অশ্লীলতা বলতে আমরা কি বুঝি….

এ আল মামুন এ আল মামুন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৫:৪৫:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

শহিদ রায়হানঃ শ্লীলতা অশ্লীলতা অনেকটাই ব্যক্তি-নির্ভর। একজনের কাছে যা শ্লীল, আরেকজনের কাছে তা নাও হতে পারে।

কামপ্রবৃত্তিকে আকৃষ্ট করে, অথবা যার ফল, যদি সামগ্রিক ভাবে বিচার করা যায়, মানুষের বা সমাজের মনকে কলুষিত (deprave) ও নৈতিক ভাবে অধঃপাতিত (corrupt) করতে পারে – সেটি হবে অশ্লীলতা, যা দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাংলা একাডেমির অভিধান থেকে অশ্লীলতার সংজ্ঞায় বলা হয়, কুৎসিত, জঘন্য। কুরুচিপূর্ণ কোন কিছু।
সাধারণ ভাবে বলা যায়, যা মনকে দূষিত করে তা অশ্লীল। বিতর্কিত পুস্তক,চলচ্চিত্র বা যে কোনো ভাবে দৃশ্যায়নের প্রকাশ যাদের হাতে পড়ার কথা তারা যদি এমন বয়সের বা অবস্থায় হয় যে, তাদের মন উত্তেজনাকর কোন কিছুর প্রভাবে হঠাৎ আকৃষ্ট হয় এবং উক্ত পুস্তক,চলচ্চিত্র বা যে কোনো ভাবে দৃশ্যায়নের মধ্যে যদি এমন কিছু থাকে যা উক্ত মনগুলিকে নিচের দিকে টানে বা দূষিত, কলুষিত ও প্ররোচিত করে তোলে, তবে তা অশ্লীল বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের আইন অনুষারে ‘ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লিল বা নোংড়া কোন কিছু প্রকাশ বা সংযুক্তি করলে, যার মাধ্যমে কোন ধর্মীয় অনুভুতি ও সমাজে আঘাত করে বা কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের ঝোঁক পাকায় বা দুর্নীতির স্বীকার হয় সেই প্রকাশনি দেখানো, শোনানো বা পড়ানোর মাধ্যমে যা অপরাধ বলে গণ্য হবে।”
যার সবোর্চ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদন্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা।

-আইসিটি আইন,২০০৬ ধারা৫৭(১,২)অনুযায়ী।
স্থানকাল পাত্র ভেদে শ্লীল-অশ্লীল তারতম্য হয়। তারতম্য বা শ্রেণীভাগ যা-ই থাক অশ্লীলতার সামাজিক ক্ষতি নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই।
অশ্লীলতা বলতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বাণিজ্যিক উদ্দেশে তৈরি অশ্লীল সংলাপ, প্রকাশনা, নৃত্য, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন চলচ্চিত্র বা ভিডিওচিত্র বা স্থিরচিত্রকে চিহ্নিত করেছেন। সেই অনুযায়ী পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১১ করা হয়েছে।

যে হেতু আমরা বাংলাদেশের নাগরিক সেই হেতু আমাদের সংবিধানে সন্নিবেশিত আইন, আইনের ব্যাখ্যাই এই ভূখন্ডে অবশ্যই প্রতিপাল্য সংগা। যারা এটা মানবেন না তারা সামাজিক দৃষ্টি ও আইনের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধী।
সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধ, অশ্লীলতা প্রতিরোধ ও নৈতিক শিক্ষা পারে এই ধরনের সামাজিক অপরাধ তথা অন্যায় থেকে দুরে রাখতে। কারণ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তরুণ ও শিশুরা।