সাইক্লোন আম্পানঃ উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু সুবিচারের দাবি তরুণদের

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০ | আপডেট: ৩:৩৬:অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

সুপার সাইক্লোন আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা ও উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচি পালন করেছে সাতক্ষীরা তরুণরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সুইডিস কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গের নেতৃত্বাধীন ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলনে অংশ নিয়ে তরুণ জলবায়ু কর্মীরা এই দাবি জানান।

শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ছোট চন্ডিপুর বাঁধে একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস আয়োজিত তরুণদের এই ক্লাইমেট স্ট্রাইকে গণ-অংশীদারিত্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, আম্পানের ক্ষয়-ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য মানব-মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে অনতিবিলম্বে পুনর্বাসন এবং করোনা মহামারিকে মাথায় রেখে এখন থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানান আন্দোলনকারীরা। এতে ২শত তরুণ-তরুণী প্লাকার্ড হাতে নিয়ে জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে স্লোগান দেয়।

ইয়ুথনেটের সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক এসএম শাহিন আলম বলেন, জলবায়ু সংকট আমাদের উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকায় খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। করোনা মহামারির মধ্যে জলবায়ু সংকট আমাদের জীবন বিশেষ করে বিশ্ব হেরিটেজের খ্যাতি পাওয়া সুন্দরবন লাগোয়া উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’- হিসেবে জেঁকে বসেছে। যার বড় প্রমাণ হচ্ছে সদ্য আঘাতহানা সুপার সাইক্লোন আম্পান। একদিকে করোনায় বহুদিনের কর্মহীনতা আবার অন্যদিকে আম্পানে স্বজনহারা, ঘরহারা, ফসলহারা এই সব মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এড. এস এম আতাউর রহমান, ইউপি সদস্য এসএম সাইফুল্লাহ, মুহতারাম বিল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ মুকুল প্রমুখ।

অন্যদিকে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও সুপেয় পানির দাবিতে সকাল দশটায় কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আর একটি ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত হয়। একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই স্ট্রাইকের আয়োজন করে বিন্দু নারী উন্নয়নন সংগঠন ও ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস। স্ট্রাইকে তৃণ্মুল নারী ও জলবায়ু কর্মী্বা নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য সার্কেল করে এবং সকল নিয়ম মেনে তারা দিবসটি পালন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সুকুমার দাস বাচ্চু,আহমাদুল্লাহ বাচ্চু, শাওন আহমেদ, বিন্দুর নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া,জালাল উদ্দীন,শামসুর রহমান সহ আরো অনেকে। বক্তারা জাতীয় বাজেটে জলবায়ু সংকট কবলিত এলাকার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তোলেন।

ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সোহানুর রহমান বলেন, করোনা মহামারীতে জলবায়ু সংকট থেমে নেই। বিপদাপন্ন মানুষের জন্য জলবায়ু ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে এখনই! জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়সহ আন্তর্জাতিক নদীর পানি বিনিময়ে একসাথে কাজ করতে হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সার্ককে সক্রিয় করা যেতে পারে। করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে মানুষের জন্য নেয়া সরকারের প্রণোদনার ধরন ও বাস্তবায়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন, রিলিফ বণ্টন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নেয়া নীতি নিয়ে যে প্রশ্ন সমূহ সামনে এসেছে এখন আরও অধিকতর সংকটে সেগুলো নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। এই মহা দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারী কার্যক্রমে শুধু স্বচ্ছতাই নয় বরং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরী বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিশ্ব গণমাধ্যমের মতে, গ্রেটার ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্দোলন। বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও সচেষ্ট হয়েছে আন্দোলনটি।বাংলাদেশে এই আন্দোলনের দাবির মুখে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বিশ্বে প্রথমবারের মত প্লানেটরি ইমার্জেন্সি প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ।