ পৌর কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা এখনো পর্যন্ত কোনা সুরাহা কনেনি। খাসির মাংস ব্যাবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, অনেক বার মেয়র সাহেবকে বিষটি জানালেও তিনি কোনো ব্যাবস্থানেইনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র মুরর্তুজা সরকার মানিক বলেন,ঘরগুলি মেরামত করা একান্ত প্রয়োজন, কিন্তু অর্থের অভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে, বরাদ্দ এলেই কাজ করা হবে।