জেলা প্রশাসকের কাছে বাবুগঞ্জের সন্ধ্যা নদীতে বালু মহল ইজারা বন্ধের দাবি

আরিফ হোসেন আরিফ হোসেন

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০ | আপডেট: ৬:৪০:অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

অারিফ হোসেন:
নদী ভাঙ্গনের কবল হতে রক্ষা পেতে ‘বালুমহল’ ইজারা বন্ধের দাবীতে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে বাবুগঞ্জবাসী।
আবেদন সূত্রে জানাযায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার মোল্লার হাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী হতে বালু উত্তোলন করছে একটি মহল। সরকারী ইজারায় তারা বালু উত্তোলনের কারনে পার্শ্ববর্তী এলাকায় নদী ভাঙ্গন প্রবল আকার ধারণ করছে। ইজারার নামে কিছু টাকা সরকারী খাতে জমা দিয়ে পুকুর চুরি করছে বালু ব্যবসায়ীরা। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নদী তীরবর্তী মানুষ, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।
এই নদী ভাঙ্গনের কবল হতে রক্ষা পেতেই এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এলাকাবাসী জানায় নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক সরজমিন পরিদর্শন পূর্বক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এলাকাবাসী জানায়, আমাদের ত্রাণের দরকার নেই। নদী ভাঙ্গন রোধ করতে চাই। এ এলাকা হতে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেই নদী ভাঙ্গন বন্ধ হবে। রক্ষা পাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি যাদুঘর রাস্তাঘাট সহ সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান।
বরিশালে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি যাদুঘর এবং তার বাড়ির পাশের সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলন
বন্ধের দাবীতে ২০১৯ সালের মে মাসে আদালতে রিট দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পশ্চিম ভুতেরদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের মাল।
রুলে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি যাদুঘর, বাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য স্থাপনা রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এছাড়াও সন্ধ্যা নদী থেকে বালু উত্তোলনে ইজারা দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের ইজারা না দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছিলেন আদালত।
একইসঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের স্মৃতি যাদুঘর, বাড়ি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কাছে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলামের করা আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য,
বর্ষা মৌসুমের আগেই সন্ধ্যা,সুগন্ধা নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পরেছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, হাট-বাজার, সড়ক, আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে সরকারী-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা, ঘরবাড়ি ও বাজার।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শফিউদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে নিশ্চিহ্ন মীরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, মোল্লার হাট,চরসাধুকাঠী, রাকুদিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের ঈদ কেটেছে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যদিয়ে। সন্দা,সুগন্ধা, ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় ভিটে-মাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মাঝে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সূত্রমতে, দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় ধরে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রসহ বহু স্থাপনা।