দিনাজপুরের ইটুয়া গ্রামবাসী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক নীতির কারণে ৪৫ বছর পর পুজার অধিকার ফিরে পেলো- এমপি গোপাল

এন.আই.মিলন এন.আই.মিলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০ | আপডেট: ৮:৪৭:অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

এন.আই.মিলন, দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ইটুয়া গ্রামবাসী দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বন্ধ থাকার পর পুনরায় ‘শ্রীশ্রী কালি মাতা ঠাকুরানী মন্দিরে’ পুজা অর্চনা করার সুযোগ পেল। আর নতুন করে পুজা-অর্চনা শুরু করতে পেরে আনন্দিত স্থানীয়রা।

৬ জুন ২০২০ শনিবার বিকেলে প্রাণঘাতী করোনার ক্রান্তিকালে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের ইটুয়া গ্রামে ‘শ্রীশ্রী কালি মাতা ঠাকুরানী মন্দিরে’ নতুন করে পুজা অর্চনার উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

মন্দিরের পুজারি সুব্রত মুখার্জী পালু চক্রবর্তী জানান, মন্দির উদ্বোধনের পর প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে দেশ ও বিশ্ববাসীর মুক্তি লাভের আশায় ঈশ্বরে কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

স্থানীয়রা বিষ্ণু চন্দ্র রায়, ধনঞ্জয় চন্দ্র রায়, নিতাই চন্দ্র রায় জানান, ১১ একর ৫৬ শতক দেবোত্তর সম্পত্তির উপর নির্মিত এই মন্দিরে ব্রিটিশ আমল থেকে পুজা করে আসছিল গ্রামবাসী। কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটি স্বার্থান্বেসী মহল মন্দির উচ্ছেদ করে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে নেয়। পরবর্তীতে হিন্দু জনসাধারণা অনেকবার পুজা করতে গেলে তাদের ভয়ভিতি প্রদর্শন করে সেখান থেকে তাদের বার বার বিতারিত করা হয়। দীর্ঘ ৪৫ বছর পরে এলাকার অসাম্প্রদায়িক সকল ধর্মের মানুষদের সমন্বয়ে এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের সর্বত্মক প্রচেষ্টায় ও সহযোগিতায় পুনরায় আজ ইটুয়া কালি মন্দিরে পুজা অনুষ্ঠিত হলো। এই পুজায় হিন্দুু অঞ্জলি দিল, পুজাকে কেন্দ্র করে যে উৎসব সেই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সকল মানুষ।

মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বলেন, ৪৫ বছর পর এলাকার ভক্তবৃন্দের তাদের পুজা করবার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ নীতির কারণে। এলাকা বাসীর সাথে তাদের এই উদ্যোগে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরে আমি আনন্দিত। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আবসার পর এক শ্রেনীর মানুষ বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করে দেবোত্তর, পিরোত্তর সম্পত্তি দখলের তান্ডবে মেতে উঠেছিল।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি বর্ণের ঐতিহ্য, কৃষ্টি বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রীয় ভাবে সংবিধানে এই অধিকার পুন প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমি এমপি হওয়ার পরে ব্যক্তিগত ভাবে চেষ্টা করেছি শুধু আমার নির্বাচনী এলাকায় নয়, সমগ্র বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতন বন্ধ করে এদেশকে সহ অবস্থানে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলবার । যার নির্দেশনা জননেত্রী শেখ হাসিনার। যে পুজা আজ শুরু হলো তা প্রতি বছর যথা সময়ে এলাকার সকল মানুষের সমন্বয়ে উদযাপিত হতে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি সুনিল চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক রতন সিং, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কমিটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার, কাহারোল পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রায়, বীরগঞ্জ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মহেশ চন্দ্র চন্দ্র রায়, সাধারন সম্পাদক গোপাল দেব শর্মা, ৫ নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিদুল ইসলাম প্রমুখ।